somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শূণ্য মাত্রিক
হাসছিল সজারু ... ব্যাকরণ মানিনা ... হয়ে গেল হাসজারু ... ক্যামনে তা জানিনা ...

গতানুগতিকতার বাইরেঃ একজন বাদল সরকার “এবং ইন্দ্রজিৎ” … …

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাদল সরকারের কালজয়ী একটি নাটকের নাম “এবং ইন্দ্রজিৎ”। নাটকটি লেখা ১৯৬৩ তে, যখন মোটামুটি চীন-ভারত যুদ্ধ চলছে, আর তার সাথে বড্ড বেখাপ্পা পরিস্থিতিতে পড়েগিয়েছিল ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি গুলো। সবচেয়ে দোটানায় পড়েছিলেন চীন পন্থী কমিউনিষ্ট পার্টি গুলো যারা কিনা মাও সে তুং এর মাও সে তুং এর সনদে ভারতের মানুষকে মুক্তির সপ্ন দেখিয়েছিল। ফলে তারা তারা পার্টির নীতি ও আদর্শগত দিক দিয়ে বেশ দোটানায় পড়েগেছিলেন, ফলস্রুতিতে পার্টির ভাংগন। এদের কোন একটা দলে জড়িয়ে গিয়েছিলেন বাদল সরকার নিজেও। এবং ইন্দ্রজিৎ নাটক টিতেও ফুটে উঠেছিল কিছু দ্বিধা-দোলাচলতার চিহ্ন। “হাসবার ক্ষমতা চলে যাচ্ছে আমার। … আজগুবি সৃষ্টিছাড়া হয়ে উঠছে আমার লেখা। আর সবচেয়ে মারাত্তক- এতো রূপক এতো আড়াল স্বত্তেও সত্যিই মানুষগুলো বড় বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ”- কথাগুলো বাদল সরকারের সমসাময়িক প্রকাশিত একটা আক্ষেপ।

অমল, বিমল, কমল, ইন্দ্রজিৎ - এরাই মূলত নাটকির প্রধান চরিত্র। আর খানিকটা বিশ্লেষকের ভূমিকায় পাওয়া যায় একজন কবিকে যিনি লিখতে চান। কিন্তু তার ভাষ্যমতে সমস্যাটা দাঁড়ায় যে তিনি কলকাতা শহরের কত শ্রেণী পেশার মানুষ তার ক জনকেই বা চিনেন তিনি। আর তাদেরকে কাছে থেকে যখন জানেনই না তখন তাদের নিয়ে কি বা লিখবেন তিনি। নাটকের প্রথম দিকে যেটি দেখা যায় যে অমল, বিমল, কমল, ইন্দ্রজিৎরা কলেজের ছাত্র। তাদের আড্ডায় মাঝে মাঝে কবিকেও পাওয়া গেছে। আড্ডার বিষয় বস্তু কখনো ক্রিকেট, কখনো সিনেমা... রাজনীতিকে বানার্ড শ’র নাটকে মেশানো ঠিক হয়েছিল কিনা অথবা মেশানো হলেও তাতে নাটকির সাহিত্য মূল্য আদৌ কমে কিনা কিংবা ভূগোলের বাইরে কোন পৃথিবী আছে কিনা আর থাকলেও সেখানে সবছেড়ে ছুড়ে দিয়ে ইন্দ্রজিৎ কেন চলে যেতে চায় – এসবই। কিছু শিক্ষিত মধ্যবিত্ত কলেজ গন্ডীর ছেলেদের আগ্রহের তীর গুলো যেদিক যেদিক ছুটে আরকি। তবে লেখক এখানে “অমল-কমল-বিমল” দেরকে দেখিয়েছেন আমাদের সমাজের আর দশটা মানুষের মত করে যারা কিনা সমাজের সাথে আপোষ করে রোজ বেচে আছে, কিন্তু ইন্দ্রজিৎ কে তিনি সম্পূর্ণ আলাদা একটা রূপ দিয়েছেন। ইন্দ্রজিৎ সমাজ, সিষ্টেমের নিয়মগুলোর সাথে আপোষ করতে চায়না, সেগুলোকে ঘৃণা করে। অবশ্য বাধ্য হয়ে দিন শেষে ওগুলোর সাথেই সহবাস করতে হয়। তবে নাটকটি বিশেষত্ত্বই ফুটে উঠেছে ইন্দ্রজিৎ চরিত্রটির চরিত্রায়নের মধ্য দিয়ে।

‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ নাটকটি কিন্তু “স্ত্রী চরিত্র বর্জিত” নয়। এখানে ইন্দ্রজিতের প্রমিকা হিসেবে পাওয়া যায় একটি মেয়েকে যার নাম কবি রেখেছিলেন মানষী। মূলত মানষীর সাথে কথোপকথনেই ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ রচনার আসল উদ্দেশ্যটা চোখে পড়ে। সে একটি সাধারন আটপৌরে চিন্তা ধারার মেয়ে-পরিবারের শৃংখল, সমাজের মেনে নেওয়া না মেনে নেওয়া ইত্যাদি অনেক কিছু কেয়ার করে চলতে হতো তাকে। এ ব্যাপারটাতেই ইন্দ্রজিৎ এর রাগ। ইন্দ্রজিতের ভাষায়ঃ “বহু নিয়ম মেনেছি...লেখাপড়া করার নিয়ম-মেনেছি, পরীক্ষা দেবার নিয়ম- মেনেছি, চাকরী করবার নিয়ম – মানব। কিন্তু নিয়মটা কে মানা উচিৎ একথাটাও কি মানতে হবে ? নিয়ম না মেনে নিয়মের দড়িটাকে ঘৃণা করব, যেই দড়ি দিয়ে আষ্টে পিষ্টে বাধা আছি সেই দড়িটাকে পূজো করে কি লাভ” ? আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ফুটে আসে ইন্দ্রজিতের একটি কথার সূত্র ধরে। “যেই নিয়মে সাত বছরের একটি ছেলেকে জুতো পালিশ করতে হয় আর এক বছরের একটি ছেলেকে কোলে রাখতে হয় সেই নিয়মটিকে যে আমি মানতে পারিনা”। ইন্দ্রজিৎ সমাজ ও সমাজের পরিবর্তন চাইতো। অন্য কথায় সেটাকে বোধহয় বিপ্লব ও বলা চলে। এদিক থেকে তিনি চরিত্রটির মাঝে সম্ভবত কিছুটা সাম্যবাদী দৃষ্টিভংগি ফুটিয়ে তুলেছেন। সম্ভবত চরিত্রটি বাদল বাবুর নিজের জীবনেরই ফটোগ্রাফ।

নাটকটির শেষে গিয়ে অমল, কমল, বিমল দের সাথে ইন্দ্রজিৎ এর পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়। তাদের সবার সাথেই কবি চরিত্রটির শেষবারের কথোপকথন হয়। তাদের সবাই ব্যাস্ত সংসার, স্ত্রী, চাকরির বদলি, ছেলের বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি, কিংবা ইন্সুরেন্স পলিসির বিজ্ঞাপন নিয়ে। তবে ব্যাতিক্রম পাওয়া যায় ইন্দ্রজিৎকে নিয়ে, মানষীকে সে ভালোবাসলেও কোন একটা দোটানার কারনে তাকে বিয়ে করতে পারিনি। ইন্দ্রজিৎ আমাদের সমাজের ঐ প্রতিবাদী চরিত্রটির মুখোচ্ছবি যারা জীবন্টাকে নিয়ে আলাদা চিন্তা করবার ক্ষমতা রাখে, জীবনটাকে আলাদা খুব নিজস্ব সংগায় সংগায়িত করবার ক্ষমতা রাখে। সমাজ ও ঘুনেধরা নিয়মগুলোর সাথে চিরচারিত সহবাসকে এরা প্রচন্ড ঘেন্না করে। আমাদের আজকের সমাজেও অমল, কমল, বিমলদের মত গতানুগতিকতার বাইরে অনেক ইন্দ্রজিৎকে পাওয়া যায় যারা জীবনের একটা মোড়ে এসে অনেক গুলো হিসেব মেলাতে পারেনা। যুগে যুগে ইন্দ্রজিৎরা এসেছে পৃথিবীতে, ভবিষ্যতেও আসবে। সমাজটাকে পরিবর্তনের সপ্ন নিয়ে, মানুষগুলোকে সপ্ন দেখাতে...আর এমন হাজার ইন্দ্রজিৎ এর জীবনের বলি নিয়ে আমাদের সমাজটা রোজ বড় হচ্ছে...বুড়ো হচ্ছে।



সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×