somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মহত্যা যখন সমাধান হয়ে যায়...

০১ লা মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সবসময়ই যেকোনো ধরণের আত্মহত্যার বিপক্ষে। "আত্মহত্যা কোনো সমাধান না" নিয়মিতই বলি, এ লাইনটা নিয়মিত পড়ি বিভিন্ন বইয়েও। কেউ একজন আত্মহত্যা করলে চারপাশের মানুষের খুব বেশি ক্ষতিবৃদ্ধি হয়না। এমনকী, পরিবারের লোকজনও কেঁদেকেটে কয়েকদিন পরে ধাতস্থ হয়ে যায়। তবুও, মোটাদাগে আত্মহত্যা তো অনেকসময় অনেককিছুর খুব সোজাসাপ্টা সমাধানও হয়ে যায়, হয় না?

গত শনিবার গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের নীচে বাবা আর মেয়ে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলো। দশ বছরের মেয়েটি দুই মাস আগে ধর্ষিত হয়েছিলো স্থানীয় এক যুবকের হাতে। বাবা- মা বিচার চেয়েছিলো। ইউপি চেয়ারম্যান বিচার করেননি। ১০০০ টাকার বিনিময়ে মিটমাট করে দিয়েছিলেন! বিচার হলো না। বাবা, মেয়েকে নিয়ে শনিবার সকালে চলে গেলেন রেলস্টেশনে। ট্রেন এলো, মেয়েকে ছুঁড়ে মারলেন ট্রেনের নীচে, নিজেও ঝাঁপ দিলেন। ট্রেন চলে গেলো, কাটা পড়লো দুটি লাশ। অনেককিছুর সোজাসাপ্টা সমাধান হয়ে গেলো। মেয়েটিকে আর প্রতিদিন "ধর্ষনের স্মৃতি" নিয়ে বাঁচতে হবে না। স্কুলে গেলে, কলেজে গেলে চারপাশের সবার "বিস্মিত দৃষ্টি"র সামনে অপদস্থ হতে হবেনা। মেয়ের বাবাকেও ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্যে প্রশাসনের দামী দামী দরজার সামনে ধরনা দিতে হবেনা প্রতিদিন। "আত্মহত্যা কোনো সমাধান না" এ বুলি তো কপচাচ্ছি প্রতিদিন, আসলে সমাধান কী? সমাধান ঠিক কোথায়? আমি দ্বিধাগ্রস্ত। "দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন" সিনেমার একটা ডায়লগ ভালো লেগেছিলো "Every man has a breaking point." একটা সীমারেখা বোধহয় থেকেই যায়, যে সীমারেখা পেরোলে বাবা, মেয়ের অপমান সইতে না পেরে মেয়েকে নিয়ে চলে যান পৃথিবী ছেড়েই। দশ বছরের মেয়ের জীবনরেখা ফুরিয়ে যায় দশ বছরে পেরোনোর আগেই। যখন আত্মহত্যাই চূড়ান্ত সমাধান হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক কতটুকু যন্ত্রণায় আত্মহত্যা "চূড়ান্ত সমাধান" হয়ে যেতে পারে, বোঝা হয়তো অতটা সহজ না। এ সমীকরণ বড্ড গোলমেলে।

ফেসবুক/ব্লগ খুব ঠুনকো একটা জায়গা, সস্তা একটা মাধ্যম। আমার লেখায় কারো কিছুই আসবে, যাবে না। ঐ ধর্ষকেরও কিছুই হবে না, দিব্যি ঘুরে বেড়াবে "আইন" কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। স্বামী, মেয়ে হারিয়ে যে মহিলা বেঁচে রইলেন, তার ক্ষতেও প্রলেপ পড়বেনা। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে লিখছি কেন? আসলে, লিখতাম না। শনিবার, রবিবার না লিখেই ছিলাম। আজকে ভাবলাম, যদিও কিছু হবে না, তবু অন্তত এক জায়গায় লিখি, একটু প্রতিবাদ নাহয় করিই। উটপাখির মত বালুর স্তুপে মুখ গুঁজে তো অনেকদিন থেকেই আছি। অন্তত, একবার হলেও প্রতিবাদ করি। আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে একটুও ঘুরে দাঁড়াই, প্রতিবাদ করি, তাহলে আজ না হোক, কাল না হোক, প্রশাসনের টনক একদিন তো নড়বেই। আমরা সবাই মিলেই তো দেশ। ফেসবুকে/ব্লগে লিখে কিছু হবে না, এই ভেবে যদি না লিখে বসে থাকি, কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না।

উত্তর চাইবো কোথায়, বুঝতে পারিনা। এ দেশে পাঁচ বছরের মেয়ে ধর্ষিত হয় পাশের বাসার মধ্যবয়স্ক লোকটির হাতে। দশ বছরের মেয়েটি ধর্ষিত হয়, এলাকার বখাটে ছেলেটির হাতে। বিচার হয় না। আইন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার... অনেকদিন আগেই আটকে গেছে বইয়ের পৃষ্ঠায়, সিনেমার দৃশ্যে।

কিছুদিন আগে কোরিয়ান একটা সিনেমা দেখেছিলাম, "Silenced." সত্যঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে "জাস্টিস" শব্দটির ভিন্ন মানে খুঁজে পেয়েছিলাম। খুবই রূঢ় এক বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন সিনেমার পরিচালক। আগ্রহীরা দেখতে পারেন। "Silenced" আপনাকে অনেক দিক থেকেই ভাবাবে।

"বাহুবলি-২" তে কাটাপ্পা কেন বাহুবলিকে মেরেছিলো, সেটা জানার পরে, নোয়াখালীকে "বিভাগ" চাইবার পরে, আইপিএলের সাজানো নাটক দেখার পরেও যদি আপনার হাতে খানিকটা সময় থেকে থাকে, তাহলে আসুন, সবাই মিলে নিজের জায়গা থেকে একটু হলেও প্রতিবাদ করি আমরা। একটু প্রতিবাদ তো করা উচিতও। প্রতিবেশি এক দেশকে প্রতিদিন "ধর্ষনে ১ নম্বর দেশ" বলতে বলতে মুখের ফেনা তুলে ফেলা আমরা যে আস্তে আস্তে সে দেশকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছি, কেউ সেটা খেয়াল করেছেন?

তবুও স্বপ্ন দেখি, একদিন পূজা, খাদিজা, আয়েশার মত কাউকে আর অসময়ে ভুল খবরের শিরোনাম হতে হবে না। বাবা, মেয়েকে হাত ধরে নিয়ে আসবে রেলস্টেশনে, ট্রেন দেখানোর জন্যে, আত্মহত্যার জন্যে না। বাবার হাতের কড়ে আঙুল শক্ত মুঠোতে ধরে রেখে ছোট্ট মেয়ে চোখ রাখবে স্টেশনের ধাতব দুই পাতের মাঝখানের সাদা, চকচকে পাথরগুলোর ওপরে, বাবা শোনাবে রূপকথার গল্প। বাবা আর মেয়ে হেঁটে যাবে কুয়াশা মাখা রেললাইন ধরে। সে দেশে মানুষ শ্বাস নেবে প্রাণভরে, কোনো পশুর অস্তিত্ব থাকবেনা।

এমন দেশের স্বপ্ন দেখি প্রতিদিন...
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×