somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শহর ও কিছু বিচ্ছিন্ন মানুষের অকথিত গল্প !!!

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওপাড়ার পুরোনো জমিদার বাড়িটাতে অলরেডি নোটিশ টানিইয়ে দেওয়া হয়েছে “ বসবাসের জন্য বিপদজনক ”, সরকারের এসব নোটিশে তোয়াক্কা না করেই ওখানে কিছু উদবাস্তু মানুষ এখনো পরবর্তী প্রজন্মের সপ্ন দেখে চলেছে। সপ্ন দেখছে ল্যম্পপোষ্ট এর নিচে ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলো। হয়ত সকালের ঘুমটা ভাংবে কাকের ডাক আর সিটি কর্পোরেশানের আবর্জনা তোলার গাড়িটার শব্দে তবুও ওরা সপ্ন দেখে। তাদের উলংগ শিশুরা দিনে দিনে অভ্যস্ত হতে থাকে সায়দাবাদ-গাবতলী গামী লোকাল বাস গুলার হেল্পারের গদবাধা কন্ঠস্বরের সাথে। রাত গভীর হয়, কিছু গৃহপালিত মানুষ রোজকার মত ঘরে ফিরে যায় । আরেক শ্রেণীর মানুষ জেগে ওঠে, রাতটাই তাদের অন্ন জোগায়। কখনো ওভারব্রীজের অন্ধকার, কখনো ঝকঝকে নিয়ন আলোর নিচে , কখনো বা জনবহুল ফুটপাথ কিংবা চারদেয়ালের বদ্ধ ছাঁদ - তাদের জন্য কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। কোন স্থানই তাদেরকে তাদের সামাজিক অবস্থান থেকে নূনতম বিচ্যুতিও ঘটাতে পারে না। তারা শুধু জানে জায়েজ-নাজায়েজ, বিধি- নিষেধ, নীতি-নৈতিকতা নামক কিতাবী শব্দ গুলা অতীতে তাদের পেট ভরায় নি আর ভবিষ্যতেও ভরাবে না, তাই নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ওরা জীবিকা নির্বাহ করে। ছোট বেলায় হয়ত চায়ের দোকানে কাজ করবার সময় ছেলেটা বাংলা সিনেমাতে দেখেছে, স্টেথোস্কোপ নিয়ে কিছু ডাক্তার অপারেশান থিয়েটারের দিকে ছুটে যাচ্ছে, রোগীকে বাচিয়ে মানুষের শ্রদ্ধার মনি হয়ে উঠছে কিছু সময়ের ব্যাবধানেই । ছেলেটা কেন জানি চেয়েছিল সেও যদি ওমন পারত !!! সে এখন বড় হয়েছে। তবে সাদা এপ্রন পরা ডাক্তার হতে পারেনি,,,,এখন সে গ্যারান্টি সহকারে হারবাল ওসুধ বিক্রি করে। অনেক ভাল মানের রিপ্রেজেন্টিটিভ এর চেয়েও সে ভাল আশ্বস্ত করতে পারে মানুষকে।

এরা বাদেও শহরে আরেক শ্রেণী মানুষ আছে যাদের দীর্ঘশ্বাসে রোজ ভারী হয় শহরের বাতাস … ওরা মধ্যবিত্ত, ওদের কান্নার কোন শব্দ নেই, রঙ নেই, বর্ণ নেই। মাস শেষ হত এখনো তিন দিন বাকি, কিন্তু মানিব্যাগে আইডি কার্ড আর কিছু একাডেমিক কাগজ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই ছেলেটির। তোষকের নিচের কাগজ গুলোকে বিক্রি করে হয়ত এই বেলাটা আধপেট খেয়ে চালিয়ে দেয়া যাবে…কিন্তু বাকি দিন গুলা ? এমন সব অদ্ভুত প্রশ্নে জর্জরিত কিছু মানুষের মধ্যে আছে রিপন স্ট্রীটের নতুন দু-তলা হওয়া বাড়ির মেয়েটির। রোজ বিকেলে ছাদের ওঠে কাপড় মেলতে, আর পরিচয় এভাবেই পাশের বাসার একটি ছেলের সাথে। উইন্ডো কানেকশান … তাদের তিনদিনের প্রেম। তারপর আর ছেলেটিকে দেখতে পায়নি মেয়েটি। খোজ নিয়ে জেনেছে বাড়িটিতে টূ-লেট লেখা। এতকিছুর পরও মানুষগুলো বেচে থাকতে চায়, শহরটিই তাদেরকে স্বপ্ন দেখায়। মাসের প্রথম দিনটির আশায় যারা দীর্ঘ ত্রিশ ফাড়ি কাঠে পিষ্ট হয় তাদের কারো কারো অপেক্ষার প্রহর গোনা হয়ত শেষ হয় আজকের মত কোন একটা দিনে । গত মাসের দেনার টাকা বাদ দিলে মাইনের যে অল্প বাকি থাকে তাদিয়েই দু-চার রাতের সপ্নের খোরাক যোগানো যায় কিছু আনরোমান্টিক দম্পতির। আজ হয়ত কারো প্রেমিকার বিয়ে,দুটো সপ্নের মাঝে আর আকাশ ছোয়া প্রাচীর দাঁড়িয়ে যাবে। মেয়েটির দিকে কেউ কখনো আড় চোখে তাকালেও ছেলেটি মেনে নিতে পারেনি আর সেই মেয়েটির আজ ফুলসয্যা, আজ স্বেচ্ছায় মেয়েটি বিলিয়ে দিবে নিজের সতীত্ত্বকে । একটা ভুয়া প্রেসক্রিপশান দেখিয়ে কিছু ঘুমের ওসুধ কিনিয়ে রেখেছিল ছেলেটি … আত্তহত্যা করবার ইচ্ছা তার না, শুধু একটি রাতের জন্য সে নিজেকে হত্যা করতে চাইছে। ছেলেটি ঘুমিয়ে পড়ল … ঘুমিয়ে পড়ল পুরো শহর !!!

বিচ্ছিন্ন মানুষগুলার এসব ছোট ছোট গল্প গুলো কখনো ছাপার কাগজে বের হয়না, এদের কাহিনি নিয়ে তেমন সিনেমাও বানানো হয়না। তবে এখনো কিছু ভাবুক মানুষ এই শহরটাকে নিয়ে চিন্তা করে। গান লেখে শহরটাকে নিয়ে। লোকাল বাসে চেপে আপিস যেতে যেতে জানলা দিয়ে খেয়াল্ করে শহরের বেড়ে ওঠাটা। কারো সাথে দেখা হয়ে যায় তার প্রথম প্রেমিকার। হয়ত ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকে না, প্রেমকার ফর্সা আংগুল গুলা ঢেকে থাকে আরেকটা শ্যমলা হাতের স্পর্শে। এই শহরটাই আমাদের সপ্ন দেখায়, আবার প্রয়োজনে বাস্তবতায় ছুড়ে দেয় । কখনো মেঘ হয়ে আগলে রাখে , কখনো বৃষ্টি হয়ে ধুয়ে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:২২
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×