বাংলার নারীরা - হাতের কাজে সবার সেরা
আমার ছেলেবেলায় গ্রামে খুব একটা যাওয়া হত না।শীত বা গ্রীষ্মের ছুটি, কিংবা কোন বিয়ে বা মেজবানের দাও্য়াত পেলে তখন আমরা গ্রামের বাড়ী ঘুরতে যেতাম। আমি মোটামুটি শান্ত ও লেখাপড়ায় ভাল ছিলাম বলে চাচা-চাচী মামা-মামী আর খালা-খালুজানদের খুব আদুরে ছিলাম। তখনকার দিনে আজকালকার মত নবাবী ষ্টাইলে ড্রয়িং রুম সাজিয়ে রাখার কোন রেওয়াজ ছিলনা।
তবে বসার ঘরের দেয়ালে শোভা পেতো মেয়েদের হাতে করা নানা পদের সেলাই করা ডিজাইন। গাছ-ফুল-পাতার নকসা দিয়ে এক খন্ড সাদা কাপড়ের উপর বিভিন্ন বাক্য লিখে কাঠের ফ্রেমে গেথে দেয়ালে টানিয়ে রাখা হত। ঐসব আয়না বাধানো ফ্রেমে লেখা বেশ কিছু বাক্য আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আবার ওনেক সময় মেয়েরা রুমালে নিজেদের স্বামী বা প্রিয় জনের নাম রংগীন সুতা দিয়ে লিখে দিতেন।
১। পুকুরেতে পানি নাই, পাতা কেন ভাসে?
যার সাথে দেখা নাই, সে কেন হাসে?
২। শিশিরে কি ভিজে বন বিনা বরিষণে?
চিঠিতে কি জুড়ায় মন বিনা দরশনে।
৩। বাপের ঘরে বড় হয়ে পরের ঘরে যেতে হয়,
নারীর বড় শক্ত কাজ, পরকে আপন করতে হয়।
৪। ভাই বড় ধন রক্তের বাধনে,
যদিও পৃথক হয় নারীর কারণে
৫। প্রথম যখন তুমি এসেছিলে ভবে
তুমি মাত্র কেদেছিলে হেসেছিল সবে
এমন জীবন হবে করিতে গঠন,
মরনে হাসিবে তুমি কাদিবে ভুবন।
৬।ভুলো না আমায়
সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে,
৮। দেখিলে মায়ের মুখ দুরে যায় সব দুখ
৯। রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট প্রজা কষ্ট পায়
গিন্নীর দোষে ঘর নষ্ট শান্তি চলে যায়।
১০। ব্যবহারে বংশের পরিচয়।
১১। গোলাপ শুকিয়ে যায় রেখে প্রীতি,
মানুষ মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি।
১২। যাও পাখি বল তারে
সে যেন ভোলে না মোরে!
১৩। যখন তোমার কেউ ছিল না তখন ছিলাম আমি
এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


