১) রাতে ভার্সিটির বাসে করে ক্যাম্পাসে ফেরা, শুনশান রাস্তার কুয়াশা কেটে পথ করে দিচ্ছে গাড়ির হেড লাইট। পিছনের ছিটগুলোতে কিছু জুনিয়র গান ধরেছে “এক পলকেই ভালোবেসে ফেলেছি তোকে … ”। আমি তো ভাই সিংগেল, ওসব গান শুনে ইমোশোনাল হয়ে গেলে আমার চলে না … পাছে অন্যের গার্লফ্রেন্ডকে ধার করে নিতে হয় স্বপ্ন দেখার জন্যে। অদ্ভুত এক অপরাধবোধ হয় মাইরি, তাই কানে হেডফোন গুজে নিলাম। আমার প্লেলিস্টে তখন বাজছে আর্টসেলের “তোমরা কেউ কি দিতে পারো প্রেমিকার ভালোবাসা …”। বিপত্তিটা তখনো ঘটেনি, কিন্তু হঠাৎ করে খেয়াল হল সামনের সিটে একটা কাপল। ছেলেটা আমার সিনিয়র কিন্তু মেয়েটা আমার জুনিয়র। ক্যাম্পাসে পৌছাতে প্রায় রাত এগারোটা বাজবে, অনেকেই ঘুমিয়ে নিচ্ছে। এক সময় বাসেই ভেতরের লাইট অফ করে দিল হেল্পার মামা, প্রায় সাথে সাথে সামনের সিটে বসা মেয়েটা সিনিয়র ভাইয়ের কাধে মাথা এলিয়ে দিল। হঠাৎ বুকের বামপাশটা চিনচিন করে উঠল… এ এক অদ্ভুত ব্যাথা ভাই , ডাইক্লোফেন দিয়ে সে ব্যাথা যায়না। এ মুহুর্তে মনটা শক্ত করার দরকার, গান চেঞ্জ করার দরকার জরুরীভিত্তিতে। ঐ মুহূর্তে গান চেঞ্জ করে ছাড়লাম ওয়ারফেজের “শক্তি দাও বিধাতা, অনন্তকাল ধরে জ্বলছে হৃদয় …”। যাই হোক মনটা শক্ত করে ক্যাম্পাস পর্যন্ত পৌছুলাম, সিংগেল থাকার এক বস্তা পরিমান আক্ষেপ নিয়ে।
২) সেদিন রুমে অন্য আরেক হলের কিছু ফ্রেন্ড এসছে, প্রোজেক্টের কাজে। ফাকে ফাকে আড্ডাও দিচ্ছি।, হঠাত করে ফ্রেন্ড্রের ফোনের রিংটোন বেজে উঠল। ও সাবলীল ভাবে রিসিভ করল… তবে লাউডস্পিকারে ছিল কিনা জানিনা হঠাৎ একটা মেয়ের মিষ্টি কন্ঠ ভেসে আসল I Love Youuuuuu । আবার সেই বুকের বামপাশে চিনচিন ব্যাথাটা অনুভব করলাম, অজান্তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল What The Yuck !! পরে ওকে লুইচ্চা, লাফাংগা, ইতর সহ নানা উপাধীতে ভূষিত করে ফোন সহ রুমের বাইরে বের করে দিলাম। পরে অবশ্য আস্ক করছিলাম মামা ফোন ধইরাই মাইয়া আই লাভ ইউ বলল ক্যান ? বন্ধু বলল সে নাকি মেসেজে তাকে একটা রোমান্টিক কবিতা পাঠিয়েছিল আর তার রিপ্লাই দিতেই মাইয়া ফোন দিয়াই লাভ ইউ বলছে। যাই হোক, মদ্দাকথাটা হল সিংগেল জীবনটাকে এসব পরিস্থিতিতে আর ভোগযোগ্য মনে হয়না। দুম দাম ছ্যাকা খাও আর বুকের বামপাশে চিনচিনে ব্যাথা সহ্য কর … ব্যাচেলর লাইফের মূলনীতি, এই আর কি মনকে সান্তনা দিই।
৩) আর প্যাথেটিক বিষয়গুলোর মধ্যে উদ্দেখযোগ্য একটা “নব দম্পতির প্রেমালাপ”। কেউ এই এক্সপেরিয়েন্স করেছেন কিনা জানিনা আমি একবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম ট্রেনের মধ্যে… যাচ্ছি রাজশাহী। নতুন দম্পতিকে তুলে দিতে এসেছে তাদের পরিবার। কিন্তু কে জানত ওরা আমার সামনে সারিতে বসবে। জানেনই তো ট্রেনের শব্দ বেশ জোরালো হয়, যত চেষ্টা করছি ওদের কথার দিকে কান দিবনা… ট্রেনের আখাম্বা কম্পাংকের নয়েজ ভেদ করে ওদের ভয়েস ক্যামনে জানি আমার কানে চলে আসছে। কয়েক সেকেন্ড পর পরই আপিটা কিউট কিউট লাজুক স্মাইল দিচ্ছে তার হাজবেন্ডের দিকে তাকিয়ে। আর শালা হাজবেন্ডটা পাশে এত্ত জায়গা থাকতেও আপিটার গা ঘেষে বসেছে। এখন আর চিনচিন সেই ব্যাথাটা না ভাই… কে জানি বুকের ভিতরে হাতুড়ি দিয়ে ধুম ধুম করে থাপ্রানি দিচ্ছে। ঐ সময়টাতে ওপার বাংলায় ‘প্রেম আমার’ নামে একটা ছবি মুক্তি পেয়েছিল, তাতে একটা গানের লাইন ছিল “মানছে না মন কোলবালিশে, পারছে না গুরু আর …”। কানে হেডফোন নেই, কিন্তু মনের ভিতর যে বিল্ট ইন মিউজিক প্লেয়ারটি ছিল সেখান থেকে অটোমেটিক গানটা বেরিয়ে আসছিল। লজ্জা না করেই বলি, বারবার মনে হচ্ছিল এত্ত কিউট কিউট আপিদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে … আমার কি হবে রে মমিন ???? পরে পাবো তো ???
এই আর কি এমন অসংখ্য ছ্যাকা খাওয়ার গল্প রাস্তা ঘাটে হরহামেশাই তৈরী হয়ে যায়, যখন মনে হয় সিংগেল লাইফটা শালা সত্যিই পিকিউলিয়ার । কি করব মিয়া, ক্লোজ আপ তো আর ছ্যাকা খাওয়ার গল্প চাইনা, চায় কাছে আসার গল্প। সে লিখতে অন্যের গার্লফ্রেন্ড ধার করতে হবে বলে আর লেখার চেষ্টা করিনা। আর এই ব্যাথায় নতুন মাত্র যোগ করেছে তাহসান ভাইয়ের নাটক। দেখলেই ইমোশোনাল হইয়া যায়, এখন ছেড়েই দিছি দেখা। এত কিছুর পরেও আমরা তথা ব্যাচেলর সমাজ স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখি সেই দিনের যেদিন কোল বালিশ ছাড়াই ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব । রিক্সার পাশে জায়গাটুকু ফাকা থাকবে না, ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে জানলার পাশে পাশাপাশি দুটি সিট চাইব।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




