পৃথিবীতে পারিবারিক বন্ধনের পরই যে ভালবাসায় আমরা তা হলো বন্ধুত্বের।।এটা হতে পারে রাষ্টীয়,হতে পারে ব্যক্তিগত।।সে হিসাবে ভারত প্রতিবেশী দেশ হিসাবে,’৭১ আশ্রয়দান(যদিও রাজনৈতিক প্রশ্নবিদ্ধতার বা লাভের কথা তুলে বিতর্কের সৃষ্টি করতে চাই না)কারী একমাত্র নির্ভেজাল বন্ধু হিসাবেই গন্য হয়ে আসছে।।কিন্তু যে কোন বন্ধুত্ব এবং ভালবাসায়ও যদি খাদ থেকে থাকে তবে তা ভেঙ্গে যেতে বাধ্য।।
বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছি আমাদের বিভিন্ন আভ্যন্তরিন ব্যাপারে ভারতের নেতৃবৃন্দ বেশ খোলামেলা মন্তব্য তথা উপদেশই দিয়ে যাচ্ছেন।। রাজনৈতিক কারনে মানছি তাও।।কারন বৃহৎ প্রতিবেশী ঘরের কোনে থাকলে,সন্মান একটু বেশীই পেয়ে থাকে এটা ধ্রুবসত্য।। আর এই বাস্তবতাকে আমিও অস্বীকারও করি না।।
তবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে যে নোংরামী তা সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে।। খেলায় তথাকথিত ভুল,সভাপতিকে কাপ দিতে না দিয়ে,যে শ্রীনি নিজবোর্ডেই অবাঞ্চিত,তার মোড়লগিরী।। এ নিয়ে আরো কত কি।। তাও আমরা বন্ধুত্বের খাতিরে মেনে নিলাম!!প্রতিবাদ করেই।।
কিন্তু নূতন করে শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদি তথা রেপিষ্ট দেশ হিসাবে বিশ্বে পরিচিত করানোর পায়তারা।।ভেঙ্গে বলছি,এর আগে পশ্চিমবঙ্গেরই কোন এক জেলায় বাড়িতে বোমা মওজুদ এবং বানানোর সময় ধৃতব্যাক্তদের পরিচিত করানো হয় বাংলাদেশেই লুপ্ত জেএমবির সদস্য হিসাবে।। অধুনা গতকাল এখানের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে কলিকাতার মিশনারী স্কুলে ডাকাতি এবং ৭০বছর বয়স্কা নানের ধর্ষনকারী হিসাবে যে ৮জনকে ধরা হয়েছে,সবাই বাংলাদেশী।।প্রকাশ শেষ ৪জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে পাঞ্জাব থেকে।।
এখানে আমার প্রশ্ন:১। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা বাহিনীগুলি কি এতই প্রতিষ্ঠিত,দুর্নীতিমুক্ত আর তৎপর যে,দেশের অপরাধীরা সবাই একসাথে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে??কারন সেদেশ তাদের জন্য অভয়ারন্য??
২। এটাকে বাস্তব বলে ধরে নিলে ভারতীয় নিরাপত্বা বাহিনীগুলি অকার্যকর।।বিএসএফ,পুলিশ থেকে শুরু করে আভ্যন্তরীন বাহিনীগুলিও।। কারন অপরাধী না ধরা পর্যন্ত তারা জানতেই পারছে না কারা ঘটাচ্ছে এই সব অপকর্মগুলি!!
৩।। বৃদ্ধা নানের ঘটনাটা সারা খৃষ্টানবিশ্বে ভারতের প্রতি বিরূপ মনোভাবই কি কৌশলে ঘুরানোর মতলব।।যেখানে সাম্প্রতিক ধর্ষনের ঘটনবলী এমনিতেই ভারত সরকারকে বিব্রত করে তুলছে।।(ধরে নিতে পারি তাহলে তৃনমূলের নায়ক,রাজনীতিবিদ বাংলাদেশীদেকেই ঘরে ঘরে ঢুকিয়ে রেপ করানো হুমকি দিয়েছিলেন)
৪।।মমতার পানির কথা বাহুল্যবোধে উল্লেখ করলাম না।।
আরো অনেক প্রশ্ন-কথা মনের মাঝে মোচড় দিয়ে যাচ্ছে।। এই কি বন্ধুত্বের নমুনা!!তাহলে এখানে ভিন্ন প্রশ্ন এসে যায়।।এমনিতেই বাংলাদেশ হারাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বাজার।। এই প্রচার-প্রোপাগান্ডার জোরে।। তারউপর বিশেষ করে নানের ঘটনা পশ্চিমাবিশ্বকে আমাদের ব্যাপারে যে কিরূপ বিরাগভাজন করে তুলবে,তা কেউ ভেবে দেখেছেন কি??
৫।এগুলি কি নিছকই প্রচার না সরকারী পরিকল্পনার রূপদান??
প্রসঙ্গক্রমে এক অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় জেনারেলের কথা মনে পড়ে গেল(দুঃখিত নামটা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না বলে)বলেছিলেন আজকাল সন্ত্রাসীরা আইডি,পাসপোর্ট এমন কি রেশনকার্ড নিয়েই তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী কাজকর্ম করে বেড়ায়,তাই পুলিশও সহজেই তাদের সনাক্ত করতে পারে।।
আমরা খারাপ হতে পারি কিন্তু দেশ কিভাবে??তাও তথাকথিত বন্ধুর হাতে??একটি কথা আজ না বলে পারছি না,ভারত হয়তো পেয়েছে বিরাট বাজার কিন্তু বিনিময়ে হারিয়েছে বিরাট জনসমর্থন।।
ভুলত্রুটি হলে ধরিয়ে দেবেন,যুক্তসংগত আলোচনার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে এই আবেদন।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




