আজ এখানকার একটি পত্রিকার একটি খবর আমাকে এতো খুশী করেছে যে আনন্দটুকু শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না।যদি কারো পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয় তাকে স্বাগতম। কারন এটা নিছকই খবর কি না তাও তো জানা উচিৎ।।
গত ৪বছর ধরে সোমালী জলদস্যুদের হাতে বন্দী ১১জন নাবিক অবশেষে মুক্ত হয়ে কেনিয়ায় পৌছেছেন। এই ১১জনের মধ্যে ৭জন বাংলাদেশী,১জন ভারতীয়,১জন ইরানী এবং ২জন শ্রীলংকান নাবিক রয়েছেন। নাইরোবী থেকে তাদের ও দস্যুদের মাঝে মধ্যস্থতাকারী John Steed নামক একজন অবসরপ্রাপ্ত বৃটিশ কর্ণেল(ভদ্রলোক গত কয়েক বছর ধরেই জলদস্যুদের সাথে বিভিন্ন নাবিকদের ব্যাপারে মধ্যস্থতা করে আসছেন) এখবর AFPকে জানিয়েছেন। মুক্ত নাবিকরা জানান জিম্মী অবস্থায় মারধরসহ বিভিন্ন অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। বন্দীদশা থেকে জানালা দিয়ে পলায়নের পর তাদেরকে গালমাদুগ(Galmadug)প্রদেশের সেনাবাহিনী উদ্ধার করে তাদেরকে কেনিয়ায় পাঠিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য মালয়েশিয়ার পতাকাবাহী MV Alvedo নামক এই কন্টেইনার সীপটি ২০১০সালের নভেম্বর মাসে অপহৃত হবার পর প্রাকৃতিক দূর্যোগে পরে ডুবে যায়। বন্দীরা জানান বন্দীদশায় দস্যুদের সাথে তর্কের কারনে ১জন ভারতীয়কে গুলি করে মারা হয় আর ৪জন শ্রীলংকান মারা যায় ডুবে। ৭জন পাকিস্তানী নাবিককে ২০১২সালে একজন ব্যাবসায়ী মুক্তিপন দিয়ে মুক্ত করে নিয়ে যান। আর বাকীরা বন্দী থেকে যান সীপিং কোঃটির মালিকের সদিচ্ছার অভাবে। আর তাদের পরিবারদের পক্ষেও দস্যুদের মুক্তিপন দিয়ে তাদের মুক্ত করা সম্ভব ছিল না। কারন বেশীর ভাগ নাবিকই তাদের পরবারের একমাত্র অর্থোপার্জনের মাধ্যম। কোন দেশের সরকারও নেয় নি কোন পদক্ষেপ। তাই তাদের ৪টি বছর কাটাতে হয়েছে অবর্ননীয় দুঃখ,অত্যাচার,খাবারের কষ্ট এবং প্রতি মুহুর্তে মৃত্যুর অপেক্ষায় থেকে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে তাদেরকে সেবা-যত্নের মাধ্যমে সুস্থ করে যার যার দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেছে আরো ৩৮জন বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও মুক্তি পাবেন। কারন এর বিরুদ্ধে পৃথিবীর সবকটি বৃহৎ শক্তিসহ তাবৎ দেশের নৌবাহিনী বর্তমানে সক্রিয় থাকায় এবং এর ফলশ্রুতিতে দস্যুদের অনেকে নিহত এবং বন্দী হবার ফলে এর প্রকোপও কমে এসেছে অনেক। বিভিন্ন দেশের দেয়া মুক্তিপনের মাধ্যমে ও এলিট স্পেশাল বাহিনীগুলির অভিযানের ফলে ৩২টা জাহাজের ৭৩৬জন নাবিকের প্রায় সবাইকে উদ্ধার করা হলেও বর্তমানে জাতিসংঘের হিসাবে এখনো ৩৮জনকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও আশাবাদী তারা। আমরাও প্রতিটি মানুষ নির্বিশেষে কামনা করি যার যার প্রিয়জন ফিরে যাক তাদের কাছে। ফিরে পাবে স্বামী,বাবা,ভাই অথবা নিকট আত্মীয়-স্বজন। আসুন সবার একই প্রার্থনা হোক।
আমার যতটুকু মনে পরে টিভিতে একবার এরকম বন্দী লোকদের আত্মীয়-স্বজনদের আহাযারী দেখেছিলাম। দূর্বল স্মৃতির কারনে মনে করতে পারছি না এদের জন্যই ছিল কি না সেদিনের সেই আর্তনাদ। যাক তারা সু্স্থ শরীরে ফিরে আসুক সেই দিনটির প্রতিক্ষায়।।
আরব টাইমস পত্রিকা থেকে সংকলিত।[/su
আপডেট: পত্রিকান্তরে প্রকাশ আজ বা কালকের মাঝেই এই ৭জন দেশে পৌছেবেন বলে একজন তার স্ত্রীকে ফোনে জানিয়েছেন। স্বাগতম তোমাদের।।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৪ ভোর ৪:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



