somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাওয়া না পাওয়ার সমীকরন

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাস্তবতা এমন একটি শব্দ যারা এর সাথে পরিচিত বা এটাকে মেনে নিতে পারে তাদের জীবনে আবেগ নামক জিনিসটার খুব কমই বহিপ্রকাশ ঘটে ৷ নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে তারা এগিয়ে যায় জীবন যাত্রায় ৷

অনেকে বাস্তবতার চেয়ে নিজের আবেগ, অনুভূতি গুলোকেই প্রাধান্য দেয় ৷ সেক্ষেত্রে না পাওয়ার বা ব্যর্থতার কষ্টগুলো একটু বেশিই হয় ৷

বাস্তবিক লোকদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলক ভাবে অনেক কম ৷

তারা নিজেই নিজের ব্যর্থতার সলুশন খোজার চেষ্টা করে ৷ যেকেনো অভাবগুলোই সহজেই মেনে নেয়ার চেষ্টা করে এবং মেনে নেয় ৷

সেক্ষেত্রে অনুভূতিগুলো থাকে বন্দি ঘরের মাঝে আবদ্ধ ৷

অনুভূতিহীন মানুষ হয় না ৷

অনেকেই আমরা অন্যকে বলতে দেখি তোমার মনটা পাথরের মত, কোনো মায়া-দয়া নাই ৷

সেক্ষেত্রে কথা একটাই, যেকোনো কারনে অনুভূতি গুলো মলিন হয়ে গেছে অথবা আবদ্ধ হয়ে আছে কোনো কোনে ৷

এবার আসি পাওয়া না পাওয়ার সমীকরনে :

অনুভুতি এবং বাস্তবতার উর্ধে একটা জিনিস নিয়ে আমরা কমই ভাবি ৷

হয় কেউ আমরা প্রেম করে ব্যর্থ ৷ হয়তো রিলেশনটা অনেক সাকসেসফুল ছিলো দুই পক্ষেই ৷ যেকেনো কারনে সেই রিলেশনে যদি কোন প্রবলেমের সম্মখিন হয় বা রিলেশনটা নষ্ট হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে এতটা ফ্রাস্টেটেড হয় যা বলার উর্দ্ধে ৷

এমনকি নিজের জীবনের হুমকি মূলক অনেক কাজই করে ৷ শেষমেস হয়তো সৃষ্টিকর্তা দেয়া মূল্যবান জীবনটার প্রতিই অসম্মান করে ফেলে, ওপারে পারি জমায় ৷

নিজেকে এক্ষেত্রে একটু হলেও বাস্তবিক করে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করি ৷

জীবনটা আপনার, তা কাজে লাগানোর দায়িত্বটাও নিজের ৷

ব্যর্থতাগুলোই চিরন্তন না |

চেষ্টায় অর্জিত সাফল্য, ব্যর্থতার গ্লানিগুলো কে মুছে দেবেই একসময় |

পজিটিভ চিন্তা করুন, কি কারনে আপনি ব্যর্থ, খুজে বের করুন কারনগুলো ৷

"সেই সবচেয়ে বুদ্ধিমান যে নিজের দুর্বলতাগুলো, নিজের ব্যর্থতার কারনগুলো খুজে বের করতে পারে, বুঝতে পারে ৷"

নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুন, সেই সাথে অন্যকেও ৷

আপনার সব পসিিটভ চিন্তাভাবনা যদি কাজে নাইই লাগে, সেক্ষেত্রে সিচুয়েশনটাকে মেনে নেয়ার চেষ্টা করুন ৷

কোনো ব্যর্থতার ক্রোধ বা হিংসা কখনই লাইফে সুখ শান্তি আনতে পারে না ৷ হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য সাফল্য লাভ কার যায়, কিন্তু দিন শেষে নিজের কাছেই নিজেকে ছোটো হয়ে থাকতে হয় ৷

বিধাতা আমাদের অনেক কিছুই দিয়েছেন ৷

আমি মনে করি পৃথিবীর লাখো মানুষের চেয়ে আমি অনেক ভাগ্যবান ৷

কিছু বাস্তবিক উদাহরণ দেয়া যায় এক্ষেত্রে :

