somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এত্তগুলো ভালোবাসা, ৮/১০ মিনিটের জৈবিক সুখ আর ছত্রাক আক্রান্ত একটা মধ্যবিত্ত জীবন … আপনার প্রিন্সেসের জন্য কি যথেষ্ঠ ?

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমে কিছুটা ইতস্থত লাগছিল লিখব কিনা… পরে চিন্তা করে দেখলাম যে ব্লগ লিখতে এসেছি, বাড়ির উঠানে কুতকুত খেলতে নয়। তাছাড়া বিষয়টা বেশ কিছু দিন ধরেই মাথার মধ্যে খোচাচ্ছিল … জানিনা কতটুকু ঠিক, কতটুকু বেঠিক কিংবা কতটুকু নীতি সম্মত। ‘ঠিক’ ই লিখতে হবে এমন কোন কমিটমেন্ট নেই আমার, কিন্তু আমার কমিটমেন্ট আছে আমাকে লিখতে হবে। নিজের চিন্তাগুলোকে কিবোর্ডের উপরে সাজিয়ে ধরতে হবে। ব্যাস… সেই দায়বদ্ধতা থেকেই লিখছি।

স্বপ্ন দেখার জানালা আমাদের সবার জন্যই খোলা… সেই জানালা দিয়ে উকি দিতে হয়ত কারো বারন নেই। কিন্তু একটা অদ্ভুত সত্যি হল একটা মধ্যবিত্ত ছেলের নিজের স্বপ্ন পূরনের জন্য সম্পূর্ণ নিজের উপরেই ডিপেন্ড করতে হয়। যদি সে সফল হয় তবে পারবে আর না হলে না, মধ্যবিত্ত হবার কারনে পরিবারের ফিনান্সিয়াল আপোর্ট আসেনা বললেই চলে। কিন্তু একটা মেয়ের কিন্তু সেখানে নিজে প্রতিষ্ঠিত হবার ছাড়াও আরো একটা সুযোগ থেকে যায় তার স্বপ্নকে পূরন করার। আর সেই সুযোগটা পেতে পারে তার স্বামীর মাধ্যমে।

আমরা বিয়ে করি কেন ??? নিজেকেই প্রশ্নটা করেছিলাম। উত্তর হিসেবে যা পেয়েছি তার কিছু কিছু হলোঃ জৈবিক চাহিদা পূরণ, বংশগতির ধারাটা বৈধ উপায়ে বহাল রাখা, সামাজিকতা রক্ষা করা…ইত্যাদি ইত্যাদি। এর ভিতরে একটা মোটা দাগে রাখার বিষয় হলো জৈবিক চাহিদা পূরন, সেটাও বৈধ উপায়ে। প্রেমের সূচনাও কিন্তু সেই একই গন্তব্য বা পরিনতির দিকে যাবার জন্য … অর্থাৎ বিয়ে। কিন্তু হরহামেশাই দেখা যায় গন্তব্য, পরিনতির পথে বাধা পড়তে। যদিও আমার কাছে সেমন কোন পরিসংখ্যান নেই যে কতগুলো প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়, তবে বর্তমানের একটা উল্লেখযোগ্য খেয়াল করবার মত বিষয় আছে। অতীতের মত সম্পর্কগুলোতে এখন পরিবার ততটা বাধ সাধেনা। কারন যুগের সাথে সাথে আমাদের চিন্তা ধারনাও বেশ পাল্টাচ্ছে। কোন মেয়ে প্রোপোজ পেলে ভেবে নিচ্ছে ছেলেটাকে তার পরিবার মেনে নিবে কিনা, কিংবা তার ক্যারিয়ার কতটুকু সম্ভবনাময় আর ছেলেটাও রিলেশানে জড়ানোর আগে এমন কিছু লজিক্যাল চিন্তা করে নেয় … হয়ত এর বিকল্পও আছে, হুট করে দুটো মানুষ প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি যেই তিক্ত সত্যিটার কথাটা লিখেছি সেটাও অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

