somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে প্রতারণাপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন

২৪ শে জুন, ২০১১ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যারা ডারউইনবাদীদের লেখা পড়েছেন তারা হয়ত লক্ষ্য করে থাকবেন তাদের লেখাতে এমন কিছুকে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় যেগুলো আসলে কোনো প্রমাণ নয়। যে কোনো যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনষ্ক পাঠক আমার সাথে একমত হবেন বলেই বিশ্বাস। নিচে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো-

১. ডারউইনবাদীদের লেখাতে যোগ্যতমের টিকে থাকা (Survival of the fittest) নিয়ে আলোচনা করে সেগুলোকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে হয়। অনেকে না বুঝে সেগুলোকেই হয়ত প্রমাণ হিসেবে বিশ্বাস করেন। অথচ “যোগ্যতমের টিকে থাকা” বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ নয়।

২. তাদের লেখাতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ক্যান্সারের উপর গবেষণামূলক কাজকে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে দেখনোর চেষ্টা করা হয়, যেগুলো আসলে মাইক্রোলেভেলের গবেষণা এবং যেগুলোকে বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ বলা যাবে না।

৩. তাদের লেখাতে এরকম দাবি করা হয় যে, বিশ্বের ৯৯ ভাগ বিজ্ঞানী যেখানে বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করেন সেখানে বিবর্তন তত্ত্ব অবৈজ্ঞানিক বা ভুল হওয়ার অবকাশ কোথায়? ওয়েল, এটিও বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ নয়। বরঞ্চ এটি লজিক্যাল ফ্যালাসির মধ্যে পড়ে। তাছাড়া সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের উপর এরকম কোনো পরিসংখ্যানও নেই। এমনকি বিজ্ঞানীদের মধ্যে যারা বিবর্তন তত্ত্বে বিশ্বাস করেন তাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ আছে। একেক জন একেক ভাবে বিবর্তনে বিশ্বাস করেন। ফলে বিজ্ঞানীদেরকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস না করে তাদের উপর কিছু চাপিয়ে দেয়া অন্যায়। সরল একটি অণুজীব থেকে শুরু করে এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ সহ উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগতের বিবর্তনে খুব কম বিজ্ঞানীই হয়ত বিশ্বাস করেন।

৪. তাদের লেখাতে দাবি করা হয় এই বলে যে, বিবর্তন তত্ত্ব যদি মিথ্যা হতো তাহলে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রানীবিজ্ঞানের প্রতিটি পাঠ্য বইয়ে এই তত্ত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকত না এবং বিশ্বের প্রায় সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই তত্ত্ব পড়ানো হত না। ওয়েল, প্রথমত, বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিষয় পড়ানো হয় মানে এই নয় যে সেটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য। দ্বিতীয়ত, সারা বিশ্ব জুড়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণীবিজ্ঞানের প্রতিটি পাঠ্য বই যাচাই করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে পাঠ্য পুস্তকগুলোতে আসলে বিবর্তন তত্ত্ব সম্পর্কে কী লিখা আছে সেটা জানা প্রায় অসম্ভব। তবে এটুকু অন্তত নিশ্চিত করে বলা যায় যে পাঠ্য বইয়ে বিবর্তন তত্ত্বকে “বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য” হিসেবে পড়ানো হয় না। কোনো পাঠ্য পুস্তকে এরকম কিছু লিখা থাকলে যে কেউ প্রমাণ হাজির করতে পারেন। তৃতীয়ত, কোনো ডারউইনবাদী তার লিখিত বইয়ে এরকম কিছু দাবি করে থাকলেও বিবর্তন তত্ত্ব সত্য হয়ে যায় না।

৫. যারা বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধিতা করেন তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে নাকি মূল কারণটি বৈজ্ঞানিক নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাস। এটি একটি মিথ্যাচার। কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বিবর্তন তত্ত্বের বিরোধিতা করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে আমার লেখাতে প্রকৃতি থেকে অনেক মৌলিক উদাহরণ উপস্থাপন করে যুক্তি দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে যে বিবর্তন তত্ত্বের আসলেই কোনো ভিত্তি নেই। এ পর্যন্ত একজনও আমার যুক্তির বিপক্ষে পীয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। প্রমাণ থাকলে নিশ্চয় হাজির করা হতো। এরকম আরো অসংখ্য উদাহরণ উপস্থাপন করা সম্ভব যেগুলোর ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের কোনোই প্রভাব নাই। অন্যদিকে ডারউইনবাদীরা যদি এগুলোর কোনো একটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে বিবর্তন তত্ত্বকে ভুল হিসেবে স্বীকার করতে হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে তারা কোনো একটি ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষ হতে পারবেন না! প্রমাণ দেখাতে না পারলেও বিশ্বাস করতেই হবে!

এরকম উদাহরণ আরো আছে যেগুলোর ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অসচেতন লোকজনকে বিজ্ঞানের নামে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:১৫
২২টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×