somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তার একটাই কথা /আমরা মুক্তি চাই ।। আমরা স্বাধীন হতে চাই ...

১৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রসঙ্গে ,৭১

তখন কার মত এত ঘন বসতি মানুষের ছিল না ।
একটা পাড়া মহল্লা থেকে আর একটা মহল্লার দূরুত্ব ছিল ` এক মাইল দুই মাইল কখনো কথনো তিনের অধিক ,, তাদের ঘর বাড়ি ছিল কাটিয়ার তৈরি (ধানের খর )যাদের একটু টাকা পয়সা ছিল -(তখনকার মধ্যম পরিবার )তারা খরের ধিচে চাটাই (বাঁশের তৈরি ) ।
দিয়ে ঘরবাডি তৈরি করতো ।। 3 চার বছর পর পর চেঞ্জ করতে হত ।

কাটিয়া দিয়ে তৈরি ঘরের একটি পরিবারের ছেলে মজনু (ছদ্দ নাম) ,বয়স ১৪ কিংবা ১৫হবে ।পড়া শুনা তেমন জানে না , দেখতে দেখতে বড় হয়ে যাচ্ছে , তাই এখন কামাই করতে হবে, বাবা মা যখন তাকে কাজে পাঠাতে চায় সে যায় না,বন্ধুদের সাথে ঘুরতে ঘুরতে বখাটে হয়ে গেছে , নিয়মিত নেশা টেশা করতে লাগলো , বাসা থেকে চার আনা (25 পয়সা ) সাথে করে বাজারে গেলেই পেট ভরে খাওয়া যেত ।

এভাবেই চলতে চলতে একদিন এক রিফুজি অফিসারের সাথে দেখা , মহল্লায় এসেছে চোর ডাকাত দের ধরতে ,,হঠাত করেই ছেলেটিকেও সাথে করে ধরে নিয়ে গেল , (যদিও লেখা পড়া জানতো না কিন্তু দেখতে একদম মোটাসোটা এবং দেখতে যুবকের মতই লাগলো )

[প্রেক্ষাপট টা ছিল 71 এর মধ্যবর্তি সময় এবং স্বাধীনতার পক্ষে যারা স্লোগান দিয়েছিল তাদের খুজে খুজে মেরে ফেলা হত ]
ধানায় নিয়ে সবাইকে টাকাপয়সার বিনিময়ে ছেড়ে দিত সেই রিফুজি অফিসার । আটকা পড়ে তাকলো ছেলেটি । তাকে সাথে নিয়ে রিফুজি কলনীতে যেত (থানার পাশেই যে কলনী )
কিভাবে নেশা করতে হবে তাকেও শেখাও হবে নয়তো ছাড়া যাবে না , হুশিয়ার করে দেওয়া হল ছেলেটি কে উদ্দেশ্য করে । বেচারা ছেলেটি !

এরপর নিয়মিত যাওয়া আসা করতে করতে অফিসারের একজন নিয়মিত কর্মচারির মত হয়ে গেল ।।



রিফুজি সাহেব ,,
সে এসেছে পূর্ব বাংলায় ,বাংঙালদের উপর শাসন করতে এবং সেই সুবাদে ছেলেটির সাথে পরিচয় ।।

দেশে যখন যুদ্ধ লাগলো তখন বিদ্রোহীদের খোজাখুজি শুরু হল এবং খুজে পেলে গুলি করে মেরে ফেলা হত ,, যাদের ঘরে যুবক ছেলেরা ছিল এবং যারা লুকিয়ে লুকিয়ে যুদ্ধে প্রতক্ষ এবং পরক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের ঘরবাড়ি ভাংতে লাগলো এবং যুবক মেয়েদের তুলে নিয়ে যেত থাকলো, (অনেক পরিবার সারারাত ঘুমাতো না রাত জেগে তাদের যুবতি মেয়েদের পাহারা দিত ।।)
যদি কোন সুন্দর মেয়েকে ধরে নিয়ে যেত তবে সারারাত মেয়েদের উপর নির্যাতন করে সকালে দড়ি দিয়ে গলায় বেঁধে গাছের সাথে টানিয়ে দেওয়া হত ।

মহল্লার অল্প অল্প লেখাপড়া পড়া জানা কিছু ছেলে বিফুজি অফিসারদের সাহায্য করতে লাগলো !

