somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাবান্ধা (তেঁতুলিয়া) ভ্রমণ : বাংলাদেশের নদীগুলোকে হত্যা করেছে ওরা।। দুর্ভিক্ষের আশংকা

২৫ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গিয়েছিলাম তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। নদীগুলোর করুন অবস্থা ফুটে উঠলো চোখে। নদী আর সমতল ভূমির মধ্যে নেই কোন তফাৎ। ভারতের তার কাঁটার ওপাড়ে সবুজ আর এপাড়ে ধূসর মাটি। ধান গাছ নেই আবাদী জমিতে। ধান চাষ হচ্ছে নদীর বুকে। নদীর বুক সবুজ আর অববাহিকা ধূলিময়।

এ অঞ্চলে প্রধান নদী তিস্তা, মহানন্দা, আত্রাই, করতোয়া। এছাড়া টাংগন, পুনর্ভবা, টালমা কুলিক, বুড়ি, পাথররাজ ডাহুক প্রভূতি সহ অনেক নদী আছে। নদীগুলোর অবস্থা কেমন ? এই প্রশ্নটি সামনে নিয়ে ছিল আমার বাংলাদেশের সর্ব উত্তর সীমানা বাংলাবান্ধা ভ্রমণ।

# নিজ চোখে যা দেখলাম :
করতোয়া নদীর বগুড়া অংশ থেকে শুরু করে এই করতোয়ারই বাংলাবান্ধায় অবস্থিত একেবারে উত্তর অংশের অবস্থা দেখে গা শিউরে ওঠে। শুধু তিস্তাকে বাদ দিলে অন্যগুলোকে নদী বলতে কষ্ট হয়। আত্রাই, মহানন্দাকে বলা যায় বর্ষাকালের নদী। কারণ ঐ অঞ্চলের জনসাধরণের কাছে শুনে জানলাম এ নদীগুলোতে শুধু বর্ষাকালে পানি থাকে। আর এখন এই চৈত্র মাসে তাকে বলা যেতে পারে ধুলা-বালির নদী । বালির তো নদী হয় না। এখন অন্তত নদীগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করার সময় এসেছে। যথা- ১. পানির নদী এবং ২. বালির নদী। এভাবেই এখন পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের নদী সম্পর্কে বাংলাদেশের স্কুল কলেজগুলোতে পাঠ শিক্ষা দেয়ার সময় এসেছে।
তিস্তা নদী ছাড়া কোন নদীতেই পানি নেই। আত্রাইকে বাদ দিলে অন্য কোন নদীতে বালতি ভারানোর মতো পানি নেই। তবে দু’এক জায়গায় ট্যাপ বা টিউব ওয়েলের পানি নিংড়ানোর ড্রেনের মতো পানি যেতে দেখা যাচ্ছে মহানন্দা নদীতে। এ নদী থেকে ছোট বাটি দিয়ে বার বার একটু একটু করে পানি নিয়ে বালতি ভরানো যাবে। কিন্তু একটা বালতি পানিতে ডুবিয়ে ভরানো একেবারে সম্ভব নয়। ছবিতে দেখুন- একটা কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে এসে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীগণ মোরগ লড়াই খেলছেন মহানন্দা নদীর ঠিক মাঝখানে ।

আর যত ছোট নদীর নাম লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি- তাদের কোনটিতেই কোন পানি নেই। সে নদীগুলোকে দেখে কেউ বিশ্বাস করবেন না যে, এগুলো নদী। বানিয়ে বলছি না। অথবা ইচ্ছে করে পরিকল্পিতভাবে নদীর অবস্থা খারাপ বুঝাতে চাচ্ছি না। নিজ চোখে যা দেখেছি গতকাল (২৪মার্চ-২০১১) তাই শুধু আপনাদের কাছে তুলে ধরছি।

ছোট ছোট প্রত্যেকটি নদীতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। তাই নদীগুলো দেখে একদম আবাদী জমি মনে হচ্ছে এবং সেগুলো এখন কৃষকের কাছে সমতল আবাদী জমি বটে। ভালো করে খোঁজ নিলে দেখা যাচ্ছে এসব নদীতে মাঝে মাঝেই বড় বড় সেতু আছে। এ থেকে বুঝা যায় যৌবণ কালে এ নদীতে অনেক পানি ছিল। তখন এ সকল বড় বড় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আজ সেতুগুলোর কোন কাজ নেই বললেই চলে। এখন সে সকল সেতু অযথায় দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ আর যানবাহন সে সেতুগুলোর উপর দিয়ে চলাচল করলেও তার দরকার নেই। ইচ্ছে করলে সেতু উঠিয়ে মোটরযান চলাচল সম্ভব । তাতে ওই নদীর পানি চলাচলের কোন ব্যাঘাত ঘটবে না। কারণ পানিই নেই সেতুর নিচ দিয়ে পানি চলবে কিভাবে। নদী বলতেই যেখানে পানির ছবি ভেসে ওঠার কথা সেখানে দেখা যাচ্ছে সবুজ আর সবুজ। চিত্রে যে সবুজ দৃশ্যপট চোখে পড়ছে তা আসলে নদীর বুক। পক্ষান্তরে হাজার হাজার একর আবদী জমি পতিত পড়ে আছে। চারিদিকে ধূসর বালুময় পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি ফুঠে উঠেছে। দেখলে মনে হবে পৃথিবীর কোথাওই যেন পানি নেই। নদ-নদী বা সাগর-মহাসাগরের কথা যেন রূপকথার গল্প মাত্র।

