somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শূণ্য মাত্রিক
হাসছিল সজারু ... ব্যাকরণ মানিনা ... হয়ে গেল হাসজারু ... ক্যামনে তা জানিনা ...

আমি ও আমার ‘বানান ভুল’ …

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগে জয়েন করবার পর খেয়াল করলাম ‘বানান ভুল’ বিষয়টাকে আমি খানিকটা শিল্পের পর্যায়েই নিয়ে গেছি। জানেন… আম্মুর কাছে ছোটবেলায় প্রচুর পিটানি খাইছি এটার জন্য। আর এখন শতকরা ৭০ ভাগ পোষ্টেই বিভিন্ন ব্লগার ভাই বোন আমাকে উপদেশ, হুমকি :D কিংবা আদর করে ফ্রেন্ডলি ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছেন আমাকে বানানের ব্যাপারে সতর্ক হবার ব্যাপারে। ফেসবুকে লিখতাম আগে … সেখানেও এই ভুলটা প্রায়শই হতো। কিন্তু সেখানে আমাকে কেউ ওয়ার্নিং দিলে আমি উত্তর দিতাম জানেন ? ‘আমি যদি লেখক হই তবে পয়সা দিয়ে পার্সোনাল ‘প্রুফ দেখিয়ে’ রেখে দিব … ’। কিন্তু এমন উত্তর কখনো ব্লগে দিতে পারিনা। একটা সত্যি কথা বলতে কি, ব্লগে আসার পর থেকে ব্লগারদের প্রতি আমার রেস্পেক্ট কয়েকশত গুন বেড়ে গেছে। কারন এখানে সবাই লেখক, এখানে সবাই আমার মত তাদের মাথা থেকে প্রতিটা শব্দ নিংড়ে নিংড়ে বের করে আনে, এখানে সবাই ক্রিয়েটিভ। আগে কিছু ব্লগারদের কর্মকান্ড কিংবা লেখনী পড়ে আমার ভীষন রাগ হতো … কিন্তু ঠিক সেরকমই লেখা যদি আজ আমি সামুতে পড়ি খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায় না। সত্যি বলতে আমার সহনশীলতাও অনেক অনেক বেড়ে গেছে … উলটা পালটা কোন লেখা পড়লে বারবার মনে হয় সে ও তো আমার মত একজন ব্লগার। আমরা একই কম্যুনিটির মানুষ। সে তার নিজের মতাদর্শ প্রকাশ করতেই পারে… আমারও তো কোন একটা আদর্শ থাকতে পারে যেটা তার কাছে ভালো লাগবে না। তাই আমার ভালো না লাগলে আমি মাউস কিংবা ফোনের ক্রলবার ঘুরিয়ে নিচে চলে যাব। কারন কারো মৌলিক আদর্শগত বিষয়ে তর্ক করতে আমার ভালো লাগে না, তার তাতে ‘বৈরীতা’ ব্যাতিত কোন ভালো ফল পাওয়া যায় বলেও আমার মতে হয়না।

