somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতির অপালাপ-১

১১ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাধারণত ভিক্ষুকদের ফিরিয়ে দেই না।
একদিন পল্টনের দিকের কোন রাস্তা দিয়ে কোন একটা কাজ সেরে ভর দুপুরে হাঁটছিলাম। পিছনের দিক থেকে একটা ছেলে এই আংকেল এই আংকেল বলে ডাকছিলো আর পিছন পিছন আসতেছিলো। আমি একটু জোরেই হাঁটতেছিলাম তাই সে আমাকে ধরতে পারছিলো না। ভেবেছিলাম ভিক্ষা চাওয়ার জন্য জ্বালাতনকারী কোন ছেলে হবে তাই পিছনে ফিরেও তাকাচ্ছিলাম না। কখনো এমন করি না, কিন্তু কেন সেদিন এমন করছিলাম তা আজও ভেবে পাই না। রাস্তায় আর কোন লোকও ছিলো না।
প্রায় ৩/৪ মিনিট ধরে ছেলেটা থেমে থেমে এই আংকেল এই আংকেল বলে ডাকছিলো। পিছনে ফিরে না তাকালেও বুঝতে পারছিলাম যে সে আমাকে ধরার জন্য দৌড়াচ্ছিলো প্রায়।
শেষে একটা ধমক দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে পিছনে ফিরে তাকালাম।
একটা হোঁচট খেলাম। ৯/১০ বছরের ছেলেটাকে মোটেও ভিক্ষুক বলে মনে হলো না। দেখতে কালো হলেও শরীর পরিচ্ছন্ন আরর মাথার কালো চুলে তেল দেয়া, জামাটা কমদামী হলেও পরিচ্ছন্ন। আর হাতে একটা আধা খাওয়া আখ। দেখে থতমত খেলেও সামলে নিয়ে প্রায় ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করলাম "কি?"
ছেলেটা আখ চিবাতে চিবাতে সুন্দর একটা হাসি দিয়ে একটা জায়গার নাম বলে জায়গাটা কোন দিক দিয়ে যেতে হবে তা জিজ্ঞাসা করলো, নামটা এতবছর পর মনে নাই। যা ভেবেছিলাম, তাতো হয়ই নাই, বরং...... মনে মনে একটা বড় ধাক্কা খেয়ে ভেংগে চুড়ে গেলাম। কারণটা খুব ছোট হলেও তৎক্ষণাত একটা অপরাধবোধে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো।
জিজ্ঞাসা করলাম ওখানে কেন যাবে। বললো ওখানে একটা কারখানায় তার বাবা কাজ করে। বাবার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে, কিন্তু রাস্তা ভুলে গেছে।
ছেলেটাকে রাস্তা দেখিয়ে দিলাম। আর এরপর আমার দ্রুত গতির অহংকারী হাঁটাটা মাথা নীচু করা স্লথ হয়ে গেলো।
১৯/২০ বছর হয়ে গেছে, ঘটনাটা আমাকে এখনো লজ্জাবনত করে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন যে এসব লাল বদর/বাঙ্গালী পাকিস্তানি (বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে বিকলাঙ্গ) আমাদের সাথে লাগতে আসে?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



১//@দেশ প্রেমিক বাঙালীঃ

তোমাদের মতো জামায়াতি লাল বদরদের/পাকিস্তানি শারমেয়দের/বরাহ শাবকদের.....

এক বছর রাখতে হবে বেলুচিস্তানে। তাহলে তাদের শৈশব থেকে ধোলাই হওয়া মগজ reset হলে হতেও পারে। reset হলে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×