# একটি ছোট্ট পর্যালোচনা :
আমাদের নদীমাতৃক দেশের নদীগুলোর এ করুন অবস্থার জন্য দায়ী একমাত্র ভারত। ওরা তাদের সীমানার মধ্যে ছোট বড় বিভিন্ন নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ভারত যে কতটা আগ্রাসী রাষ্ট তার সাক্ষী এ সব নি®প্রান নদী। ওরা (নদীরা) মিথ্যে বলবে না। নদীগুলোকে জীজ্ঞাসা করে দেখুন-। ওরা বলবে পৃথিবীর মধ্যে আমেরিকার ভারতই হবে একমাত্র জঘন্য আগ্রাসী চেতনার রাষ্ট্র। আমেরিকার সাথে তুলনা করলে কোন কোন দিক থেকে ভারত আমেরিকাকেও ছেড়ে যাবে। আমেরিকা একটা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র। কিন্তু দেখুন- আমেরিকার প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোকে এভাবে চিবিয়ে চিবিয়ে খায় না। বরং প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সাথে তাদের অনেক ভালো সম্পর্ক। শুধু আমেরিকা কেন পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যে নদীর পানি বন্ধ করে ভাটির দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেয়। একমাত্র ভারতই সেই জঘন্য চরিত্রের অভিকারী রাষ্ট্র। তার পরেও আমি বুঝতে পারি না কেন বাংলাদেশের সকরার ভারতকে বন্ধু ভেবে তার বুকে মাথা রাখে। অনেকে হয়তো বলবে বন্ধু না, ওটা বাংলাদেশের দাদা রাষ্ট্র। আচ্ছ হোক দাদাও যদি হয় তবে কি কোন দাদা তার ছোট দিদির সাথে এমন আচরণ করতে পারে ? প্রকৃতির সব সম্পদ নিজে ভোগ করবে আর তার ছোট দিদি ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করতে করতে করছে মরবে। এমন দাদা কি কারো আছে ? নিঃশ্চয় নেই। তাহলে আমি ভারতকে কী বলব ? বন্ধু নাকি দাদা ? .......... নাকি শত্র“ ? আর এই শত্র“ রাষ্ট্রটি যখন জাতীসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ি সদস্য পদ লাভ করবে তখন বাংলাদেশের কী অবস্থা হবে জানেন কি ?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৩৩
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন কোন কোন সমস্যাকে মেগা-প্রজেক্ট হিসেবে প্রাইওরিটি দেয়ার দরকার?

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ রাত ৮:৩৮



পদ্মায় সেতুর প্রয়োজন ছিলো বলেই ইহা মেগা প্রজেক্টে পরিণত হয়েছিলো; যখন সরকারগুলো সেতু তৈরির জন্য মনস্হির করেনি, তখন তারা উনার বিকল্প ব্যবস্হা চালু রেখেছিলো (ফেরী ও লন্চ... ...বাকিটুকু পড়ুন

টোলে অবস্থা টালমাটাল (!!!) (সাময়িক)

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ রাত ১০:১৯


গুগল ম্যাপ বলছে আমার বাড়ি ঢাকার উত্তর বাড্ডা থেকে মাওয়ার পদ্মা সেতু হয়ে কুয়াকাটার সমূদ্র সৈকত পর্যন্ত যেতে পারি দিতে হবে ২৯৯ কিলোমিটার পথ। সময় লাগবে ৬ ঘন্টা ৪০... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশেষ মহল কেন মটরসাইকেল রাইডাদের পেছনে লেগেছে !!!

লিখেছেন অপলক , ০৩ রা জুলাই, ২০২২ রাত ১১:২২

আসুন জেনে নেই, ঈদ আসলেই কিছু বিশেষ মহল কেন বাইক রাইডারদের উপর চড়াও হয় ?

আসলে যারা ক্ষমতায় থাকে তারা মুখোশধারী। নির্বাচন সামনে, প্রচুর কাঁচা টাকা দরকার হবে। ভোট কেনা বেচা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি একটি অশিক্ষিত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন তা সবাইকে জানাতে হবে? ১৮+

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২২ রাত ১:৩৩

- ছবিতে- মারিয়া নূর । ফটোশ্যুট - আমার এড ফার্ম।

৩ দিন আগে ফেসবুকে সবাই দেখসে বাংলাদেশ এবি পার্টি ওরফে জামাত-শিবির পার্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু উত্তর আশা করছি,ব্লগারদের কাছে।

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২২ সকাল ১১:৪৩




/ অশ্বথ গাছের নিচে বসার ঘন্টাখানেক আগে গৌতম কি ভেবেছিল?
/ হেরাগুহায় অহী পাওয়ার আনন্দ কে লিখে গেছে?
/ সক্রেটিসকে হেমলকের পরিবর্তে ক্রুসে ঝুলানো হলে কি হতো?
/ নোয়াহ হারারী ধ্যান করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×