somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অশ্লীলতা, ব্যাভিচারের বিরুদ্ধে ওরা কখনো কিছু বলে না কেন?!

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


টিনএজ বয়সের ভাল লাগা, কথিত প্রেম এরপর তা ব্যাভিচারে রূপান্তর। ভয়ংকর এক অবস্থা। পেশাগত কারণে এমন এমন ভয়ংকর, অসভ্য কিছু ঘটনা জানার সুযোগ হয় যার আলটিমেইট পরিণতির কথা ভাবতেই গা শিউরে উঠে। কোন প্রকার চিন্তা-ভাবনা ছাড়া অবাধে তরুণ-তরুণীরা জড়িয়ে পড়ছে ব্যাভিচারে এবং এতে কোন রকম অপরাধবোধ কারো ভিতর কাজ করছে না।

টিনএজ বয়সটিই ভয়ংকর। এই বয়সে যদি অভিভাবকদের কেয়ার থেকে সন্তানরা দূরে থাকে, অভিভাবকরা সন্তানদের চলাফেরা সম্পর্কে সচেতন না থাকে তাহলে অধিকাংশ টিনএজার অনৈতিকতার কবলে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। নৈতিক শিক্ষাবিহীন সমাজে প্রযুক্তি অনৈতিকতার ছোঁয়াকে হাতের কাছে নিয়ে এসেছে। এর পরিণতিতে টিনএজ বয়সে ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়ে সবকিছু হারানোদের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে।

বাঁধাহীন ভাবে এই বয়সে অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া কোন সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। সময়ের ব্যবধানে অবস্থা এমন দাঁড়াবে কোন পরিবার আর এসব অসভ্যতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না এবং এসবকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেয়া হবে। তাতে পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা যে ধ্বংসের মূখে পড়বে তা বলা বাহুল্য। এ অবস্থায় পারিবারিক, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে এসব অসভ্যতার পরিণতি নিয়ে সকলকে সচেতন করতে হবে। কিন্তু সেই ধরনের কিছু কি আছে? নিচের প্রশ্নোত্তরটি দেখুন। প্রশ্নোত্তরটি নেয়া হয়েছে দেশের প্রথম সাড়ির একটি দৈনিক পত্রিকার নারী বিষয়ক সাময়িকির প্রশ্নোত্তর বিভাগ থেকে। উত্তরটি দিয়েছেন সারা যাকের নামের এক কথিত শীর্ষ প্রগতিশীল সুশীল!

প্রশ্ন- আমার বয়স ২৫, বর্তমানে চাকরি করি। আমি যখন দশম শ্রেণীতে পড়ি, তখন আমার সঙ্গে এক মেয়ের পরিচয় হয়। ...একসময় সে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে আমি রাজি হয়ে যাই। কিছুদিন পর তার সঙ্গে আমার শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং সেটা চলতে থাকে। এর পর থেকে আমার মধ্যে অপরাধ বোধ কাজ করে। ওকে আমি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু ও তাতে রাজি হচ্ছে না। বলে এখনো সময় হয়নি বিয়ে করার। আরও পরে বিয়ে করবে। ওর বয়স এখন ১৯। আমি ওকে ত্যাগ করব, না অপেক্ষা করব —কিছুই বুঝতে পারছি না।

উত্তর- সম্পর্ক তো অনেক দিনের। এখন তো বিয়ে হতেই পারে। ঠিক বোঝা যাচ্ছে না মেয়েটি কেন রাজি হচ্ছে না। আপনি স্বাভাবিকভাবে সম্পর্কটা এগিয়ে নিতে চাইছেন, কিন্তু মেয়েটি কেন চাইছে না তা পরিষ্কার নয়। আপনি মেয়েটিকে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে পারেন। তার উত্তর আপনার কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য, আপনি নিজেই পরখ করে দেখুন। তারপর আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।


আমাদের সমাজে আধুনিক ও প্রগতিশীল নামধারী কিছু শ্রেণীর মানুষ (আসলে কি মানুষ?) অলরেডি ব্যাভিচারকে স্বাভাবিক ভাবে নিয়েছে। উপরের প্রশ্নোত্তরটি খেয়াল করুন। ১৫/১৬বছর বয়স থেকে একটি ছেলে ও ১১/১২বছর বয়স থেকে একটি মেয়ে প্রায় ৮/৯ বছর ধরে ব্যাভিচারে লিপ্ত, এরপর একজন বিয়ের কথা চিন্তা করছে কিন্তু অপরজন বিয়েকে এড়িয়ে চলছে। এ অবস্থায় পরামর্শ চাইলে শুরুতেই তাদের কঠিন ভাষায় বলা উচিত ছিল এ ধরনের প্রেম ও ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়ে তোমরা ঠিক করোনি। টিনএজ বা অন্য কোন বয়সে বিয়ে বহির্ভূত কোন সম্পর্ক, ব্যাভিচার ইত্যাদি তো দূরে, কথিত এসব প্রেম-ভালবাসা থেকেও দূরে থাকবে। তোমরা যা করে যাচ্ছ তা এখনই বন্ধ করো। এরপর অন্য পরামর্শ আসতে পারে।

কিন্তু না, সেই ধরনের কোন পরামর্শ নেই। বরং পরামর্শে বুঝা যাচ্ছে এতদিন যা করেছ তাতে কোন অসুবিধা নেই, চালিয়ে যাও। মেয়েটি বিয়েতে রাজী না হলে কি আর করবে, অন্য কাউকে করে নিবে! কথিত প্রেম, ভালবাসা, অসভ্যতা, ব্যাভিচার ইত্যাদির বিরুদ্ধে কোন কথাই নেই!

কোন প্রকার বৈধ সম্পর্ক ও দায়িত্ব ছাড়া টিনএজ বয়স থেকে ৮/৯ বছর ধরে ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়া একটি জুটির পরিণতি যে এই ধরনের হয় এবং এর জন্য যে দায়ী ওই সব কথিত প্রেম ও ব্যাভিচার, তা সারা যাকের ও প্রথম আলো নামের সুশীলরা বলে না কেন? এসব পরিণতির মূল কারণ যা, তার দিকে না যাওয়ার জন্যেই তো যুবক-যুবতীদের প্রথম বলতে হবে। সতর্ক করার পরও ভুল করে যারা সেসব কুকর্মে লিপ্ত হয়ে গিয়েছে তার সমাধান দেখানো যেতে পারে। কিন্তু কথিত প্রেম-ব্যাভিচারের প্রতি আগ্রহী রেখে নষ্ট হয়ে যাওয়া যুবক-যুবতীদের পরামর্শ দিয়ে কি প্রলয় ঠেকানো যাবে? তারা কি সঠিক পথে কখনো আসবে? কেন কথিত সুশীলরা ব্যাভিচার, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কিছু বলে না? তাহলে কি নৈতিক ভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া যৌনতা সর্বস্ব একটি জাতি তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৪
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×