অনেকদিন পর আবার প্রবাস জীবনের গল্প শুরু করলাম। কারন সবারই জানা উচিৎ অর্থের সাথে প্রবাসীদের দুঃখ-বেদনরও কথা। তা ছাড়া সময়ও হাতে প্রচুর,সেই ১০টায় ডিউটি। মাত্র ৪ঘন্টা। এরমাঝে প্রায় ২ ঘন্টা কাটবে ঘুমিয়ে। অর্থাৎ কাজের চাপ একেবারেই কম। তার উপর আমি আবার চীফবসের শুধু চমচাই না, তারচেয়ে একটু উপরে মানে" হাথা"। সুতরাং আমার লেজ ছোয়ারও অধিকার কারো নেই। করন তার হুকুম সে ছাড়া আর কেউ আমাকে দিয়ে কোন কাজ রাতে পারবে না। (প্রভাব বিস্তর র কাকে বলে)? জানি না এই সুখ র কতদন কপলে আছে??
কম্পানী থেকে মুক্ত হতেই নিজেকে জেলমুক্ত কয়েদী বলে মনে হলো। কোন বাধ্যবাধকতা নেই। নেই ফোর্যান তথা তার চামচাদের এটা করো,এভাবে চলো, সবচেয়ে বড় কথা ঘন্টায়,ঘন্টায় তল্লাসী। আর ইউনিফর্মের বেড়াজাল থেকে মুক্তি। এটা পড়লেই নিজেকে এতদিন কয়েদী বলে মনে হতো।
বেতন একলাফে ৩গুন হয়ে গেলো। শুধু সমস্যা হলো এতোদিনের সাথীদের ছেড়ে যেতে হবে। যারা এতদিন সুখে-দুঃখে,সমবেদনায় পাশে ছিল। তবে যাই হোক সবাই কিন্তু স্বাগত জানালো।
ব্যারাক ছেড়ে যাবার কথা মনে হতেই একটা গোপন ব্যাথা চিড়িক দিয়ে উঠতো। কিন্তু ছেড়ে যেতে হবে, তাই খুজতে হলো নূতন বাসা। খুজতে যেয়েই পরিচয় হলো রাশেদ, মিজানদের সাথে। মিজান পূর্ব পরিচিত। এলাকার ছোটঁ, একজন। দেশে চাচা বলে ডাকতো, এখানে এসে হয়ে গেলাম ভাই। বাপেরও ভাই ছেলের ও ভাই। এর পিছনে কাহিনী হলো, কম্পানীতে থাকাকালিন সময়ে আমি বন্ধের দিনগুলিতে এই কুয়েতে বাঙ্গালীদের মিলনমেলা শুক্রবারে কখনো মুরগাব নামক অঞ্চলে যাই নি। নিজেকে বন্দী করে রাখতাম ব্যারাের চারদেয়ালের মাঝেই। মুক্ত হবার দ্বিতীয় সপ্তাহে মুরাগাবের স্যুক মিছিলায় যেতেই হঠাৎ করে আমার নাম অর্থাত গুরুভাই বলে ডাক শুনে পিছন ফিরে দেখি নাসির,মিজান,জিদ্দিসহ সবাই দাড়িয়ে আছে। আমর কল্পনাতেও ছিল না যে, ওরা এখানে আছে। ফিরে তকাতেই সবাই একে একে বুকে জড়িয়ে ধরলো। দেশ থেকে এতদুরে নিজের এলাকার ছেলেদের পেয়ে আমিও আপ্লুত। কথা-বার্তার মাধ্যমে জানলাম নজরুল,আলম সহ আরো অনেকে আছে।। যদিও সবাই এক তসলিম,বেকারী মানে ঈসমাইল আর আন্ডা মানে মুকুল ছাড়া আর সবাই জুনিয়র। (যারা আমরা হোটেলে থাকলে,সেখানে ঢুকতোই না, আর আগে থাকলে আমরাই তাদের বিল পরিশোধ করতাম)।
সেই মিজান,রাশেদ,নুর ইসলামদের সাথে মিলে আমাকে রুম শেয়ার করতে হলো। প্রবাসে এতো বাছ-বিচার চলে না, তাই। এখানে মূল হলো অর্থের সংস্থান।।
আমিও সেই পথেই গেলাম। আজো আছি সেই ফ্লাটেই। কতলোক এলোগেলো। কিন্তু আমি রয়ে গেলাম সেই আমিই হয়ে।। আজ আমার প্রোমোশন স্যরি প্রবাসীদের প্রোমোশন হয় না কিন্তু ওয়াস্তা বা ব্যাকিয়্যংর জোরে বেতন বাড়ে,তাই বেড়েছে কিন্তু প্রমোশনের খবর নেই। আমিও এতেই খুশী এবং সুখীও।।
তারপর চলে এলাম খাইতান এলাকা থেকে ফরওয়ানিয়া এলাকায়। সাথে রাশেদ,মীজান,নূর ইসলাম সহকারে। সেই থেকে আডও আছি। মাঝখানে বদলে গেছে অনেক কিছুই। বদলে গেছে লোকজনও। আজ পাশের রুম দিতে হয়েছে সাবলেট । সব অন্ধ্র প্রদেশেষের । মিলেমিশে থাকতে হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




