আমরা ৯ভাই-বোন। সবাই শিক্ষিত। আজ তা দাড়িয়েছে ৫৮ জনে। নাতী-নাতকুসহ। ভাতিজা,ভাগনা-ভাগ্নীরাও সবাই শিক্ষিত। চাকুরী করছে কেউ কেউ। সবাই সুখে সন্তানদের নিয়ে সুখেই আছে।। এমনকি অভাবেরও সাধ্য নেই দরজায় কড়া নাড়ার। কিন্তু আমার হিসাবে একটি অভাব,তা হলো আমার বা আমার সংসার তথা স্ত্রী-কন্যার খোজ নেওয়ার।। যাও আছে তাও সভ্যতার সীমার মধ্যেই।। কিন্তু কেন? এর কারন আমি খুজে পাচ্ছি না। হয়তো মেয়ে অথবা স্ত্রীর দোষে?? মেয়ে বড় হয়েছে,অনেক কিছুই জানে এবং বুঝেও। কিন্তু স্ত্রীতো একদম সাধাসিধা। যে আজও গর্ব করে আমার ফ্যামিলি নিয়ে, নিজেরটা বাদ দিয়ে। নিজের চাহিদার চেয়ে আমার পরিবারের লোকজনদেরই সে বেশী সন্মান এবং শ্রদ্ধা করে। অথচ তারও অনেক আত্মীয় আছে যাদের ক্ষমতা আছে আমার পুরো পরিবারকে কিনে নেওয়ার(অর্থের মাপকাঠিতে)।। কিন্তু তারপরও এই পরিস্থিতি কেন??
আমি জানি আমি যাই করি নাই কেন (অতীতে) তার মূল্য আমি পাই নাই, আর এই শেষ জীবনে তা আশাও করি না।। ভাই-বোনদের কথা আমি শুধু বন্ধুদের পিছনেই টাকা উড়িয়েছি, তাদের জন্য কিছুই করি নাই। এই বদনাম আমার কপালে তিলকরেখা একে দিয়েছে। যা মুছতে আমি আমার প্রবাস জীবনের দশটি বছর শুধু তাদের জন্যই ব্যয় করেছি। কি দেই নি তাদের?? প্রতিটি বোনকে স্বর্নের চেন,ভাইবউকে লকেটসহ, র বোন জামাইদের সহ প্রতিটি স্নতানের জন্য কাপড় থেকে শুরু করে পেন্সিল কলম পর্যন্ত। একেকজনের হাতে একেকটি ব্যাগ ধরিয়ে দিতাম। তারপরও যখন বুঝতে শিখলাম মন পেতে " দিল্লী দুরঅস্ত", কিয়ে দিলাম। কারন আমি চাই নি আমর স্ত্রী-কন্যাও বলুক, কি করেছো আমাদের জন্য। যা করেছো তা তোমার ভাই-বোনদের জ্ন্যই। ঠিক আমার ভাই-বোনদের মতই। আজ আমর যত চিন্তা মেয়ে-বউকে নিয়েই। এটাই কি সবার গাত্রদাহের কারন?? কিন্তু আমার দোষ কোথায়?
ভাই-বোনরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। সবারই ঢাকায় বাড়ী-ফ্লাট আছে। দেশের আব্বার রেখে যাওয়া জমি-বাড়ী কোন কাজেই আসছে না। কারন আব্বা-মা মারা যাওয়ার পর আমরা ভাই-বোনেরা সিদ্ধার্ন্ত নিয়েছিলাম যে ঢাকায় যে টিকতে না পারবে সে দেশের বাড়ী-জমি সব ভোগ করবে। আল্লাহর রহমতে তার আর প্রয়োজন পরে নি।।
আসল কথা থেকে অনেক দুরে সরে গেছি বলে মনে হচ্ছে। তাই ফিরে যাই সেই কথাতেই। আজ ২২বছরেও হাতে গোনা যাবে আমার ভাই-বোন আর তাদের সন্তানেরা কয়বার আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছে আমি কেমন আছি। যেন সব দায়িত্ব একা আমার। ভাতিজারাতো একদিনও ফোন করে নি। ভাগনা-ভাগনীদের কথাই বলাই-বাহুল্য। কিন্তু অবাক ব্যাপার দেশে গেলেই এরা মামা-কাকা-নানুভাই বলতে পাগলপাড়া!! কি বলবো একে??
এখানে কোম্পানীর অনেক ছেলে সিনিয়র হিসাবে তাদের মনের কথা বলে,পরামর্শ চায়। দেই আর মনে মনে বলি ভাই আমি তোমাদেরই একজন। পারিবারিকভাবে তোমাদের সাথে আমার কোন পার্থক্য নেই। শুধু তোমার পরিবারের লোকজন অশিক্ষিত আর গ্রামের কিন্তু আমার পরিবারের সবাই শিক্ষিত আর শহরের কালচারে অভ্যস্থ।। তারপরও তোমার সাথে আমর কোন পার্থক্য নেই। মনে মনেই বলি মুখে প্রকাশ পায় না। মধ্যবিত্তের আত্মাভীমান!!
মনটা ভীষনভাবে বিক্ষিপ্ত। তাই না বলার কথাও প্রকাশ করলাম। কারো বিরক্তির উদ্রেক করলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমর যুক্তি হলো ব্লগকে আমি ডিজিটাল ডায়রী হিসাবেই নিয়েছি।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



