রাস্তার অবস্থা খারাপ,যতিনের হাট থেকে উলিপুর হয়ে নাজিম খান বাজারে আসতে টেম্পো ছাড়া অন্য উপায় ছিল না।তখন এরশাদ সরকারের আমল শেষ হয় হয় করছে। এদিকে তিনি তখনো খুব জনপ্রিয়। তাই এদিকে তেমন কোন উত্তাপ নেই।
মাগরিবের পর আর টেম্পো আসতো না।আবার পুরো ১০ জন না হলে টেম্পো ছাড়তো না।
সেদিন সন্ধেবেলা টেম্পোতে ৯ জন হয়ে গেছে অনেক আগেই,অপেক্ষা চলছে শেষ জনের।এভাবে কেটে গেল আর ও কয়েক মিনিট। এরপরে সেই জনের দেখা মিলল। সেই ব্যক্তি একজন গরুর দালাল।প্রচন্ড মোটা হওয়ায় তার জায়গা হচ্ছিল না।পাশের মধ্যবয়সী পাতলা লোকটা তাকে জায়গা দিতে চিড়ে চ্যাপটা হয়ে গেলেন।
পুরোটা রাস্তা লোকটা এলেন নিচু স্বরে বিড়বিড় করে।অবশেষে তিনি রাস্তার পাশে বাড়ির সামনে নামলেন। কয়েক গজ দুরে বাজার,গন্তব্য শেষ টেম্পোর।তাই ভাড়া একই,১০ টাকা।কিন্তু লোকটা ৫ টাকার বেশি দিতে রাজি নন।এই নিয়ে ব্যপক গোল বেধে গেল।জড়ো হল কয়েক জন মানুষ,যারা তার প্রতিবেশি। তাদের একজন বললো যে টেম্পো ওয়ালা ন্যায্য ভাড়াই চেয়েছেন।
একথা শুনে তিনি মোটা লোকটাকে দেখালেন এবং গলা চড়িয়ে বলতে লাগলেন, পাল্লা আন-দুজনের ওজন মাপ আর বল তার ভাড়া ১০ টাকা হলে সে ও কেন ১০ টাকা দেবে।উপস্থিত সবাই হাসতে লাগলেন। টেম্পো ওয়ালার দিকে রাগ করে ৫ টাকা দিয়ে তিনি বললেন,' এরপরে পাল্লা রাখবি সাথে, ওজন করে ভাড়া নিবি '। গটগট করে সে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



