somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনটাই হলো ঋণ মুক্তির এক অভিযাত্রা...

২১ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঋণগ্রস্থ জীবন হচ্ছে অভিশাপ। আর ঋণমুক্ত জীবন হচ্ছে আশীর্বাদ। একজন ঋণগ্রস্থ মানুষ হচ্ছে পরাধীন , তিনি কখনো মুক্ত স্বাধীন জীবনের আনন্দে অবগাহন করতে পারেন না যতক্ষনে না তিনি ঋণমুক্ত হতে পারছেন। ঋণ হচ্ছে পিছুটান যা সামনে অগ্রসর হতে দেয়না। এর জ্বালাটাও ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারেনা। যদিও এখন আমাদের ঋণগ্রস্থ করার জন্য চারপাশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পরামর্শ ও অর্থে ফুলেফেপে উঠা বিবিধ প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। তাদের মাথায় একটাই চিন্তা কি করে মানুষকে ঋণে জর্জরিত করা যায়। কি করে স্বাধীন দেশের মানুষকে পরাধীন করা যায়। স্বাধীনতা শুধু ভৌগলিক হলে হয়না, সামাজিক, আর্থিক, শিক্ষা, মানবিক এসব ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা জরুরী। না হলে ভৌগলিক স্বাধীনতা কতটা অর্থবহ হয় আমি জানিনা।

তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ঋণগ্রস্থ হওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্ত হওয়া উচিৎ ছিলো এর উলটো। এসবের ধারাবাহিকতায় চালু হয়েছে ম্যারেজ লোন, হানিমুন লোন, কার লোন, শুধু ফুটানী লোন চালু হতে বাকি। একবার বরশী গেলাতে পারলে টেনে তোলার দ্বায়িত্ব তাদের।

অথচ নবীজী (স) তিনি যে সকল নেতিবাচক বিষয় থেকে স্রষ্টার কাছে পানাহ চেয়েছেন তাঁর মধ্যে এই 'ঋণ' অন্যতম। নবীজীর কথা বললাম এ কারণে আমি যে আস্তিক এটা বোঝাতে। শুধু নবীজী কেনো কোনো সফল মানুষই ঋণ নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়নি।

পক্ষান্তরে দেখবেন তথাকথিত স্টার যারা তাঁরা মরে যাওয়ার পর দেখা যায় বিলিয়ন বিলিয়ন ঋণ করে রেখে গেছেন। আমাদের দেশের ঋণ ব্যবসা এত জমজমাটের কারণ হচ্ছে এ দেশের নারীরা বেশ সহজ সরল তাঁরা অল্প মিষ্টি কথাতে ভুলে যায়। যার কারণে খুব সহজেই জড়িয়ে যায় ঋণ নামক ফাঁদে।

অনুসন্ধান করলে দেখা যায় ঋণের টাকা বেশীর ভাগই ফুটানিতে ব্যয় হয়। একজন রিকশাওয়ালা ঋণ নিয়ে কখনো নিজের জন্য একটি রিকশা কিনেনা, কিনে টিভি, ভি সি ডি প্লেয়ার। আমার দেখা অবিজ্ঞতা থেকে একটু শেয়ার করছি-- বেশ ক বছর আগের কথা,

তখন আমার মাথায় একটি বাতিক চেপেছিলো একটি ফলজ, বনজ, মৎস প্রোজেক্ট করবো সেখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে। অবকাশ যাপনের জন্যও হবে একটি মনোরম স্থান। তো সে লক্ষেই একত্রে বড় এক খন্ড জমি খুঁজতে যেয়ে পরিচয় হয় এক ব্যবসায়ীর সাথে। নামটি আর এখানে উল্লেখ করলাম না। তাঁর পাজেরো গাড়ী আছে, ৮ তলা উন্নত মোজাইক ও টাইলস সেটিংস বাড়ি আছে, বাড়ির সামনে রাস্তায় আছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। বাড়ির সামনে থেকে কে যায় কে আশে তাও রেকর্ড থাকে। আছে অনেক গুলো পণ্য পরিবহণ গাড়ী। তখন জুট মিল তৈরির কাজ চলছে। আছে বরফ ফ্যাক্টরি, আছে মাছ কম্পানি। এবং তাঁর কম্পানির সকল মাছ রপ্তানি করা হয় বিদেশে। আছে একটি দৈনিক পত্রিকা যা ঐদিনই তাঁর বাসায় যেয়ে নাম শুনি কেউ পড়ে কিনা আমার জানা নাই।