প্রতিদিন অনেক মানুষ দুর্ঘটনা মারা যাচ্ছে ৷ বিনা কারনে অনেকে তাদের জীবন হারাচ্ছে ৷যুদ্ধ, দাঙা-ফ্যসাদে অনেকেরই জীবনটা ধ্বংসই হয়ে যাচ্ছে ৷ অনেকে হয় মারা যাচ্ছে অথবা মৃতের মতই বেচে থাকছে ৷

সেদিক থেকে আমি অনেক ভাগ্যবান অবশ্যই ৷

অনেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতায় আছে ৷ অনেকেরিই অনেক শারীরিক প্রিবন্ধকতায আছে ৷ কেউ

হয়তো জীবনকেড়ে নেওয়া মারাত্বক ব্যধিতে আক্রান্ত ৷ সে ক্ষেত্রে তারাও যুদ্ধ করে যাচ্ছে বেচে থাকার জন্য ৷

আমার অসুস্থতা কেবল জ্বর বা শরীর ব্যথা মাঝে মাধ্যে ৷ হয়তো অনেকের এর চেয়ে খানিকটা বেশি ৷ আল্লাহর দয়ায় আমি অনেক ভালো আছি |

সেক্ষেত্রে যারা মরন ব্যধিতে আক্রান্ত তাদের সাথে নিজেকে কিভাবে তুলনা করবো ৷

আমরা ভাগ্যবান এবং অনেক সুখেই আছি ৷

তিন বেলা পেট ভরে খেতে পারছি ৷ অনেকে হয়তো দু বেলা ৷

কিন্ত একবার চিন্তা করে দেখুন বিশ্বের কত হাজার হাজার মানুষ ভালো ভাবে খাওয়া তো দুরের কথা বেচে থাকার জন্য একবেলা খাবারই পায় না ঠিকমত ৷ আমাদের দেশেও এমন হাজারো মানুষ আছে ৷

কিভাবে নিজেদেরকে ঐ মানুষগুলোর সাথে তুলনা করবো, বলবো সুখী নেই ?

পায়ের নিচে মাটি আর মাথার উপর ছাদ, এক নির্ভরযোগ্য বাসস্থান ৷

অনেকেরিই তেমনটা নেই ৷ বিভিন্ন রেলস্টেষ্টন, এমনকি কারনবাজারের রাস্তার পাশে খেয়াল করলেই উত্তরটা সহজে পাওয়া যায় ৷

এমনও আরো অনেক জায়গায় অনেক মানুষ আছে দেশে এবং সারা বিশ্ব জুড়েই ৷

তাদের সাথে তুলনা করে কিভাবে বলবো আমরা সুখে নেই ?

আরো এমন অনেক বাস্তবিক উদাহরন আছে যেগুলো নিজের কাছেই সুখ-দুঃখের সমীকরনটা পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলে ৷

ভালোবাসার ক্ষেত্রে অথবা নিজস্ব কার্জক্ষেত্রে আমাদের উচিত নিজের ভেতর কিছুটা বাস্তবিক বিশ্বাস স্থাপন করা, যাতে কোনো ব্যর্থতায় বা দুঃখের মাঝেও নিজেরা কিছুটা হলেও সুখী হতে পারি | সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সুখের অনুভূতি পাবো যা সঠিক কাজটা করার জন্য এবং নিজেকে এগিয়ে নেবার প্রেরণা যোগাবে ৷

সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রত্যেককেই কোনো না কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন ৷ কেনো আমরা এই হিংসা-বিদ্বেস, ক্রোধ, ব্যথ্যতার গ্লানি, না পা পাবার আর্তনাদের মাঝে ডুবে রবো ৷

নিজেকে সুখী ভাবার বিশ্বাস হোক তা তুলনা করে বা মিথ্যে অভিনয়ে, নিজেকে সুখী ভাবার এবং থাকার চেষ্টা করুন ৷

হয়তো জীবন চলার পথটা আরো একটু সহজ হয়ে যাবে ৷

অনেক কথা বলে ফেললাম ৷

পরিশেষে বলবো আমি অনেক সুখী এবং অনেক ভাগ্যবান ৷

নিজেরা নিজেদের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো চিন্তা করে দেখুন ৷

মনে শান্তি পাবেন এবং দিন শেষে আপনিও অন্তত নিজের কাছে একজন সুখী মানুষ হতে পারবেন ৷

পাওয়া না পাওয়ার সমীকরনে এগিয়ে থাকবেন ৷
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×