somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য জবাবঃহাঁসফাঁস সর্বনাশ !!

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় দেখতাম মামা,চাচারা খুব যত্নের সাথে কাগজ কেটে কেটে পরিক্ষার নকল বানাইতেন।নকল গুলো দেখতেও অনেক রহস্যময়!! টানলেই ভাজ খুলে খুলে রাবারের মতন লম্বা হতে থাকে। আর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে গুপ্তধন!! তারা নকল গুলো এত যত্নসহকারে লিখত যেন কোন কাটাকাটি না হয়,যতটা সম্ভব অল্প জায়গায় বেশি লেখার চেষ্টা।গোটা গোটা অক্ষরের হাতের লেখা, যেন অপুর্ব এক শিল্প। আমার প্রাইমারি স্কুল, কলেজের একদম পাশেই হওয়াতে অনেক কিছুই চোখে পরত সেই সময়।পরিক্ষা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাজারো পদ্ধতিতে নকল সাপ্লাই, পুলিশের কনকনে বাঁশির আওয়াজ, মাঝেমধ্যে খাকী পোশাকের পুলিশের থলথলে ভুড়ি বের করে নকল সাপ্লাইকারীদের ব্যর্থ ধাওয়া,আবার
মাঝেমধ্যে নকল ধরা খেয়ে পরীক্ষার্থীর কান্নার আওয়াজ,সব শেষে পরীক্ষার হলের আশে পাশে টোকাই বাচ্চাকাচ্চাদের বিপুল উদ্দীপনায় নকল কুড়ানো।

তখন পরীক্ষা মানেই যেন উৎসবের আমেজ,একজন পরীক্ষার্থীর সাথে কম করে হলেও চার পাঁচজন সহ যোদ্ধা থাকতেই হবে নইলে যেন কোন ক্রমেই পরীক্ষা সফল হবার নয়।সেই সৃতি মনে হইলে আজকাল হাসি পায়। সেই সময়ের মন্ত্রী মিনিস্টাররা কি যে কঠিন হৃদয়ের ছিল।পরীক্ষার্থীদের এত এত কষ্ট দেখে একটুও মন গলতো না,কি নিষ্ঠুর!!!! একটু প্রশ্ন ফাঁস করে দিলে কি এমন হইতো!!!বরং উপরন্তু পকেট মোটা তাজা হইতো।কি যে বোকা ছিল ওরা। তবে আমরা অনেক ভাগ্যবান!!! কি স্মার্ট আর কিউট কিউট সব মন্ত্রী আমাদের!!! দেখলেই গাল টেনে গুদুগুদু করতে ইচ্ছা করে।আমাদের এত্ত কেয়ার করে যা বলার মত না,আমরা না চাইতেই প্রশ্ন হাতে তুলে দেয় পরিক্ষার আগের দিন রাতেই!!!

আসল কথায় আসা যাক,গতকিছু দিন হইলো সবখানেই শুধু একটাই কথা, মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্ন ফাঁস। তারপরেও,এ আর আমাদের দেশে নতুন কী,এই ভেবে চুপ থেকে শুধুই খবরাখবর দেখে যাচ্ছিলাম।
কিন্তু কিছুক্ষণ আগে "জাফর ইকবাল স্যারের" প্রশ্নফাঁস বিষয়ক স্ট্যাটাস পড়তে গিয়ে কমেন্টস এ চোখজোড়া আটকে গেল।আমি যেন থমকে গেলাম
লাইন দুটি পড়ে।দুইবার পড়ে আর পড়তে পারছিলাম না, দুটি বাক্য লিখা, তাতে আবার একশত ঊনষাট টি লাইক পরেছে।লেখাটি এমন ছিলঃ

"আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ঘৃণা করি"

আমি আর পড়তে পারছিলাম না,মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমার কানের কাছে এসে চিৎকার করে লাইন দুটি আওরাচ্ছে বারংবার।আমি কান চেপে ধরে আছি না শুনার জন্য কিন্তু আমি পারছিলাম না,সমস্ত বাধা পেরিয়ে আমার কানে পেরেকঠোকা আওয়াজের মতন বাজছিল লাইন দুটি।এই কথা শোনার জন্যই কি এত এত রক্ত দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের এই দেশ উপহার দিয়েছিলেন ?
এই কথা শোনার জন্যই কি রবিন্দ্রনাথ, নজরুলেরা হাজার হাজার গান কবিতায় এই বাংলার শব্দাদি লিখে গিয়েছিলেন ?

হয়তোবা এর কোন উত্তর আজ আমার জানা নেই।তবে শুধু এতটুকুই বলব আমাদের ব্রেলিয়েন্ট অভিভাবক মন্ত্রীমিনিস্টারদের উদ্দেশ্যে,আপনাদের চিকিৎসার জন্য মাউন্ট এলিজাবেথ এর মতন হাজারো উঁচু উঁচুশ্রেণীর হসপিটাল দাড়িয়ে আছে,আপনাদের সর্দি কাশি হলেও সেইসব হসপিটালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন, কিন্তু আমাদের মতন খেটে খাওয়া মানুষদের তো সরকারী হসপিটাল ছারা আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আপনারা টাকার লোভে যেসব জারজদের আজ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুজোগ করে দিচ্ছেন আর কয়েক বছর বাদেই সেই সব জারজদের হাতে আমাদের মৃত্যু হবে ভুল চিকিৎসায়। আর কত জারজের জন্ম দিয়ে যাবেন। আপনারা সুশিক্ষিত মন্ত্রী মিনিস্টাররা আজ জেনে শুনে জারজের জন্ম দিচ্ছেন,তাইলে মনে রাখবেন ভবিষ্যতে এই জারজেরা জাতির জন্য জন্ম দিবে একদল পশু !!!!

(বিঃদ্রঃ যারা হয়তোবা আমার লেখা পড়ে ভাবছেন মন্ত্রী মিনিস্টার আবার কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস করে ?
তাদের উদ্দেশ্যে বলছি,একপাল ভেড়া খোলাময়দানে ছেরে দিয়ে দেখুন,পালের বড় ভেড়া যে দিকে যায়,ছোট ভেড়ারা ও সেই পথেরই যাত্রী।)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:০৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×