এত কিছুর পর একত্রে ১০০ বিঘা জমি কেনো বিক্রয় করবে জানতে চাইলে... যা বললেন তিনি মানি ব্যাগ থেকে একটা অচেনা ছবি বেড় করে দেখিয়ে বললেন এটি আমার ছবি ১ বছর আগের। চেনাই যাচ্ছেনা এটি তাঁর ছবি। বললো এই এক বছরে আমার ওজন অর্ধেক হয়ে গেছে রাতে ঘুমাতে পারিনা, সক্ষ্যতা হয়েছে ডায়েবেটিস এর সাথে । পরিবারের শান্তিও পালিয়ে গেছে। এর মূল কারণ হিসাবে তিনি “ঋণ”কে দায়ী করেছেন। আমার সাথে যেদিন দেখা সেদিন পর্যন্ত তাঁর প্রতিদিন দের লাখের মত সুদ বাড়ছে। কিন্তু কেমন করে যেনো এই ঋণের জাল ছিন্ন করে বেড় হতে পারছে না। দেশের অন্যসব সম্মানিত ঋণখেলাপির মত হজমও করতে পারছে না। এজন্যই প্রিয় জমি বিক্রয় করবে। তারপরে মিল ফ্যাক্টরি বিক্রয় করবে। খুব কাছ থেকে সেদিন দেখেছিলাম এবং উপলব্ধি করেছিলাম ঋণের অভিশাপকে। উপর থেকে সব কিছু চকচক করলেও ভিতরে না ডুকলে বোঝা যায়না। যদিও আমার সে প্রোজেক্টটি করা হয়নি। কারণ, জীবনের হুইলটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম।

দেশের সেরা ঋণখেলাপিদের দিকে যদি তাকাই একটু যারা খোঁজ খবর রাখেন তাঁরা হয়তো সহজেই বুঝে যাবেন আমি কি বলতে চাচ্ছি। মানুষের অর্থ চুরি ডাকাতি করে শান্তিতে থাকার কথা নয়। আমি এখানে প্রতেক্যের নাম উল্লেখ করে বিবারন দিয়ে বলতে পারি... কিন্তু তখন ব্লগে প্রকাশে বিব্রত হতে হবে কর্তৃপক্ষের। শুধু এটুকু বলি একজন মানুষ যখন তাঁর দুটো ছেলে মেয়েকেই অপঘাতে মৃত্যু হতে দেখে তাঁর জিবনে আর কি বাকি থাকে। তাঁর সম্পদের কি ই বা মূল্য থাকে।

ঋণ আসলে সুখ শান্তির নিশ্চয়তা তৈরি করেনা বরং তৈরি করে অনিশ্চয়তা। যারাই বেশি অশান্তি সৃষ্টিতে কাজ করতে পারে তারাই শান্তিতে এওয়ার্ড পায়, যারা বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে পারে তারাই মানবাধিকার প্রাইজে ভূষিত হয়।

যে কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকার কালোরা আজও পায়না তাঁর অধিকার , ফিলিস্থানে ক্ষুধার্ত শিশুরা এখনো রেশনের জন্য জাতিসঙ্ঘ তাবুতে অপেক্ষা করে, মায়েনমারে নির্বিচারের চলে গনহত্যা, দারফুর ও সোমালিয়ায় পায়ের তলায় হীরকের ক্ষনি নিয়ে লক্ষ মানুষ দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, তলস্তয়রা খালি পকেটে পথের ধারে মরে থাকে আর সম্মানিত হয় রুশদিরা, প্রয়াত বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এদের জন্ম মৃত্যু সাফল্য সম্মান পত্রিকায় শিরোনাম হয়না। শিরোনাম হয় হলমার্ক...।

আর এসবকে পুঁজি করে অন্যদিকে চলছে মেডেল ও এওয়ার্ডের মহাৎসব। এটাই এখন নিয়ম হয়ে গেছে যারা এই সাদা টুকু বুঝতে পারেনা তাদের কালো অন্ধকার থেকে বেড় করার দ্বায়িত্ব কেউ নিতে পারেনা। সত্য সব সময় নির্মম যা মানতে কিছুটা কষ্ট তো রয়েছেই।

এত গেলো আর্থিক ঋণের কথা... ঋণ কি শুধু অর্থের?

যে মা বাবার কারণে পৃথিবীর মুখ দেখেছি তাদের ঋণ নিয়ে কি চিন্তা করি? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়তে পড়াশুনা করেছি জনগনের টাকায়। সেই জনগনের ঋণ কি শোধ করেছি সর্বাত্তক সেবা দিয়ে ? নাকি ফাইল আটকিয়ে টেবিলের নিচ থেকে সে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছি? যে দেশের মাটি পানিতে বড় হয়েছি হৃদয়কে প্রশান্ত করেছি সেই দেশের ঋণ কি শোধ করেছি? যাদের কারণে আজ বাংলায় কথা বলি বা দেশ স্বাধীন পেয়েছি তাদের রক্তের ঋণ কি শোধ করেছি---অন্তত একবার অসহায় রুগিকে রক্ত দিয়ে?

যে কৃষক আমাদের অন্ন জোগায় কখনো কি কাদামাটি মাখা অবস্থায় বুকে জড়িয়ে ধরেছি? যে গাছ অক্সিজেন দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে ? সে অক্সিজেন তৈরিতে বর্ষা এলে অন্তত একটি গাছ কি রোপণ করেছি?

আসলে মানব জীবনটাই হলো ঋণ মুক্তির এক অভিযাত্রা...

১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চরিত্রহীন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬


নিপীড়িত ভেবে যাকে করে যাবে মায়া,
সর্বস্ব বিলিয়ে দেবে যার উপকারে;
কলির সন্ধ্যা কাটলে পাবে না তো তারে,
সে তখন হয়ে যাবে নিশ্চিন্ত প্রচ্ছায়া।
যাবে না ধরা হাঁটলেও সে কাছে-ধারে;
ভুজঙ্গের ন্যায় দেখাবে বিষাক্ত কায়া,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×