
Chord … !!! মিউজিকের এই টপিকটা খুবই জনপ্রিয়, হয়ত যারা গিটার অল্প শিখেছেন কিংবা কোন মিউজিশিয়ানের আশেপাশে থেকেছেন অথবা মিউজিক নিয়ে আগ্রহ আছে তাদের এই শব্দটা কানে না যাওয়ার কোন কারন নেই। তবে সুযোগ যখন পেয়েছি তখন এই সুযোগে বলে রাখি, প্রাইমারি লেভেলের অনেক গিটারিস্টই কর্ড গুলোকে না বুঝে বাজায়। ইভেন আমি যখন শিখেছিলাম আমাকে খানিকটা এমন বোঝানো হয়েছিল যে কর্ড হল কিছু শেপ, যেগুলো মুখস্থ করতে হবে আর দ্রুত এক্সচেঞ্জ করে বাজাতে হবে। কিন্তু কর্ডের ফরমেশন এর পিছনে অনেকগুরুত্ত্বপূর্ণ কিছু লেসন আছে। চেস্টা করব সহজ ভাষায় সেগুলো নিয়ে কিছুটা আলোচনা করার।
কর্ডের সাথে যে শব্দটা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত সেটা হল “স্কেল”। প্রথমে আমাদের স্কেল সম্পর্কে জানতে হবে কারন স্কেল থেকেই কর্ডের উৎপত্তি। সহজ ভাবে যদি স্কেলের সংগা বলি তাহলে স্কেল হল গানিতিক ভাবে ক্রম বর্ধমান কম্পাংকের কিছু নোটের সমষ্টি। আমার জানা মতে, সাধারনত দুটা স্কেলের কথা বলা হয়ঃ ১) ডায়াটনিক স্কেল । ২) পেন্টাটনিক স্কেল । ডায়াটনিক স্কেলে সাতটি নোট থাকে আর পেন্টাটনিক স্কেলে থাকে পাচটি নোট। যদি উদাহরন হিসেবে আমি C Major Diatonic Scale এর কথা বলি তবে সেটা হবেঃ সা- রে- গা- মা- পা- ধা- নি । যেহেতু মিউজিকে সাংকেতিক রূপটি বেশি ব্যাবহৃত হয় তাই ঐ স্কেলের সাংকেতিক রূপটি হবেঃ C- D- E- F- G- A- B । মিউজিকে যেমন অনেক গুলা নোট আছে তেমন প্রতিটা নোট নিয়েই এক একটা স্কেল গঠন করা যায়, আর কোন স্কেলের নাম করন করা হয় স্কেলের প্রথম নোট টির নামে। যেমনঃ (C-D-E-F-G-A-B) – স্কেলটির প্রথম নোট বা কী-নোট হল “C” তাই এটা C (উপমহাদেশিয় নিয়মেঃ সা) Major Scale । আবার (D-E-F#-G-A-B-C#) – স্কেলটির প্রথম নোট বা কী-নোট হল “D” তাই এটা D (উপমহাদেশিয় নিয়মেঃ রে) Major Scale। স্কেল কিভাবে গঠন হচ্ছে কিংবা স্কেলের নামের সামনে আমি কেন “মেজর” শব্দটা লিখছি এই গুলা আপাতত আমি অমিট করে যাচ্ছি কারন সেগুলোর উত্তর খুবই বিশাল। আর সেগুলোর আলোচনা করতে গেলে অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন। আপাতত আমি উদাহরন হিসেবে শুধু C Major Scale ব্যাবহার করব, কারন এটাই সবচে সহজ স্কেল এবং এই স্কেলে কোন “সেমিনোট” নাই। যাই হোক, স্কেল ও স্কেলের নামকরন কিছুটা জানলাম আমরা।
এবার আসতেছি কর্ডে। কর্ড বলতে সাধারন ভাবে বোঝায় কিছু প্রয়োজনীয় নোটের সমষ্টি। অর্থাৎ কিছু নোটকে একসাথে বাজানোকেই কর্ড বলে। প্রাথমিক ভাবে আমি দুই ধরনের কর্ডের গঠন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবঃ ১) মেজর কর্ড। ২)মাইনর কর্ড। কোন স্কেলের প্রথম, তৃতীয় এবং পঞ্চম নোট নিয়ে যে কর্ডটি তৈরী হয় তাকে ঐ স্কেলের মেজর কর্ড বলে। অর্থাৎ মেজর কর্ডের জন্য কোন স্কেলের (1-3-5) এই তিনটি নোট একসাথে বাজালেই হবে। আবার উদাহরনে আসি, যেমন সি মেজর স্কেলটা হলঃ (C-D-E-F-G-A-B) । এখান থেকে ১ম, ৩য়, ৫ম নোটগুলি বেছে নিলে দাড়ায়ঃ (C-E-G)। তারমানে সি মেজর কর্ডটি বাজাতে হলে আপনাকে যে তিনটি নোট একসাথে বাজাতে হবে সেগুলো হলঃ C,E,G অর্থাৎ উপমহাদেশিয় রীতিতে (সা-গা-পা) । আর মাইনর কর্ডের ফরমেশান কিছুটা মেজর কর্ডের মতনই তবে সামান্য পরিবর্তন আছে। মাইনর কর্ডের নোটগুলো হল (1-3b-5) । এখানে তিন নম্বর নোটের পাশে b লেখার অর্থ হচ্ছে ঐ নোট টিকে “হাফস্টেপ” নিচে বাজাতে হবে। আমার বিগত পোস্টটিতে আমি হাফস্টেপ সম্পর্কে লিখেছিলাম। যাই হোক, তাইলে সি মাইনর কর্ডের নোটগুলো দাড়াচ্ছেঃ (C-Eb-G)। এখানে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে মেজর আর মাইনর কর্ডের মূল পার্থক্য হচ্ছে স্কেলের তিন নম্বর নোট টিকে নিয়ে। মেজর স্কেলের ক্ষেত্রে তিন নম্বর নোট (উদাহরন অনুযায়ী E) অবিকৃত অবস্থায় বাজানো হয় আর মাইনর স্কেলেক্ষেত্রে তিন নম্বর নোট টিকে হাফ স্টেপ নামিয়ে বাজানো হয়। এই আর কি !!! গিটার, পিয়ানো সব যন্ত্রের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য।
অর্থাৎ মদ্দাকথা দাড়াল কর্ড হল কিছু নোটের সমষ্টি যেগুলোকে এট এ টাইম বাজানো হয়। সেজন্য খেয়াল করে দেখবেন গিটারিস্টরা যখন গিটার বাজায় তারা গিটারের উপর একাধিক তারকে একসাথে চেপে ধরে সুন্দর একটা শেপ তৈরী করে হাতে। অর্থৎ তারা বাম হাত দিয়ে ঐ নোট গুলো চেপে ধরে। ছবিটি দেখেও আপ্নারা ধারনা করতে পারবেন যে সি মেজর কর্ডের নোট গুলোকে কিভাবে আংগুল দিয়ে একসাথে ধরা হয়েছে। আসলে মিউজিকের ব্যাপার গুলো লিখে বোঝানো খুবই কঠিন। আমি চেস্টা করলাম যতটুকু আমার সাধ্যে কুলোয়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




