ছোটবেলায় গ্রামে বড় হয়েছি।
আজন্ম দুরন্ত সেই শৈশব কেটেছে সবুজ-শ্যামলা পল্লীবাংলার সবুজ পল্লবে । সেই সময় সারা বিকাল কাটিয়ে দিতাম গোল্লাছুট, বউছি, ডাংগুলি আর কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলে। আর মেয়েরা দেখতাম কুত কুত খেলত। ফুলন গুটি খেলত।
আজ কিছুটা বড় হয়েছি। এসেছি ঢাকা নামক শহরে, দেখেছি স্লোগানে মুখরিত হরতালময় এক আজব শহর। আমি অন্যান্য শহরের কথা বললাম না কারন হরতাল নামক এই আজব জিনিসটার যন্ত্রণা মনে হয় এই শহরের মানুষের চাইতে আর কেউ বেশি ভোগ করে না। আজ মানুষের এমন একটা বদভ্যাস হয়ে গেছে কথায় কথায় হরতাল, কেউ একটু হাসলে হরতাল, কেউ একটু কাঁদলেও হরতাল এমনকি কেউ যদি একটু ভেংচি কাটে তাও নাকি হরতাল। আর যদি কারো স্বার্থে একটু ব্যাঘাত ঘটে তাহলে তো মাশাল্লাহ কথায় নাই। এ কেমন ধরনের গনতান্ত্রিক দেশে বাস করি আমরা? এটা আবার কেমন ধরনের রাজনীতি? কে বা কারা করে এই রাজনীতি? আজ যদি দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করি তাহলে দেখুন কোথায় আছি আমরা!
আজ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। রাস্তায় একটা কুকুর মারা গেলে তার ছিন্ন বিচ্ছিন্ন দেহটা পাওয়া যায়। কিন্তু মানুষ অপহৃত হয়, তার লাশটুকুও তার স্বজনেরা পায় না। অনেক সময় পাওয়া যায় একটা হাত বা একটা পা যা কেউ কখনও প্রত্যাশা করে না। আজ পত্রিকা টিভি চ্যানেল খুললেই চোখে পরে অমুক খুন হয়েছেন তার নিজ বাসায়, তমুক খুন হয়েছেন ভাড়াটিয়া বাসায়, অমুক জায়গায় পাওয়া গেছে বস্তাবন্দি লাশ, তমুক জায়গায় পাওয়া গেছে মস্তকবিহীন লাশ। আজ একটা ছাগল মারা গেলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের সুচারু বুদ্দিমত্তাই বের করতে সক্ষম হন কে সেই ছাগলের খুনি। অথচ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকার এর কোন ইয়ত্তা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাহলে কি সাগর-রুনিরা এভাবেই ঝরে যাবে অকালে নিভৃতে শুধুমাত্র পত্রিকার পাতার সেই ছোট্র শিরনাম হয়ে?এ থেকে আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি হচ্ছে না অবনতি হচ্ছে তারও ধারণা পাই।
ফিরে আসি আসল কথায় । আজ হরতালের কারনে এইচ. এস. সি. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারছে না। রাস্তায় মানুষের চলাফেরা স্তিমিত হয়ে গেছে আর চোখে পরলেও তা খুবই সামান্য । মানুষ যেন এক প্রকার গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। একদল বোকাসোকা লোক লস্কর নিয়ে বিরোধী দল নেমেছে মাঠ চাঙ্গা করতে আর তার বিরুদ্ধে সরকারি দল লেলিয়ে দিয়েছে তাদের পোষা প্রাণী গুলোকে আর নিজেরা এসি রুমে বসে সেই খেলা উপভোগ করছে চরম তৃপ্তি নিয়ে। আর তারা এভাবেই সাপ লুডু খেলছে আপামর জনসাধারনের রক্তের তৈরি এই শ্যামল ক্যানভাসে ।
আচ্ছা, আমরা কি পারি না এই দেশটাকে আমাদের দেশ নয় বরং আমার দেশ ভাবতে? বলুন, পারি না?
১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট্র দেশটাকে ১৫ কোটি মানুষে মিলে একটু ভাল রাখতে? যেখানে জনপ্রতি প্রত্যেকের ভাগে পড়ে মাত্র ০.৯৮৩৮ বর্গমিটার ভূখণ্ড । তাআআআআআআ পারি কিন্তু তা পাইলেও করিনা কারন আমরা বাঙালি আমরা শুধু অন্যকে খোঁচাই তার কোন জায়গায় ঘা, অথচ নিজেদের শরীরে যে পচন ধরেছে তার খোঁজ করার সময় নাই। পত্র-পত্রিকা খুললেই শুধু দেখি পাল্টা পাল্টি বক্তব্য । কেন আমরা নিজেরা কিছু সময়ের জন্যও কি এক হতে পারি না নিজের মায়ের মত এই দেশটাকে একটু ভাল করে সাজাতে আমরা তো পত্র-পত্রিকায় টিভি নিউজে তো নিজেদেরকে একটু বেশিই দেশপ্রেমিক হিসেবে আক্ষা দেই। আমরা তাও পারি না কারন আমরা আমাদের দেশকে এতটাই ভালবাসি যে ভালবাসার সেই স্রোতে কখন যে ভেসে গেছি সেই অথৈ সাগরে তা আমরা নিজেরাও টের পাই নি।
তাই আসুন দেশটাকে ভালবাসি, ভালবাসি দেশের মানুষকে আর নিজেরা অন্যদের দোষ না ধরে নিজেকে নিয়ে সমালোচনা করি এবং নিজেরা শুধরাই আর হরতালের বিকল্প যদি কিছু থাকে সেটাকে খুজি আর তার চর্চা করি তাহলে হয়ত আমরা কিছুটা হলেও ভাল থাকব।
বিঃদ্রঃ আর বেশি লিখবনা । কারন এইটুকুন লিখতেই আমার আমার বারোটা বেজে গেছে । টাইপিংটা একেবারেই পারি না। তাও আবার তিন মাস পরে হঠাৎ করেই লিখা। লিখায় ভুল থাকলে দয়া করে ক্ষমা করবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


