somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষকদের দাবিই এখন রাষ্ট্রের ন্যায্যতার পরীক্ষাক্ষণ

০৮ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শিক্ষকদের দাবিই এখন রাষ্ট্রের ন্যায্যতার পরীক্ষাক্ষণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আবারও মাঠে নেমেছেন। তাদের দাবি—দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ। এই দাবি নতুন কিছু নয়, বরং বহু বছরের বঞ্চনার ইতিহাসেরই ধারাবাহিকতা। দেশের সবচেয়ে বিস্তৃত ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব যারা পালন করেন, সেই শিক্ষক সমাজ আজ ন্যায্য মর্যাদার জন্য রাস্তায়। এটি শুধু একটি পেশাগত আন্দোলন নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ন্যায্যতা ও মূল্যবোধের প্রশ্নও বটে।

শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন—সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। যেমন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই), নার্স, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কিংবা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। অথচ প্রাথমিক শিক্ষার মূল দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা এখনও ১১তম গ্রেডে। বাস্তবতা হলো, এই শিক্ষকরা শুধু পাঠদানই করেন না—তারা প্রশাসনিক কাজ, ভোটের দায়িত্ব, জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তাদের মূল্যায়ন এখনও পিছিয়ে।

প্রাথমিক শিক্ষা হলো জাতীয় উন্নয়নের শিকড়। এই স্তরে যদি শিক্ষকরা আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে অবহেলিত থাকেন, তাহলে শিক্ষার মান উন্নয়ন কল্পনাও করা যায় না। একজন প্রাথমিক শিক্ষককে দিনে ৫ থেকে ৬টি শ্রেণি নিতে হয়, শতাধিক শিক্ষার্থীর দেখভাল করতে হয়, তবু তার বেতন কাঠামো অনেক নিচে। অথচ রাষ্ট্রের প্রত্যাশা—তারা যেন “গুণগত শিক্ষা” নিশ্চিত করেন। এই প্রত্যাশা আর বাস্তবের ফারাকই আজকের আন্দোলনের মূল কারণ।

শিক্ষকরা যখন দাবি জানাতে রাস্তায় নামেন, তখন তাদের দিকে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড বা টিয়ারশেল তাক করা হয়—এটি শুধু একটি দুঃখজনক প্রশাসনিক আচরণ নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক পরাজয়ের প্রতীকও। একজন শিক্ষককে যে সমাজে সম্মান দেওয়া হয় না, সেই সমাজে উন্নত মানবসম্পদ গড়ে ওঠে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশনের পারস্পরিক দোষারোপে বিষয়টি ঝুলে আছে মাসের পর মাস। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো ‘প্রক্রিয়াগত’ বিষয় নয়—এটি একটি ন্যায্য দাবি, যা বাস্তবায়ন করাই উচিত ছিল অনেক আগেই।

শিক্ষকদের এই দাবিকে এখন “আন্দোলন” বলে দেখার বদলে রাষ্ট্রের উচিত এটিকে “সম্মানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা” হিসেবে দেখা। প্রাথমিক শিক্ষকরা কেবল চাকুরিজীবী নন; তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নির্মাতা। তাদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা মানে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।

এখন সময় এসেছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার। কারণ শিক্ষকরা যদি বারবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হন, তাহলে শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ে নয়, রাষ্ট্রের বিবেকেও পরাজিত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৪৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×