তুমি রোজ আসো আর হাঁটু মুড়ি দিয়ে বসে থাকো ঘোলাটে মাটিতে,
তোমারি আপন অরক্ষিত সমাধির পাশে।
আমি জানতে চাই তোমার হত্যাকারী কে ?
তোমার আর্তনাদ মৌন বাতাসে মুখ থুবড়ে প’ড়ে রয়
সমাধির বুকে শুঁকনো পাতার মতো;
কলমের আঠালো কালিতে যদি সেই সব তুলে রাখা যেতো
বিশ্ব-গ্রন্থাগারে ইতিহাস স্বরূপ; অনাগত প্রজন্ম--
সমাধির চিহ্ন নিখোঁজ হলেও খুঁজে পেতো আত্মজীবনী তোমার।
পৃথিবীতে প্রথম যখন জন্মেছিলো প্রাণ
সবুজ ঘাসের ডগায় অথবা মানুষের আকৃতিতে,
তোমার শুদ্ধ হাত খানা রেখেছিলে প্রাণের সমস্ত সরল প্রবাহে।
যদিও এককোষী নদী একবার সমুদ্র ছুঁলেই শুঁকিয়ে যায় সৃষ্টির নিয়মে।
তবুও সিদ্ধান্তের প্রতীক হয়েছিলে তুমি;
যতো প্রার্থনালয়, ফসল, বাজার, বাতিঘর, বন্ধুত্ব, রক্ত
উজার না করেই কি করে সফেদ পায়রার ন্যায় চঞ্চল
তবে শুভ্র পালকে ভর করে সমান্তরাল পথে সমুদ্রে যাওয়া যায়।
মানুষের চোখ দিয়ে যতো যুদ্ধ, যতো রোমহর্ষক শিকার
যতো শেকলে বাঁধা ক্ষুধার্ত মানুষের পাঁজর দেখেছি
ভিয়েতনাম, সিরিয়া, ইরাক, সোমালিয়া অথবা নিজ স্বদেশ
তুমি অপেক্ষায় থাকোনি স্রষ্টার অনুমতি পেতে;
সহস্রকোটি সংবেদনশীলতার বৃষ্টি ঝরিয়েছো নিঃশব্দে,
পাহাড়,পাথর, মানুষের মরুভূমিতে;বিস্ফোরক এবং ভিক্ষার থালায়।
জাতিসংঘকে সাহস দিয়েছো প্রতিটি প্রাণের জবাবদিহিতায়।
এ কবিতা আমার দলিল স্বরূপ;
জারজ, এতিম, সংসারি, ধর্মযাজক অথবা নাস্তিক
সকলের বংশ পরিচয় হয়েছো তুমি নিজ সর্বস্ব বিলিয়ে।
প্রাণের প্রতি এতো প্রতিদান দিয়েছো তবুও বিনিময়ে পেয়েছো মৃত্যুই।
আর কতো নিরাপরাধ শাস্তি পেয়ে যাবে তোমার অবর্তমানে।
এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি জানতে চাই
তোমার হত্যাকারী কে ?? হে বিবেক ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