এরা ছিল খুব দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে
নিজেরা মজা লুটতে এবং মেয়ে নিয়ে ফূর্তি করতে , সব মুক্তি সেনাদের বাড়িঘর দেখাতে লাগলো এবং ঘরবাড়ি ভেংগে টাকা পয়সার ভাগ নিতে লাগলো ।
এভাবে চলতে চলতে একদিন সকাল বেলা রিফুজি হাউজ থেকে সমান তালে গুলি ছুটে আসতে আসতে মহল্লার যত মা বোন ভাইরা খালা খালু দাদিরা ছিল , সবাই কে গুলি করে মেরে ফেললো ।
ছেলেটিও বেছে যায় , লেখাপড়া না জানলেও তার মনে সেই রিফুজি অফিসারদের প্রতি ঘৃনা জমতে থাকলো (ঘটনা যখন শুনছিলাম তখন লোক টি কাঁদছিল ) আমাদের একটাই কথা আমরা মুক্তি চাই ।
(অনেকে বেছে যায় এবং অনেকে বাইরে থাকাতে আবার অনেকে মাটির নিচে শুয়ে থেকে বেছে যায় ।। )
অনেকদিনপর , এতো যন্ত্রনা সহ্য করার পর আর যখন সহ্য করতে পারছিল না ,,
যথন রেডিও তে মুজিব সাহেব কইলো , যার ঘরে যা কিছু আছে তাই নিয়ে এই পাক বাহিনিকে মোকাবেলা করতে হবে ,তখন আমরা সবাই মিলে (যারা যারা সেই হামলা থেকে বেছে গিয়েছিল ) রিফুজি কলনি ঘেরাও করতে যাই । মা চাচা খালা খালু রা সাথে ছিল ,, আমাদের একটাই কথা আমরা মুক্তি চাই , আমরা স্বাধীন হতে চাই ।।। আমরা মরতে চাই না ।।
গল্প শেষ ///

পরের কথা /

যারা যারা সেই বিফুজি অফিসারদের সাহায্য করেছিল , পরবর্তীতে তাদের অনেকে এখন রাজাকার নামে পরিচিত , এবং অনেক রাজাকার মরে গেছে এবং অনেকে বেছে আছে ,, যারা দেশ স্বাধীন করে ফিরে এসেছে তারা মুক্তিযোদ্ধা নামে পরিচিত , এবং এদের অনেকেই এখন আর বেচে নেই ।। আবার অনেকে সেই ভয়াবততার কথা আর মনে করতে চায় না , তাই কাউকে বলে না ।

কিন্তু তারপরেও কথা আছে ,,

অনেক মুক্তিযোদ্ধা কখনো মুখ ফুটে বলেনি যে সেও যুদ্ধ করেছে , কারন সে লেখা পড়া জানে না , নাম লিখতে পারে না ।
কিন্তু সে দেখেছে মহল্লার সেই ছেলেটির (সাহায্য করা অনেক বাঙালি ছিল )এখন অনেক টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ি ।।
দেশ স্বাধীনের পর
যারা আর ফিরে আসতে পারে নি , সেই বাড়ি ঘর গুলো দখল করে নিয়েছে ।।
যারা রাজাকার ছিল অনেক পরিবার জানতো , কিন্তু ভয়ে তারা আর পরে প্রকাশ করে নাই ।


এই ভাবেই সময় চলে যেতে থাকলো ।।
লেখা পড়া না জানা ছেলেটিও এখন বুড়ো হয়ে যেতে লাগলো , প্রথম স্ত্রী ছেড়ে যাওয়ার পর এখন দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে বসবাস /পরের ঘরের ছেলেমেয়ে মানুষ করতে করতে সে এখন বৃদ্ধ ।



আপনি কি জানেন ?বাবা চাচা খালু দের মৃত্যু দেখে সে এখন এলাকায় পাগল নামে পরিচিত ।।

"কিন্তু আমি তাকে মুক্তিযোদ্ধা বলি "

সে রিফুজি কলনী ঘেরাও করতে গেছিল /তার একটাই কথা আমরা মুক্তি চাই। আমরা স্বাধীন হতে চাই ।।

*[সমস্ত লেখাটি মোবাইলে লিখেছি / বানান এবং ভাষাগত ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ] যদিও বা আমি লেখক নই !

নোট : শুনেছি তখনকার রিফুজি কলনী এখনকার ক্যান্টনম্যান্ট নামে পরিচিত !
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×