somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট্র বারান্দা

১৯ শে মে, ২০১৪ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং পড়াশুনার চাপটা একটু বেশী। বেশ কয়েকটা বীশ্ববিদ্যালয়ের ভতির্ পরীক্ষা সামনে চলে এসেছে। আসাদ খুব চেষ্টা করছে একটা ভালো কোথাও চান্স পাওয়ার জন্য। বিন্দু আসাদকে আনেক উৎসাহ দেয়। বেশীরভাগ সময় ওরা দুজন একসাথে এক টেবিলে পড়াশুনা করে। আসাদ যতটুকু পাড়ে বিন্দুকে পরাশুনা দেখিয়ে দেয়। যদিও আসাদ খুব ভালো ছাএ না, তারপরও যতটুকু পাড়ে বিন্দুর জন্য চেষ্টা করে। বেশ কিছুদিন হয়েছে বিন্দু জানতে পেরেছে আসাদ ওকে ভালোবাসে । কিন্তু ও আসাদকে কোনো রিপ্লাই দেয় নাই। পড়ার টেবিলে একজন আরেকজনের দিকে চোখাচখি হচ্ছে। দুজনই বেশ আসস্তির মধ্যে আছে। বিন্দু আসাদকে মেনে নেবে কি না, কিছুই বলছে না। আসাদের সবসময় খুব টেনশন হয় । বিন্দু যদি না করে দেয় তাহলে আসাদ মনে হয় মারা যাবে। যেহেতু বিন্দু সব জানতে পেরেছে , তাই আসাদও বিন্দুকে নতুন করে কিছু জিঙ্ঘাসা করতে পারছে না। এভাবে বেশ কয়টা দিন পার হয়ে গেলো। বিন্দু আসাদকে কিছুই বললো না । আসাদও কিছুই বলতে পারছে না। এক অজানা ভয় আসাদের ভিতরে কাজ করছে। সেদিন আকাশটা বেশ পরিস্কার ছিল। দুপুরের পর বিন্দু খাওয়া-দাওয়া শেষে রেষ্ট করছে। আসাদও পাশের রুমে শুয়ে আছে। কিন্তু দুপুরের ভাত ঘুম যেটা বলে সেটা আসছে না। আসাদের মনটা খারাপ এইভেবে যে বিন্দু সবকিছু জেনেও এইভাবে চুপ করে থাকলো। একটা কিছুতো বলতে পারতো, কিছুই কি বলার ছিলো না? আসাদ বাসার পিছনের বারান্দায় গেলো। বিন্দুদের বাসায় দুইটা বারান্দা ছিল। একটা সামনের দিকে বড় আর একটা পিছনের দিকে ছোট্র। পিছনের বারান্দাটা বেশ নিরিবিলি । ছোট্র বারান্দাটা খুব একটা ব্যবহার হতো না। আসাদ চুপচাপ ঐ বারান্দায় দাড়িয়ে রইল। খুব কষ্ট হচ্ছে যখনই মনে হচ্ছে সবকিছু জেনেও বিন্দু ওকে কিছুই বলছে না। তারমানে বিন্দু ওকে পছন্দ করে না । মনে মনে ঠিক করলো আজ বিকেলে বিন্দুর মুখোমুখি হবে। সরাসরি জিঙ্ঘাসা করবে, একটা রেজাল্ট বের করতেই হবে। এভাবে বেঁচে থাকা যায় না। কোনোকিছুই ঠিকমত করতে পাড়ছে না। যখন এসব কিছু নিয়ে আসাদের ভিতরে তোলপাড় ঠিক তখনই ঘটলো পৃথিবীর সেই আবাক করা ঘটনাটি। যেটার জন্য আসাদ একদম প্রস্তুত ছিলোনা। আসাদ বারান্দার ফাঁক দিয়ে কিছুটা আকাশ দেখার চেষ্টা করছে। কখন যে বিন্দু এসে তার পাশে দাড়িছে খে্য়াল করেনি। হঠাৎ বিন্দুকে দেখে চমকে উঠলো। বিন্দু একরকম হেসেই ফেললো। আসাদ কোনোকিছু বুঝে উঠার আগেই বিন্দু বললো, আপনি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে পাড়বেন ?

দুপুর ৩:১৫ মিনিট হবে। আজও আকাশটা একদম পরিস্কার। সামান্য একটু রৌদ্র আছে। আসাদ এখন বিন্দুদের সেই বাসাটার সামনে নারকেল গাছটার নিচে। এই বাসাটার নিচে দাড়িয়ে থাকা আর সেদিন সেই ছোট্র বারান্দাটার সৃতির মাঝে ব্যবধান সময়ের হিসাবে ১৫টা বছর । এতটা সময় পাড় হলেও সৃতির পুড়োটাই একদম অক্ষত। একটা সেকেন্ডের কথাও হারিয়ে যায়নি। আসাদ কেনো এখানে দাড়িয়ে আছে সে নিজেও জানে না। এক আদ্ভূত মায়ার টান আসাদকে আজ এখানে দাড় করিয়েছে। বিন্দুর সাথে আসাদের ঘর হয়নি, হয়নি এক ছাদের নিচে তাদের থাকা। কিন্তু জীবনের যে পরম সুখ সেদিন ঐ ছোট্র বারান্দাটা দিয়েছিলো তা আজ এই গোটা পৃথিবীর সব সুখ এক করলেও মিলবে না। মিথ্যে ভরা এই পৃথিবীর মাঝেও কিছু সুখ সৃতি জীবনকে সত্য করে তোলে। ছলনা-হটকারিতা সত্যিকারের প্রেম-ভালোবাসাকে মুছে ফেলতে পারেনা। প্রেম জীবনকে সুন্দর করে, সেই প্রেমকে স্ব্বাথে্‌র খোলোশে বেঁধে মুছে ফেলা উচিৎ না। আসাদের মনে হলো আর কিছু সময় এখানে থাকলে সে হাও-মাও করে কেঁদে ফেলবে। আর দেরী না করে আসাদ তার গন্তব্যের দিকে রওনা করলো।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×