somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেলুন বিক্রি করা শিশুর টাকাও সবটা নেতাদের পেটে!

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেলুন বিক্রি করে এমন একটা ছেলে ফুটপাথে বসে কানতেছে। বয়স হবে আট কি দশ। উত্তরায় জমজম টাওয়ারের একটু দূরে যে বাংলাদেশ আই হসপিটাল আছে, এর সামনে। চোখের ডাক্তার দেখিয়ে মাত্রই বের হয়েছিলাম। চোখে ডায়ালাইসিস করার জন্য কী একটা ড্রপ দিয়েছে, চোখে ভালোমত দেখতেছিও না। কিন্তু রয়ে রয়ে কান্নাটা কলিজায় গিয়ে ধাক্কা দিলো। ঘিরে থাকা দশ, বারো জন মানুষকে জিজ্ঞাসা করলাম
- কী হইছে ভাই?
একজন দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললেন
- এলাকার নেতাগুছের কয়েকজন ওরে মাইরা এগারোশো টাকা নিয়া গেছে।
পকেট থেকে একশোটা টাকা দিলাম, অন্যরাও দিলেন। মোট উঠলো তিনশো পচিশ টাকা। ছেলেটার এইদিকে কোন আগ্রহই নাই। আরো যা জানা গেলো, ছেলেটা থাকে আজমপুর। ঘরে সৎ মা। বাবা প্রচন্ড মাইর দেয়। ওর টাকায় বাসা ভাড়া দেওয়া হয়। টাকার হিসাব দিতে না পারলে ওরে মারবে, এই ভয়ে ও কানতেছে।

ঝাপসার মত করে দেখলাম, বাম হাতটা কিছুটা বাঁকায়ে কোলের উপরে রাখা। জিজ্ঞাসা করলাম
- তোমার হাতে কী হইছে?
কানতে কানতে কয়
- আব্বায় ঐদিন ফ্যানের লগে ঝুলায়া পিটাইছে, এরপর আর এই হাত আর লাড়তারিনা।
একজন বললো
- চলো, তোমারে বাসায় দিয়া তোমার আব্বারে বুঝায়ে আসি।
পোলার কান্না তবু কমে না। ঝরঝর করে চোখ দিয়ে পানি পড়তেছে। পাশের এক লোক বললো
- ভাই এই বয়সে ওর স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা। ওরে কামাইয়ে নামায়ে আবার যে ফ্যানের লগে ঝুলায়ে মারতে পারে, তারে কী বুঝাইবেন? পোলাটার দায়িত্ব'তো নিতে পারবো'না আমরা, ফাও আরো বিপদ বাড়াবো।

পাশ থেকে আরেকজন বললো
- বাবা'রে যা পাইছোস, তা নিয়াই বরং বাড়ী যা, আমি রিক্সা করে দিচ্ছি। ঐ নেতারা হয়ত আশেপাশেই আছে, এই টাকাটাও তোরে মাইরধইর কইরা নিয়া যাইবো।

ছেলেটা তুষের আগুনের মত রয়ে রয়ে জ্বলতে জ্বলতে কানতেই থাকলো। বেলুন বিক্রি করে নিজেই ইনকাম করছে ঠিকই, কিন্তু আশ্রয় বলতে এখনো সৎ মায়ের সংসারে ফ্যানে ঝুলায়ে পিটানো বাপ। নিজের আশ্রয় নিজে খোঁজার বয়স বা বুদ্ধি এখনো হয় নাই। আকাশে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট আছে, বিষয়টা ছেলেটা হয়ত জানে না। জানলে যদি রাষ্ট্রকে বিচার দিতো। নিশ্চয়ই ঐ নেতাদেরকে স্যাটেলাইটে খোঁজে বের করে ওর এগারোশো টাকা উদ্ধার করে দিতো। সোনার বাংলাদেশে সুশাষণ চলতেছে, আমরা বোকারাই শুধু তা পাবার সিস্টেমটা জানি না।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৭:৫২
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে কি ইনফ্লেশান শুরু হয়েছে?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:০৩



আমি দেশ থেকে দুরে আছি, দেশের কি অবস্হা, ইনফ্লেশান কি শুরু হয়েছে? কোভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধ মিলে ইউরোপ, আমেরিকাকে ভয়ংকর ইনফ্লেশানের মাঝে ঠেলে দিয়েছে; বাংলাদেশে ইহা এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছদ্মবেশী রম্য!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৩৪



আমার ফেসবুকে একটা নামমাত্র একাউন্ট আছে। সেখানে যাওয়া হয় না বলতে গেলে। তবে ইউটিউবে সময় পেলেই ঢু মারি, বিভিন্ন রকমের ভিডিও দেখি। ভিডিওগুলোর মন্তব্যে নজর বুলানো আমার একটা অভ্যাস। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

আমার ছোট বেলায় আমাদের এলাকায় ২/৩ জন লোক বয়সে প্রায় বৃদ্ধ, ঘোল-মাখন বিক্রি করতেন ফেরি করে। তাঁদের পরনে থাকত ময়লা ধুতি মালকোঁচা দেওয়া কিম্বা ময়লা সাদা লুংগী পড়া। খালি পা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাঠের আলোচনায় ব্লগারদের বই!

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৬

আমার আত্মজরা আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাঝে যে বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাঝেমাঝে হতাশা প্রকাশ করে! সেটা হচ্ছে আমার খুব অল্পে তুষ্ট হয়ে যাওয়া ( আলাদা ভাবে উল্লেখ করেছে অবশ্যই তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'সহবাসের জন্য আবেদন'...

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১০:১৯



রোকেয়া হলে আবাসিক ছাত্রী হিসেবে দীর্ঘ ৭বছর কেটেছে। হলের নানা গল্পের একটা আজ বলি। হলের প্রতিটি কক্ষে ৪টা বেড থাকলেও থাকতে হতো ৫জনকে। মানে রুমের সব থেকে জুনিয়র দুইজনকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×