somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পণ্য(জামদানি এবং………………..) বাংলাদেশের, কিন্তু মালিকানা স্বত্ব ভারতের!

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব অধিকার চুক্তি যা Trade Related Intellectual Property Rights (TRIPS) নামে পরিচিত। এটি বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার(WTO) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি চুক্তি। বাংলাদেশ ২০১১ সালে এবং প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারত ২০০৭ সালে উক্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

প্রত্যেকটি ভৌগোলিক অঞ্চলের কিছু স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ওই স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যগুলো প্রত্যেকটি ভৌগোলিক অঞ্চলকে আলাদা আলাদাভাবে সমৃদ্ধ করেছে। স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যগুলো বিশেষায়িত হতে পারে বিভিন্ন ধরণের পণ্য দ্বারা। তা প্রাকৃতিকও হতে পারে আবার হতে পারে প্রক্রিয়াজাতও। ওই প্রাকৃতিক বা প্রক্রিয়াজাত পণ্যগুলো সমগ্র বিশ্বব্যাপী এর ধারক ভৌগোলিক অঞ্চলটিকে পরিচিত করে তুলে। যা শুধু পরিচিতকরন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওই পণ্যগুলো বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হাতিয়ার হতে পারে। অভ্যন্তরীণ পণ্যগুলোর মধ্যে মুক্তাগাছার মণ্ডা, টাঙ্গাইলের চমচম , বগুড়ার দই ইত্যাদি ইত্যাদি পণ্যগুলোর যেমন চাহিদা এবং সুনাম রয়েছে তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের জামদানি, ইলিশ মাছ, ফজলি আম, নিম গাছ ইত্যাদি পণ্যের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। এই পণ্যগুলোকে আবার ভৌগোলিক নির্দেশিক পণ্য বলে। চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দেশগুলো তাদের নির্দেশক বিভিন্ন পণ্যের স্বত্ব রক্ষার অধিকার রাখে। এতে পণ্যগুলোর বিভিন্ন আইনগত অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে।

২০০৮ সালে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় WTO-এর সহায়তায় ৩টি মৎস্য পণ্য, ১২টি ফল, ১১টি প্রক্রিয়াজাত খাবার, ৮টি শাক-সবজি, ১৪টি কৃষিজাত পণ্যসহ মোট ৪৮টি খাদ্যপণ্য এবং খাদ্য বাদে ১৮টি পণ্য মিলে ৬৬টি পণ্যকে বাংলাদেশের জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আবেদন সাপেক্ষে যে পণ্যগুলোর মালিকানা স্বত্ব বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার(পাঠক পড়তে পারেন, ভারতকে উপহার দেয়ায়) কারণে জামদানি, ফজলি আম, নিমগাছ সহ আরো কিছু বিখ্যাত পণ্যের স্বত্ব ভারতের কাছে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তথাকথিত বন্ধু রাষ্ট্র ভারত এ বছরের শুরুর দিকে মালিকানা স্বত্বের জন্য আবেদন করে এ পণ্যগুলোর স্বত্ব ভাগিয়ে নিয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের বিখ্যাত এ পণ্যগুলো এখন থেকে বিশ্ব বাজারে এদের অবস্থান হারাবে। জায়গা করে নেবে ভারতের দ্বিতীয় শ্রেণীর পণ্যগুলো। ভারতের যুক্তি ছিল, ফজলি আম পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বিখ্যাত আম; নিম গাছ রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ বান্ধব ঔষধি গাছ; জামদানি অন্ধ্র প্রদেশের বিখ্যাত পণ্য এবং অন্যান্য পণ্যগুলোর ক্ষেত্রেও এরকমই খোঁড়া যুক্তি ছিল। তবুও বাংলাদেশ সরকার তখন এর কোন প্রতিবাদ করেনি বা পণ্যগুলোর স্বত্ব নিজেদের দাবি করেনি। অথচ ফজলি আম রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত ফল; নিম গাছ, জামদানি ইত্যাদি পণ্যগুলোও ভারতসহ অন্যান্য দেশ সমূহ বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে থাকে

বাংলাদেশের প্রতি ভারতের এ রকম বন্ধুসুলভ আচরণ আর কতকাল চলবে?! আর আমাদের সরকারও বা ভারতের প্রতি এভাবে আর কত উদারতা প্রদর্শন করে চলবে?


সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৯:১৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিষিদ্ধতার ভেতরেও রাজনীতির স্পন্দন।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:১৪



ফের রাজনীতির মঞ্চে ফিরে আসার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। আর বাংলাদেশের রাজনীতি যাদের চেনা, তারা জানেন- এখানে কোনো অধ্যায় সহজে শেষ হয় না। এখানে পতন মানেই প্রস্থান নয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ও আমরা কেনো ক্ষমা চাইবো‼️আমরা’তো বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



লাল বদরদের আমরা কেন কোনোদিন বিশ্বাস করবো না, পছন্দ করতে পারবো না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচন্ড ঘৃণা করবো, তার একটা ভালো উদাহরণ এই স্ক্রীনশটটা।

সব মানুষ একই রাজনৈতিক আদর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×