somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঙ্খিত শিক্ষা কই পাই??

২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়া একটা লেখা লিখব বলে ভাবতেছিলাম। আর সেই ভাবনা কে আজকে পূর্ণতা দিচ্ছি। লেখাটার শুরু এবং কারন স্বরুপ ২ টা ঘটনার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।

১)
গত কিছু দিন যাবৎ একটা জিনিস চিন্তা করছিলাম। রবীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুলের মৃত্যুর পর প্রায় ১০০ এর চেয়ে বেশী বছর পেরিয়ে গেল। আবার আইনস্টাইন এর ক্ষেত্রেও ঘটনা একই। স্টিফেন হকিং যাই যাই করে যায়না। এমন অবস্থায় আমাদের মধ্যে থেকে কোনো সারা জাগানো লেখক/বিজ্ঞানী জন্মালো না কেন? সমস্যা কই?

২)
গ্রাম থেকে আমার এক আত্মীয় এসেছিলেন গতকাল। তো জিজ্ঞেস করলেন কলেজে ভর্তি হতে কত টাকা লাগল। তো বললাম সব মিলিয়ে ১৫০০০ এর মত লাগল। এই উত্তরের প্রেক্ষিতে একটা জবাব পেলামঃ
"বড় চাকুরী করে ঘুষ খেয়ে সব টাকা উসুল করবি"
তারপর ভাবলাম, ঘুষ খেতে তো আমার সমস্যা নেই, কিন্তু ধরা তো খাবেন আপনি। কারন আপনার কষ্টার্জিত টাকা তো আমার পকেটেই যাবে। ফতুর আপনি হবেন কুমির আমি হব।

যা এখন ব্যাপক হারে হচ্ছে এবং হবে।

বর্তমান শিক্ষা ব্যাবস্থায় ছেলে মেয়েরা শিক্ষা মন্ত্রী কে গালি দেয়। কারন ব্যাবস্থা টা সৃজনশীল।
কিন্তু সৃজনশীল ব্যাবস্থায় ও সৃজনশীল হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার কারনে সৃজনশীল এর মজা টা উপলব্ধি করা যাচ্ছে না।

বর্তমান শিক্ষার অপর নাম হল অর্থনৈতিক শিক্ষা ব্যাবস্থা, যেখানে শিক্ষা জীবন শেষ করে প্রাপ্ত সার্টিফিকেটের বাজার মুল্য বিভিন্ন কোম্পানির/প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অথবা চেয়ারে বসে ফাইল সাইন করে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে উসুল করা হয় মাত্র।

লেখা পড়া শেষ করে বড় চাকুরীতেই জীবনের স্বার্থকতা। এই শিক্ষায় মোটামুটি শিক্ষিত হয়েছি। এবং এ প্রেরনা যে সমাজের সে সম্পর্কেও ভাল ধারনা পেয়েছি। বর্তমান লেখা পড়া গোল্ডেন এ+ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব প্রচুর মাত্রায় বেশী। পিতা মাতা পুত্র/কন্যার সুখ সমৃদ্ধির জন্য অর্থের পিছনে ছুটতে গিয়ে ভুলে যাচ্ছেন ছেলে/মেয়ে কি কুপথে যাচ্ছেন না সু পথে যাচ্ছেন।।

ভাল ফলাফল আজ হাতের মোয়া। কারন সেই অর্থনৈতিক/রাজনৈতিক প্রভাব। যার কারনে আজকাল ভাল ফলাফল করা ছাত্র ছাত্রিদের রাস্তায় মশার সন্ধান করতে দেখা যায়।।

দালানের ভিত মজবুত না হলে সে দালান যেমন টিকে না, ঠিক তেমনি কোনো ছাত্র/ছাত্রির পড়ালেখার ভীত মজবুত না হলে ভবিষ্যতের যুদ্ধে একসময় না এক সময় হারতেই হবে। গ্রন্থগত বিদ্যা জাতিকে শেষ করে দিচ্ছে, পাস করার চিন্তায় জীবন অস্থির। এ+ পাও, ভাল ভার্সিটি তে চান্স পাও। একটা চাকুরি শুরু কর। আর সেই চাকুরি আর বাচ্চা সামাল দিয়েই জীবন পার করো। শেষ ঝামেলা। ঘুষ নেয়া যে খারাপ সেই চিন্তা আমি করব কেন?? আমার একটা গাড়ি একটা বাড়ি হলেই যে জীবনটা স্বার্থক। এইত সুখ, এইত জীবন।।

এই সমস্যার কোনো সমাধান নেই। রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল জন্মাবে কিভাবে? রাস্তায় বেড়িয়ে কোনো এক মেধাবী শিক্ষার্থিকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে একজন রবীন্দ্রনাথ/নজরুল/নিউটন কেন নতুন করে জন্মাচ্ছে না তা কি ভেবে দেখেছ?? স্বাভাবিক উত্তর টা হওয়া উচিত যে,

