এস এম সামছুর রহমান, বাগেরহাট
সুন্দরবন সন্নিত উপকুলীয় জেলা বাগেরহাটে মরে গেছে ১৮ টি নদী । এ জেলার ৯ টি উপজেলার বুক চিরে বহমান এ সব নদীতে এখন আর লঞ্চ Ñস্টিমার ও কার্গো চলা চল করতে পারছেনা । এ নদী গুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে ভাটার সময় নদীতে হাটু পানিও থাকেনা। শুকিয়ে যাওয়া এসব নদী দেখে এজনপদের মানুষ এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন Ñহাতড়ে বেড়ান নিকট অতিত। বর্তমান সরকারের আমলে অতীত ও বর্তমান পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের দুই সচিবের বাড়ি বাগেরহাট জেলায় হলেও এসব নদী সরকারী ভাবে ড্রেজিং বা খনন করে সচল করার নেই কোন দৃষ্যমান উদ্যোগ।
এ জেলায় পলি জমে মরে যাওয়া ১৮ টি নদী হচ্ছে পুটিমারী, বিষনা, দাউদখালী, মংলা, ভোলা, ঘষিয়াখালী, কালিগঞ্চ Ñখোন্তাকাটা,রায়েন্দা , বলেশ্বর,ভৈরব,তালেশ্বর Ñ ভাষা, বেমরতাÑ দোয়ানিয়া, কুচিবগা ,ছবেকী, রাওতি, বেতিবুনিয়া, কলমী ও দোয়ানিয়া। এছাড়া অতিরিক্ত পলি জমে মরে গেছে এজেলার দু’শতাধিক ছোট Ñবড় খাল।
এসব নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে একদিকে মংলা বন্দরের সাথে সারা দেশের সহজে কারগোসহ নৌ যোগাযোগ বন্দ হয়ে গেছে । এখন চলছেনা ঢাকাÑখুলনা স্টিমার ও ঢাকা Ñবাগেরহাট লঞ্চ সার্ভিস । অন্য দিকে নদী Ñখাল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কৃষকরা চাষাবাদ করতে শুস্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেনা । আর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় প্রতি বছরই কৃষকের ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে ।
এ জেলায় লাখ লাখ হেক্টর ফসলি জমি ও খালে ভেড়ী বাধ দিয়ে অপরি কল্পিত চিংড়ি চাষের ফলে ফসলি জমিতে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি না উঠতে পারাসহ ও পানি উন্নয়ন র্বোডের (ওয়াপদা) ৫ টি পোল্ডারের ১৬৫ টি ¯¬ুইচ গেটে সরকারী ভাবে কোন লোকবল নিয়োগ না থাকায় ভাটার পানি নামার সময় ফ্লাপগেট গুলো সব সময় বন্ধ থাকছে। অন্য দিকে ফারাক্কা বাধের কারনে এসব নদী গুলোতে উজানের পানি না আসার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জোয়ারের পানি স্থির হয়ে থাকায় অতিরিক্ত পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে নদী Ñখাল। একারনে সমুদ্রের লবনাক্ত পানি দ্রুত ভাটায় নেমে যেতে না পারায় ফসলি জমিতে মাত্রাতিক্ত লবনাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে । হ্রাস পাচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি। মরে শুকিয়ে যাচ্ছে বাগেরহাটের সবুজ প্রকৃতি ।
বাগেরহাটে অতিরিক্ত পলি জমে শুকিয়ে যাওয়া নদী ড্রেজিং ও খননের বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন র্বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খলিলুর রহমান জানান ,মংলা বন্দর থেকে ঘষিয়াখালী নদী হয়ে বন্দরের সাথে সহজ যোগাযোগের এই রুটটি সচল রাখতে রামপাল উপজেলা সদর সংলগ্ন নদীতে এবছর ড্রেজিং করা হয়েছে। ড্রেজিংয়ের পরপরই অতিরিক্ত পলি জমে নৌ রুট টি পুনরায় বন্দ হয়েগেছে । সরকার এই নৌ রুটটি আবারও ড্রেজিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছে। ভরাট বলেশ্বর নদীর খননের কাজ শুরূ হয়েছে। অন্য ভরাট নদী গুলো খনন বা ড্রেজিংয়ের বিষয়ে সরকারী কোন সিদ্বান্ত গ্রহন করা হয়নি। চলতি অর্থ বছরে ২৩কোটি ৩৭ লাখ টাকার অধিক ব্যয়ে ৬৬ টি খাল খননের প্রস্তুংাব পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।##
এস এম সামছুর রহমান
০১৯১৭৭৬৩০৭৭
আলোচিত ব্লগ
পরিস্থিতি কি জটিল?

আজকের ডায়েরী- ২০৩

খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন
Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা
সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥


শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ
সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।