somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বাড়ি ফেরা

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা যখন বেড়ে উঠছি; আমাদের স্বপ্নগুলো বেড়ে উঠছে খাল আর এবড়ো থেবড়ো রাস্তা পেরিয়ে
শহরমুখি। গ্রামের কৃষক মজুর কামার সুতোর ঘরামি জেলেদের ছেলেমেয়ে গ্রামের বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে শহরমুখো হাঁটতে শুরু করেছে। কেউবা আবার রাজধানী মুখি । সেখানেই শিক্ষিত হওয়ার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সময়ে মরা কালীনদীর ধারে ছোটো গ্রামের মানুষগুলো উত্তরসূরীর কাছে আশা করতে শুরু করেছে। সকাল-সন্ধ্যায় আলো আঁধারিতে ঐসব ছেলেমেয়েদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সম্ভাবনার গল্পে আলোড়িত হতে থাকে কালীনদীর ধারের বটতলা বাজার। গ্রামের মানুষগুলোর মুখে আশা আর স্বপ্নের আভা ছড়িয়ে পড়ে। ওরা স্বপ্ন দেখেÑ একদিন কিশোর-তরুণেরা রক্ষা করবে ওদের, সুখী করবে, আর নিজেদের উন্নীত করবে মানুষের উচ্চতায়। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ-ব্যারিস্টার আর বড় বড় অফিসার হয়ে পুলিশের প্যাঁদানি, আদালতের ধাপ্পাবাজি, আষাঢ়ের অভাব থেকে রক্ষা করবে ওদের । গ্রামের মানুষগুলোর রোগগ্রস্থ শরীর তাদের ডাক্তারির ছোঁয়ায় বেঁচে উঠবে।

কয়েক বছর পর গ্রামের সন্তানেরা ফিরে এলো কলেজ পেরিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়িয়ে। কেউ কেউ চলে গেল আরও দূরে। বিদেশে। যেখানে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পাবে তারা। যারা গ্রামে ফিরে এসেছে; তারা জুটিয়ে নিল রাষ্ট্রের আধুনিক সুবিধা স¤প্রসারিত চাকরি। কেউ নিল স্কুলের মাস্টারি, কলকারখানার ম্যানেজারি, পৌরকর্মকর্তাগিরি, ওকালতি, কন্ট্রাকটারি। শিক্ষিতদের এই ধরনের সুবিধাজনক স্থানে আটকে যাওয়ার পরও গ্রামের মানুষগুলো ক্ষীণ আশায় ভর করে চলতে থাকে। অন্য কিছু না হলেও গ্রামে তাদের শিক্ষা , ভদ্র আচরণ দেখে বাচ্চা-কাচ্চারা ভালো কিছু শিখতে পারবে!

সময় গড়ালে গ্রামে ফেরা শিক্ষিতেরা চাকরি-ব্যবসায় অর্জিত নগদ টাকায় গ্রামের মাস্তান, টাউট, বাটপারদের মাধ্যমে মহাজনী কারবার শুরু করলো। আষাঢ়ের অভাব, রোগশোক, চিকিৎসা, পুলিশি মামলা, মেয়ে-বিয়ের যৌতুকের খরচ জোগাতে গ্রামের মানুষগুলো ওদের ঋণের শেকলে আটকে পড়লো। এখন পুরো গ্রামের দরিদ্র কৃষক মজুর কামার সুতোর ঘরামি জেলে চড়া সুদের ঋণের জালে জড়িয়ে গেছে। তাদের ঘরবাড়ি, হালের গরু, সন্তান, বৌ গ্রামে ফেরা শিক্ষিতদের বন্ধকি সম্পত্তি। তারপর গ্রামের মানুষগুলো আর স্বপ্ন দেখে না। তাদের চোখের সামনে কালীনদীর ধারে কুষ্টিয়ার ছোট গ্রাম, বটতলা বাজার, বাবুপুকুর, পশ্চিমের দিগন্ত জোড়া ধানক্ষেত, আমার বেড়ে ওঠার সব সময় শিক্ষিতদের দাপটে কাঁপতে থাকে।

এখন বাড়ি ফিরলে গ্রামের মানুষের স্বপ্ন-থেতলে যাওয়া চোখগুলো পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আমি এখন চোখগুলো এড়িয়ে পালিয়ে পালিয়ে বাড়ি ফিরি। আমার বাড়ি ফেরা হয় ঠিকই ।
কিন্তু সেই গ্রামে আমার আর কখনোই ফেরা হয় না।

লেখক : দেলোয়ার জাহান, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চ.বি।


১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরকালে আল্লাহর বন্ধু, দাস নাকি কয়েদী হবেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:১৪




সূরাঃ ৫১ যারিয়াত, ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৬। আমি জিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৫। আল্লাহ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের আগের রাতে দুই মোল্লার কথোপকথন ( (কাল্পনিক)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২১


এশার নামাজ শেষ হয়েছে বেশিক্ষণ হয়নি। মসজিদের ভেতর রফিকুল্লাহ সাহেব একা বসে আছেন। বয়স বাষট্টি। হাতের তসবিটা নাড়ছেন, কিন্তু গোনা হচ্ছে না আসলে। চোখ গেছে দূরে—বাজারে আলো জ্বলছে, রিকশার ভিড়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর ঈদ কবে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬




সবাইকে ঈদ মুরাবক!

ঈদ কেমন গেলো? পুরো রমজানের দুআা কতটুকু কাজে লেগেছে? বৃষ্টি ভেজা, বজ্রপাতে কোনো ভোগান্তি হয়েছে : প্রিয়জন সব ঠিকঠাক আছে? আহত বা নিহত হয়েছে?? ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৩

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫



সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না বা দাবি করি না। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীদের ষড়যন্ত এবং আমেরিকার খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী দখলের লীলাখেলা।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২



র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী প্রথমেই ধারনা দিতে তৈরি করা হল আল কায়দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×