কিন্তু এমন বিয়েও হরহামেশা দেখা যায় যেখানে ছেলেটা ঠিক সময় মত প্রতিষ্ঠিত না হতে পারবার কারনে তার প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যায় অন্যত্র বড় পরিবারে, যেখানে মেয়ের বাবা মা মনে করে মেয়ের ভবিষ্যত অনেক সিকিউরড । অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েটা স্বেচ্ছায় এই বিয়ের জন্য রাজী হয়ে যায় কোন ক্ষেত্রে পরিবারের চাপে। এখানে কিছু কথা আছে ঐ হতাশ ছেলেটার জন্যঃ একটা মেয়ের জৈবিক চাহিদা সব ছেলেই মেটাতে পারবে, আর সুখ টুকু কতসময়ই বা স্থায়ী হয় ? ৮ ? ১০ ?? ১৫ ??? মদ্দাকথা আমি বোঝাতে চাচ্ছি আপনি বাদেও আপনার প্রেমিকার খুব একটা কষ্ট হবেনা বিয়ের পর, নিঃসন্দেহে সে জৈবিক চাহিদার অভাবে ভুগবে না। কিন্তু কিছু চাহিদা আছে যেগুলো সব ছেলেরা বিশেষ করে যারা আপনার আমার মত মধ্যবিত্ত তারা মেটাতে পারবে না। ধরুন আপনার রাজকন্যার একটা পাজেরো গাড়ির শখ আছে, লেটেস্ট আইফোনের শখ আছে… কিংবা শখ আছে প্লাটিনাম কার্ডে শপিং করবার। এই চাহিদা গুলো সবাই মেটাতে পারবে ??? না, পারবে না। একটা সিকিউরড ভবিষ্যত সবাই চায়, আপনি চান আমিও চাই। তাহলে আপনার রাজকন্যাটা চাইলে দোষ কোথায় ?? হ্যা, একটা ছেলে হিসেবে আমি এটুকু বলতে পারি যে একটা ছেলের জন্য পৃথিবীর সবচে কঠিন কিছু কাজের মধ্যে অন্যতম হলো নিজের প্রমিকাকে অন্যের বিছানায় কল্পনা করা। কিন্তু আপনার প্রিন্সেস কি খারাপ থাকবে সেই বাড়িটাতে গিয়ে যেখানে প্রিন্সেসের বাবা মা ঠিক করেছে যে সেখানের তাদের মেয়ে বেশি সিকিউরড। আপনি ভালোবাসার অজুহাত দিতে পারেন… কিন্তু সেটার ভিত্তি নেই। কারন পৃথিবীতে অসংখ্য এরেঞ্জড ম্যারিজ হচ্ছে, তারা কি নিজেদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরী করে নিতে পারছে না ?? একটু দেরিতে হলেও আপনার প্রেমিকা নতুন বরের ভালোবাসার সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাবে … পাজারো গাড়ির আভিজাত্য, আইফোনের চাকচিক্য আর প্লাটিনাম কার্ডে শপিং করার মুহূর্ত গুলোর সাথে ধূসর হতে থাকবে আপনার স্মৃতি গুলো। এক সময় আপ্নিও স্ত্রী হিসেবে একটা মেয়ের দায়িত্ত্ব নিবেন, তাকেও ভালোবেসে ফেলেবেন। বাস্তব এটাই যে পৃথিবীর কিছুই থেমে নেই, না আপনি না আমি না আমাদের আবেগ। হ্যা… থেমে যায়না বটে, তবে থমকে ঠিকিই যায় আমাদের জীবন এই সব পর্যায়গুলোতে।

তবে অনেক পাগলীই দেখেছি যারা বাবা মায়ের পছন্দ করা বড়লোক ছেলেকে তীব্রভাবে প্রত্যাক্ষাণ করে দিব্যি মধ্যবিত্ত চালে জীবন যাপন করছে। যেই মেয়েটা একটা তেলাপোকা দেখে স্থীর থাকতে পারেনা সেই মেয়েটার কতটা মানষিক জোর যে তার নিজের ভালোবাসার জন্য বাবা মার দিক থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এটা ভালো কি মন্দ আমি জানিনা, যে বিচার বোধ আমার নেই। কিন্তু আপনার রাজকন্যাটা যদি এই পাগলীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হয় তাহলে আফসোস করে নিজের জীবনটা নষ্ট করবেন না। তাকে ভালো রাখার জন্য পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে। ধরে নিবেন আপনার রাজকন্যা ভালোবাসা আর ৮ মিনিটের সুখকেই নিজের জীবনের চূড়ান্ত মানে হিসেবে ধরে নেয়নি… বরং মা বাবার পছন্দের বিয়ের পরবর্তী ৫৮ বছরের আর্থিক নিরাপত্তাই সে বেছে নিয়েছে। অন্যের বৈধ বিছানায় প্রথম রাতের চোখের জলটুকুর অন্য মানে থাকলেও সে জল এক সময় মুছে যাবে, সেখানে স্থান করে নিবে তীব্র আনুগত্য আর জৈবিক চাহিদা। আপনার রাজকন্যা ভালই থাকবে … আপনি ভালো থেকেন, অন্তত আপনি ভবিষ্যতে যে রাজকন্যাটির দায়িত্ত্ব নিতে যাচ্ছেন তার জন্য হলেও।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৪৩
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×