-এই বিষয় বইয়ে কোনো প্রবন্ধ পাইনি। দাঁড়ান একটু ভেবে জানাচ্ছি। আর পড়ালেখার ঠ্যালায় সেই ভাবনা মৃত্যুর আগ মুহুর্তেও আদৌ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে আমার নিজের শংকা আছে।

তো এর সমাধান কি হতে পারে তা নিয়ে কিছুক্ষন চিন্তা ভাবনা করলাম।
আমি প্রায়ই কবিতা লেখি। তো কবিতা লিখতে গেলে, কবিতা টা এমনি এমনি আসে না। একটা অনুভতি লাগে। বৃষ্টি নিয়ে লিখতে গেলে বৃষ্টির স্পর্শ লাগে। নাহলে হয় না।।

বৈজ্ঞানিক চিন্তার কথাই বলি, আর সাহিত্য সাধনার কথাই বলি ।তার জন্য প্রয়োজন সময়। উন্মুক্ত চিন্তার সময়। লেখকদের গল্প/ কবিতা পড়িয়ে ছাত্র কে বলা যেতে পারে এরকম একটি কবিতা লিখে আনার জন্য।
বিজ্ঞানের কোনো এক সুত্র পরিয়ে বলা যেতে পারে তা থেকে নতুন কিছু করা যায় কিনা। বা নতুন ধারার কিছু তৈরি করা যায় কিনা। নতুন কিছুর জন্য আলাদা নম্বরের ব্যাবস্থা রাখা যেতে পাড়ে।

যে যা নিয়ে ভাবতে চায়, তাকে তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমি হতে চার কবি, কিন্তু পরিবার ডাক্তার বানাতে চায়, তাহলে আর যাই হোক আমার পূর্ণতা হবে না।

ছোট বেলায় সবাই ঘুষকে ঘৃনা করে অথবা বলে যে বড় হয়ে ঘুষ নিব না। কিন্তু সেই মানুষ গুলাই ঘুশখোর দের কাতারের প্রথম সারিতে অবস্থা করে।। কেন??

মেধাবী ছাত্ররাও এখন ভাত পায় না। কেন??

কারন বাস্তববাদী শিক্ষার অভাব। আমি সৃজনশিল কে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু, সৃজনশীলের আসল ঘটনা কোনো ছাত্র/ছাত্রি উপলব্ধি করতে পারে নি।

যে রিকশ চালায় নি, সে রিকশাচালকের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারবে না। যে কোনো দিন লোডশেডিং এর দাবানলে পড়ে ঘাম ঝরায় নি, সে লোডশেডিং এর প্রতিকার খুজবে না। ভবিষ্যতের কোনো পর্যায়ে গিয়ে আমাদের দ্বারাই দেশ পরাচালিত হবে।

পড়ালেখার অর্থনৈতিক লাভ উসুল কিংবা পকেট ভারী করার কাজে এক সময় আমরাই লিপ্ত হই।

যে সব কীর্তিমান লেখক/বিজ্ঞানীরা অমর হয়ে আছেন তারা কোনো অংশেই কম ছিলেননা।
হ্যা, তাদের হয়ত ভাবনার জগতে ঘুরে বেড়ানোর অনেক সময় ছিল। তারা চিন্তা ভাবনায় কিংবা নিজেদের কাজে সমৃধ ছিল, তাই তারা অমরত্ব লাভ করেছে। আমাদের চিন্তার সময় নেই, তাই আমরা চিন্তা করি না আর এ কারনেই আমরা, বেচে থেকেও জীবনের স্বাদ পাচ্ছি না।

তাই মনে হয় শিক্ষা ব্যাবস্থা কে বাস্তব মুখি করা প্রয়োজন। বইয়ের পাতা না উলটিয়ে, রাস্তায় ১০ মিনিট ব্যয় করেও অনেক শিক্ষা লাভ করা যায়, যা জীবনে কাজে লাগে। লেখা পড়ায় বাস্তবতার ছোয়া আনতে না পারলে, মানুষ জন্মাবে, পড়ালেখা করবে, চাকুরী করবে, মারা যাবে জীবন শেষ করবে।।

নজরুল/আইনস্টাইন/রবিন্দ্রনাথ/হুমায়ুন আহমেদের জন্ম হবে না। তবে নাম মাত্র কিছু ছা পোষা সাহিত্যিক/বিজ্ঞানী জন্মাবে। যারা সেই কাজের মধ্যেও জীবিকার বাহন অর্থ খুজবে।।

সৃজনশীল টা ঠিকই আছে, কিন্তু ভাবের জগতে ভাবনার বড়ই অভাব।। আর যারা ভাববে , চিন্তা করবে তারা আর্থিক ধনী না হলেও জ্ঞানের ধনী হোবে।।

{{ পড়া লেখার উপর ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে লেখাটি লেখা। এই পড়ালেখার অবসান চাই। }}
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১১:৪০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×