somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাগর নদী আর পাহাড় ভ্রমণ

০৯ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের ছাত্র হিসেবে স্থান ও সময়ের আলোকে পরিবেশের সাথে মানুষের সম্পর্ক ও বিভিন্ন তথ্য জানার মাধ্যমে জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে দেখার অনুসন্দ্বিৎসা আমাদের থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের অনুসন্দ্বিৎসা মনের খোরাক জোগাতে আমরা প্রতি বছরের ন্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় এর ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২য় বর্ষে থাকা অবস্থায় গত ০৮ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪ ইং থেকে ১৪ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪ ইং পর্যন্ত দুইজন বিভাগীয় শিক্ষকের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ও একজন বিভাগীয় কর্মচারীর সার্বক্ষনিক সহযোগীতায় বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্য বিখ্যাত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিভাগের তিনটি জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারে একটি সুন্দর ও আনন্দদায়ক শিক্ষা সফরের সুযোগ পাই।
আমরা ০৮ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪ইং সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস থেকে রোজিনা পরিবহনের দুটি গাড়ী করে প্রকৃতির ময়ূরীখ্যাত রাঙ্গামাটির উদ্দেশে যাত্রা করি। চট্রগ্রাম পর্যন্ত ঘুমিয়েই কাটালাম। মাঝখানে অবশ্য কুমিল্লায় ব্রেক ছিল। চট্টগ্রাম পৌছানোর পর আর ঘুম আসে না। কি আর করা জেগেই থাকলাম। রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথেই সবচেয়ে বেশি ভয় লেগেছিল। বাস উপরের দিকে শুধু উঠতেই আছে। আর জায়গায় জায়গায় ইউটার্ণ। রাস্তার পাশে খাদ। একবার ভুল করলেই সোজা.......। সৃষ্টিকর্তার এমন অপরুপ সৃষ্টি দেখে কার না ভালো লাগে! । আনন্দে আতœহারা হয়ে ওঠে এ হৃদয়। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম অন্যান্যদের মধ্যে অনেকেরই একই অবস্থা। অবশেষে পৌছলাম খুব সকালে। বাংলাদেশের একমাত্র রিকশা মুক্ত শহর রাঙ্গামাটির পর্যটন এলাকার আশেপাশে তেমন কোনো রেস্টুরেন্ট না থাকায় কর্ণফুলি নদীর পাশে একটি হোটেলে সকালের নাস্তা সারলাম। অতঃপর রাঙ্গামাটির পর্যটন ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত দুটি নৌকায় স্বচ্ছ পানি আর বাঁকে বাঁকে পাহাড়ের সৌন্দর্যে ভরপুর ১৭২২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই লেক দিয়ে পৌছলাম রাজ বন বিহারে। এ অঞ্চলরে বৌদ্ধ র্ধমাবলম্বীর র্তীথ স্থান এটি। এখানে আছে একটি র্প্রাথনালয়, একটি প্যাগোডা, বনভান্তরে (বৌদ্ধ ভিক্ষু) আবাসস্থল, শ্রাবক বুদ্ধ বনভান্তের লাশের মমী ও বনভান্তরে ভোজনালয়। বিহারের ভিতরে বোরখা ও টুপি মাথায় প্রবেশ নিষিদ্ধ। প্রতি শুক্রবার ছাড়াও বিভিন্নি অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখানে চলে র্প্রাথনা। রাজ বনবহিারে দাঁড়িয়ে উপভোগ করলাম কাপ্তাই লেকের নয়নাভিরাম সৌর্ন্দয। ইঞ্জিন চালিত দুটি নৌকা জলপথে পাহাড়ের বুক চিরে এগিয়ে যাইতে লাগল শুভলং ঝর্নার উদ্দেশ্যে। শ্যালো মেশিনের ভটভট শব্দ ভেদ করে দূর থেকে ভেসে আসা পাহাড়ি পাখির ডাক শুনতে শুনতে পৌছলাম বরকল উপজেলায় অবস্থিত ৩০০ ফুট উচু থেকে আছড়ে পড়া এই ঝর্নার পাদদেশে। যদিও ঝর্নাটি বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময়ে কৃত্রিম উপায়ে চালু রাখা হয়। তারপর কাপ্তাই লেকে অবস্থিত ঝুলন্ত সেতু দেখে খাওয়া দাওয়া করে রওয়ানা দিলাম বান্দরবান জেলা শহরের উদ্দেশ্যে। রাত্রে এসে উঠলাম বান্দরবান শহরে অবস্থিত মাস্টার গেস্ট হাউস হোটেলের ২১৪ নং রুমে। পরদিন সকাল বেলা যাওয়ার পালা বান্দরবানের