আমি আজ(১৯ এপ্রিল ২০১৩) সকালে ঢাকা চিড়িয়াখানা তে যাই, আমার সাথে আমার ২জন সহকর্মী ছিলেন । তো সকালে বাসা থেকে না খেয়ে আসার কারণে চিড়িয়াখানা ঢোকার পর ভাবলাম কিছু খাওয়া দরকার | তখন কিউরেটর অফিস এর পার্শের কেন্টিন টাতে খেতে গেলাম | ফুসকা দাম শুনলাম ৪০ টাকা যদিও সেটা একটু বেশি অন্য দের তুলনায় তারপরও আমরা ৩ টা ফুসকার অর্ডার দিলাম আমাদের কাছে অনুমতি ছাড়াই তারা ৩ টা ক্লেমন এর ক্যান খুলে নিয়ে আসল আমরা ভদ্রতা রক্ষার্থে কোন কিছু বললাম না | ভাবলাম ক্যান এর গায়ে লেখা আছে ২৫ টাকা, তো কত আর বেশি নিবে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় হয়তো নিবে | কিন্তু খাওয়া শেষে আমরা বিল দিতে গিয়ে দেখালাম আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল, প্রতিটি ক্যান এর দাম নাকি ৬০ টাকা | আমরা জানতে চাইলাম কেন এত বেশি এটা কি বাংলাদেশ এর বাহিরের কোন রাষ্ট্র তারা বলল না এখানে এটাই দাম এটাই নিয়ম কিউরেটর অফিস নাকি এই নিয়ম করে দিয়েছে, চাইলে আমরা কমপ্লেইন করতে পারি | সুতরাং আমাদের ৬০ টাকা করে দিয়েই আসতে হল | আমাদের যেখানে ক্যান এর জন্য দেবার কথা ছিল ৭৫ টাকা সেখানে আমাদের দিতে হলো ১৮০ টাকা যা কিনা ৩গুন এর মত ।
তখন আমরা ভাবলাম টাকাটা কোন বিষয় না কিন্তু এটা তারা সব মানুষের সাথে করছে এবং করবে যেটা হয়তো একজন সচেতন মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন |
তাই আমরা কিউরেটর অফিস এ গেলাম , দেখলাম ডেপুটি কিউরেটর আছেন, ওনার রুম এর পিওন কে বললাম আমরা কমপ্লেইন করতে এসেছি তখন পিওন ডেপুটি কিউরেটর এর রুম এ যাবার পর ফিরে এছে বলল যে উনি এখন ব্যস্ত আছেন আপনাদের বসতে হবে । যখন পিওন ভিতরে গিয়াছিল তখন দরজার ফাক দিয়ে দেখলাম উনি টিভি দেখছিলেন। যাইহোক যদিও বলেছিলেন বসতে হবে কিন্তু আমাদের বসার কোন জায়গা ছিল না তাই আমরা দাড়িয়ে থাকলাম | ওনার টিভি অনুষ্ঠানে মনে হয় একটা বিজ্ঞাপন বিরতি এসেছিল তাই হয়তো আমদের কথা উনি শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করে ছিলেন কারণ আমরা তখন বাহিরে দাড়িয়ে ছিলাম এবং তিনি ততক্ষণ এ বুঝে নিয়ে ছিলেন যে আমরা কথা না বলে যাবনা । আমাদের ভিতরে ডাকা হল আমরা গেলাম কিন্তু ওনার মনোযোগ ছিল টিভির উপর, টিভির সাউন্ড অনেক বেশি ছিল আমরাও নাছর বান্দা, আমরাও জোরে ভদ্রতার সহিত ওনাকে ঘটনা টা বললাম | এখানে কিভাবে একটা জিনিস এর দাম ৩গুন নেয়া হয় এটা নাকি আপনারই রেট্ করে দিয়াছেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন হা আমরা রেট্ করে দিয়েছি কিন্তু এত বেশি নয় কিছু বেশি | কেন কিছু বেশি এই প্রশ্ন টা এর করলাম না | কিন্তু এত বেশি নেবার কারণ বা তাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আমাদের বলেন আমাদের লিখিত আবেদন পত্র দিতে হবে তারপর উনি তাত্ক্ষনিক ব্যবস্থা নিবেন | ভাবেছিলেন হয়ত এটাকে ভেজাল মনে করে চলে যাবে কিন্তু আমরা এর শেষ দেখতে চাইলাম আমরা একটু পর একটা আবেদন পত্র লিখে জমা দিলাম | কিন্তু আমাদের শেষ দেখার ইচ্ছে ইচ্ছেই থেকে গেল | জমা দেবার পর উনি আমাদের বললেন উনি ব্যবস্থা নিবেন তবে জমা দেওয়ার আগে উনি আমাদের বলেছিলেন instant ওনি ব্যবস্থা নিবেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওনার ব্যবস্থা আমাদের আর দেখা হল না | দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের যা করণীয় ছিল সেটা আমরা করেছি।বাকিটা যাদের দায়িত্ব ছিল সেটা তারা কতটুকু করেছে বা করবে কিনা জানিনা । তবে প্রতিদিন অনেক মানুষ ওখানে এমন ডাকাতির শিকার হচ্ছে | আর বাংলাদেশ এর মানুষ সব কিছুই মেনে নেওয়ার অভ্যাশ বসত সব মেনে নিচ্ছে | আর মেনে নেওয়া ছাড়া কিবা করার আছে |
আবেদন পত্রের একটা ছবি আমরা মোবাইল ক্যামেরা দিয়া উঠিয়ে রেখেছিলাম যেটা নিচে দেওয়া হল |
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১০:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