যাই হোক বানান ভুল থেকে বেশ দূরে চলে গেছি … হি হি হি। আমি কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে খুব একটা খারাপ ছাত্র নই (বুকে থাবড়ানি দেওয়ার ইমো :D )। সেকেন্ডারী ও হায়ার সেকেন্ডারী মিলিয়ে আমি শুধু এইচ.এস.সি র বাংলাতেই এ+ পায়নি (হাউমাউ করে কান্নার ইমো)। কাজেই , নুন্যতম ব্যাকরনটুকু আমার জানা। কিন্তু আমার কিছু ব্যক্তিগত মতাদর্শ আছে। যেমন, যে দু’একটা বাক্যই লিখিনা কেন …আমি সবসমই জোর দিই আমার এক্সপ্রেশানের ব্যাপারে, মানে আমি যতটুকু কল্পনা করছি তার কতটুকু আমি আমার ভাষায় এক্সপ্রেস করে নিজেকে স্যাটিসফাই করতে পারছি। আমার কাছে আমার একটা লেখার স্বার্থকতা এতটুকুই। আমার বন্ধুর সংখ্যা খুবই কম, খুবই লোনলি মানুষ … কিছু বলতে ইচ্ছে হলে আমি সেটা সুন্দর করে গুছিয়ে লিখে ফেলার চেষ্টা করি। যতক্ষন আমি সেটা না লিখব ততক্ষন আমার ভিতরে কেমন জানি একটা চাপ থাকে, আর লেখা শেষ হলেই সেটা সাথে সাথে পোষ্ট দিয়ে দেই। কেন জানি তর সয় না যে কয়েকবার রিভিশান দিয়ে ভুল গুলো ফাইন্ড আউট করব। আর তাছাড়া আমি কেন জানি নিয়ম কানুনকে খুবই ঘৃণা করি। আমার ব্লগে ঢুকলেই দেখবেন বাদল সরকারের নিয়ম মানা না মানার ব্যাপারে একটা উক্তি লেখা আছে। কেন জানি মনে হয় নিয়ম-কানুন গুলোকে আমার স্বাধীনতা খর্ব করার জন্যই বানানো হয়েছে। তাই অন্যান্য নিয়মের মত ব্যাকরনেও আমার এলার্জি আছে… মাঝেমাঝে মনে হয় এই বানানটা ভুল না ঠিক এটা ভাবতে ভাবতে কেন জানি আমার লেখার ফিলিংটাই হারিয়ে ফেলছি।

কিন্তু আরেকটা মজার কথা এখানে বলি। ব্লগে আমি এত্ত বানান ভুল করি… কিন্তু একাডেমিক লাইফে আমি কতটা একুউরেট এটা আপনাদের কল্পনাতেও আসবে না। আমি খুলে বলছি … আমার সাবজেক্ট কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রোগ্রামিং এর কাজে কিংবা সফটওয়্যার ডেভেলেপমেন্ট এর কাজে আমাকে প্রচুর কোড লিখতে হয়। কোড বলতে আমি বোঝাচ্ছি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজকে। কখনো কখনো একটা প্রোজেক্ট্রে লাইনের সংখ্যা কয়েক হাজার হয়ে যায়। ওতগুলো লাইনের মধ্যে একটা শব্দের বানান ভুল তো দূরে থাক, একটা সেমিকোলন ভুল করলেও আমার চলে না। যদি করি আমাকে Error দেখাবে আর প্রোগ্রামটা রান করবে না। সো এতটাই নির্ভুল হওয়া লাগে !!! এই আকাশ পাতাল তারতম্যের ব্যাপারটা মনে করলে আমারই হাসি পায়।

আমি নিয়মকানুনকে অত্যন্ত ঘেন্না করি… আমারে যদি আপনি কাচা কঞ্চি দিয়া পিটানও আমি তাহলেও এই কথাই বলব। কিন্তু রেস্পন্সিবিলিটি অন্য জিনিস… সামু যখন আমাকে লেখক উপাধি দেয়, সেখানে আমার রেস্পন্সিবিলিটি ও কিছুটা থেকে যায়। মাঝে মাঝেই দেখি কোন কোন ব্লগার ভাই তাদের বইয়ের বিজ্ঞাপন দেন, কেউ কেউ তাদের লেখা কলামের ছবি দেন… আমি তখন প্রায় নিজেকে আস্ক করি “ক্যান ইউ ইমাজিন ঋকি, তুমি কাদের সাথে আছ ??”। তখন প্রায় খারাপ লাগে নিজের অসতর্কতার জন্য। তবে আমি আশাবাদী যে আপনাদের মত জ্ঞানী গুনী মানুষদের আশে পাশে যখন আছি… বকা, ঝাড়ি খেয়ে হলেও একদিন ঠিক নিজেকে শুধরে নিতে পারব। ইনশাল্লাহ।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৩
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×