নীলগিরিতে। নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র পাহাড় চুড়ায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট ওপরে অবস্থানের কারনে এই স্থানটি সর্বদা মেঘমন্ডিত থাকে। পর্যটকের হাতের মুঠোর ফাঁক দিয়ে ঘুরে বেড়ায় মেঘদল। আর তাই মেঘ স্পর্শ করার আশায় সকালে চান্দের গাড়ীতে করে রওয়ানা দিলাম সেই মেঘের টানে। এখানে মেঘের সাথে লুকোচুরি খেললাম অনেক সময় ধরে। মেঘ স্পর্শ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরার পথে গেলাম পাহাড়ি ঝর্না শৈল প্রপাত। ঝর্না থেকে গড়িয়ে পড়া জলরাশির ¯্রােতের কারনে বিপদজনক হয়ে ওঠা এ ঝর্নায় না নামাই ভালো। দুপুরে হোটেলে খাবারের পর পরন্ত বিকেলে চলে গেলাম শহর থেকে ০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্বর্ণমন্দিরে। যদিও ভারতের অমৃতসরে অবস্থিত শিখ ধর্মের প্রচার কেন্দ্র স্বর্ণমন্দির আর এই স্বর্ণমন্দির এক নয়। তবুও বিকেলের রৌদ্রে এই মন্দির যে রূপ ধারন করে তা ভুলে যাওয়ার মতো না। স্বর্ণমন্দির থেকে ফিরে বিকেলে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখার পাশাপাশি কম দামে অত্যন্ত সুস্বাদু পাহাড়ি ফলমুল খেয়ে চলে আসি হোটেলে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। অবশেষে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স ঘুরে আমরা চলে গেলাম কক্সবাজার। সকালে ঘুম থেকে উঠে সমুদ্র সৈকত দেখে সারাদিন Field work করার পর বিকেল বেলা লাবণী পয়েন্টে হেটে সমুদ্রে পানির গর্জন শুনতে শুনতে আর নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসা সৈকত সংলগ্ন এলাকার ছোট ছোট দোকান থেকে কিছু পণ্য ক্রয় করার পর রাত্রে হোটেলে ফিরি। পরের দিন গেলাম কক্সবাজার থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত ইনানী সমুদ্র সৈকতে। পরিস্কার পানির জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে সমুদ্র স্নান এর জন্য উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত। ইনানী থেকে হোটেলে ফেরার পথে হিমছড়ি হয়ে আসার রাস্তাটির একদিকে সবুজ ঘেরা পাহাড় আর অন্য দিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্ঠি করে। কক্সবাজারে দুই দিন থাকার পর টেকনাফ হয়ে চলে যাই বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনের জায়গা সেন্টমার্টিন দ্বীপে। জীবনের প্রথম জাহাজে ভ্রমন আর নাফ নদী থেকে বঙ্গোপসাগর তারপর সেন্টমার্টিন, সে এক দারুন অনুভুতি।
প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট উত্তর -দক্ষিনে লম্বা এবং ৭ হাজারেরও বেশি লোকের বসবাসকৃত দ্বীপটির পূর্ব, দক্ষিন ও পশ্চিম দিকে সাগরের অনেক দূর পর্যন্ত অগনিত শিলাস্থুপ আছে। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে সেন্ট মার্ন্টিন্স দ্বীপের গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার। ভৌগলিকভাবে এটি তিনটি অংশে বিভক্ত। উত্তর অংশকে বলা হয় নারিকেল জিনজিরা বা উত্তর পাড়া। দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় দক্ষিণ পাড়া এবং এর সাথে যুক্ত রয়েছে দক্ষিণ-পুর্বদিকে বিস্তৃত ছেড়া দ্বীপ। এ দ্বীপটির প্রধান গঠন উপাদান হলো চুনাপাথর। দ্বীপটিতে কিছু কৃষি উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।১২ ও ১৩ ই ফেব্রুয়ারী সেন্টমার্টিনের সমুদ্র পৃষ্টে ফুটবল খেলা, সাগরের লোনা পানিতে দীর্ঘক্ষন গোসল, গ্রাম গুলো ঘুরে দেখা, আর দ্বীপের চারদিকে লোনা পানি অথচ দ্বীপে স্বাদু পানি, সৃষ্টিকর্তার কি অপরুপ সৃষ্টি তা চিন্তা করতে করতে ১৪ই ফেব্রুয়ারী সকাল বেলা ফিরে এলাম সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে ভরপুর আর অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত প্রানপ্রিয় ক্যাম্পাসে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×