বিরান প্রান্তর জুড়ে বুনো ঝোপ ছেয়ে গ্যাছে
হাহাকার তোলে বাতাসের বুকে কাপন
পানি নেই, শুষ্ক লগনে পাখিরাও হারিয়েছে
পোকারা করেছে ছায়ারে আপন
_
মেঘের সাথে আড়ি পেতেছে পাহাড় চুড়ো
ছটাক ছটাক বেদনার মরুতে রুক্ষ হাসি
ভুল করে শান্ত হয়ে যায় উচ্ছসিত সমুদ্র
চাদনী কন্যাও অসুখ রাতে হয় বিনাশী।
=============================================
অতঃপর এক বিকেলে এসেছিলো কোকিল
গেয়েছিলো গান, দিয়েছিলো স্বপ্ন স্বপ্নিল
আবার সেই পথে ফিরে এলো মূর্ছনা
দিয়েছিলো সুর, হয়েছিলো বঞ্চনা
_
আর তারপর থেকে শালিক পাখি একাই থাকে
ভাবে আর ভাবে, কতো কি যে ভাবে
দোয়েলের শিসে হারিয়ে যাবে সে
এই শীত যাক যেভাবেই হোক পরের গ্রীষ্মে।
=============================================
হয়েছে সময় খোলস বদলাবার, ডাকছে ব্যাঙ
এঁটো কাঁদা ঘেটে হয়েছি অভিশপ্ত, ধুতে হবে ঠ্যাং
রাত বিরেতে শেয়ালের ডাকে ভয়ে কাপে মুরগীর ছা
অন্ধকার সয়ে সয়ে তীব্র আলোতেও দেখি সব আবছা
_
পৃথিবীর সরু পথে একে একে আসে জঞ্জাল রূপ
সবুজ শ্যামলিয়ার যেদিকেই তাকাই ধ্বংসস্তূপ
কেঁদে কেটে অস্থির অভিমানী সময়েরা বিভ্রান্ত
নিশ্চল বুড়োদের দল চুপ করে রয়, আজি বড্ড ক্লান্ত।
=============================================
মাছরাঙাদের ভিড়ে খুজে ফিরি এক ডাহুক
ফড়িং সাথী ঘাসের ডগায় জমেছে অন্ধকার
ভালোবেসে পাথর দিয়েছে ফুলের আকার
চারিদিকে বিপুলা আবোছায়াতে প্রেমের অন্য রূপ
_
ঐ ছায়াপথ জুড়ে দ্যাখ শুধু চোখ আর চোখ আমারি
তবু তো দিলি ফিরায়ে, অভিশাপ চাঁদ খসে পড়ুক
বিদগ্ধ চুলোর আভাতে পুড়ে পুড়ে হোক অপরূপ
আমি চলে যাই, তবু ঘিরে থাকি কোন এক অপ্সরী।
=============================================
নিরজনও জোস্ন্যা কাব্য লিখেছিলেম তোমাকে ঘিরে
তুমি জোস্ন্যা ভীষণ ভালোবেসে কুড়িয়ে নিলে রসটুকু
আমি আটি ঘিরে রচে যাই একাকী একটি ছায়া
ভুবনপতি দিয়েছিলো সবই তোমায় দেয়নিকো মায়া
_
আমি একে একে এঁকে চলি ভাঙ্গা আয়নার গান
কাচে কাটে ধারে কাটে হাত, পদ্ম ফুল বেচে রয় অম্লান
পাপড়িরা ঝরে যায় হয় না তো দেখা তবু
প্রত্যেক সন্ধ্যায় পাখিরা ফিরে আসে আপন নীড়ে।
=============================================
ঐ রোদ্র পথে আসে না শুকতারা
ক্ষণিকের বন্ধ্যা সময় নিয়ে যায় শুধু
প্রান্তরে প্রান্তরে মাথা কুটে কারা?
জানে পাথরের বুকে ফোটে না ফুল তবু?
_
নিয়তির রেখায় প্রকৃতির ছলা
জেনে শুনে তবু হয় না যে বলা
কোন এক ভোরে ভেবে চলে মরু
এক বুকে ফুটিবে ঘন ঘোর তরু।
=============================================
দাড়কাকের চোখে ভাসে সমুদ্রের উচ্ছাস
ফেনায়িত আকাশের নীল, নিত্যকার অভ্যাস
নেচে চলে ময়ূর পেখম মেলে, আড়ালে নর্তকী
সে মনের ভাবনা কেউ জানে? জানে সেও কি?
_
তবু কেউ ঝলসে যায় জোনাকীর আলোয়
কেউ নদী হয়ে বহে অশ্রু ফোটায়
আর আমি একা একা ভাবতে থাকি
আমার সমগ্র জুরে ধারন করেছি তোমার প্রতিচ্ছবি।
=============================================
বিঃদ্রঃ মডারেটর কে বলছি এই পোস্ট একটু আগেই একবার দিসি কিন্তু ওইটা শো করে না ক্যান? আর গেলই বা কই?
এই খণ্ড কবিতা গুলোই আমার আজকে বিভিন্ন পোস্টে করা মন্তব্য ছিলো। অবশ্য ফেবুতে, তাই ব্লগেও শেয়ার দিলাম।
আলোচিত ব্লগ
Will you remember me in ten years!

উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানুষ

মানুষ আসলে কী?
Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন
শোনো হে রাষ্ট্র শোনো
নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।
আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজব পোশাক

এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন
নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?
ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।