বিনোদনের অনেক কিছুই আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে কিছু মানুষের কাছে পুরানো হয় গেছে।। তার উপর ইন্টারনেট এনে দিয়েছে বিশাল এক বিবর্তন।।টুইটার,ফেসবুক,ব্লগ,ইউটিউব,উইকিপিডিয়া,আছে অনলাইন সংবাদ,আছে বইপড়ারও সুযোগ।। এসব কিছুই খুলে দিয়েছে অবসর সময়টুকু সুন্দর ভাবে কাটানোর।।
তারপরও কিছু লোক আছেন যারা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে চায়,গল্প,কবিতা,রম্য,ভ্রমন,প্রবন্ধ,বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য,নিজের সমস্যা তথা দেশের।।চায় রাজনৈতিক দলগুলির ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করতে।।তুলে ধরতে চান নিজের অভিজ্ঞতাসমুহ আরো দশজনের সামনে।।মুলত এসব কারনেই এইসব স্যোশাল মিডিয়াগুলি শত প্রতিরোধের মুখে পরা সত্বেও দিন দিন জনপ্রিয়তা এবং অংশগ্রহনকারীর সংখ্যা বাড়িয়েই চলছে।।
যার ব্যতিক্রম নেই আমাদের দেশেও।। কিন্তু পড়তে হচ্ছে শত প্রতিকুলতার মাঝে।।ইতিমধ্যেই তিনজন ব্লগার লেখক খুন,আহত দুইজন।। আশংকায় অনেকে আত্মগোপনে, অনেকে দেশের বাহিরে পাড়ি জমিয়েছেন।। লেখাই ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে।। যদিও আসেন নেশার বশে,অফলাইনে থেকে পছন্দের লেখাগুলি পড়ে বিদায় নেন।। কিছু লিখতে চান না,গালাগালি আর ট্যাগ খাওয়ার ভয়ে।। নিজের খেয়ে বনে বনের মোষ তাড়ানোরও তো একটা সীমা আছে-তাই না।।
এই যদি পরিস্থিতি তাহলে কেই বা আসতে চাইবে,লিখতে চাইবে?? ধর্ম নিয়ে(কুৎসিত ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ ছাড়া)সাধারন সমালোচনাও লিখলে মুসলিম রা বলবে কাফের আর হিন্দুরা বলবে যবন(নজরুলকে কোট করলাম)।। ধর্মান্ধরা চাপাতি ধার করে বসে থাকবে আর হিন্দুদের পক্ষে সুশীল সমাজ,সরকার,চাই কি ব্লগ মডারেটররাও এগিয়ে আসতে পারেন।।সরকার পক্ষের ভাল কথা লিখলে,বিরোধীদের বিভিন্ন ট্যাগ।। আবার সরকারের সমালোচনা করলে সেই একই লেখন।। উপরি হিসাবে জুটবে জেল-জরিমানাসহ অনেক কিছুই।।
দেশ নয় এর সমস্যা এবং বিভিন্ন মন্ত্রীদের দূর্নীতির কথাও লেখা যাবে না।।লেখা যাবে না কোন কোন বিরোধী নেতাদের ব্যাবসায় অংশীদারিত্ব আছে সরকারী নেতাদের সাথে।।লীগ আর দলের ছাত্রনেতাদের বেলায়ও একই কথা।।এমন অনেক সন্ত্রাসী আছে যার সব সরকারের কাছেই আদরনীয়!!(এস এ খালেকের ভাষায়,আমিতো দলবদল করি না,করে সরকার!!)এটুকুও অনেকের গাত্রদাহের সৃষ্টি করবে।।
গত কয়েকমাস ধরে দেশে অচলাবস্থা।। সরকার বলছে সব স্বাভাবিক আর বিরোধীদল বলছে আমরা সব অচল করে দিয়েছি।।মাঝখান থেকে শতের উপরে লোকের প্রানহানী,কয়েক হাজার আহত,এরও অনেকগুন বেশী জেল-হাজতে।।ঠিক পাটা-পুতায় ঘষাঘষি মরিচের দফা শেষ।।
পরিসংখ্যান আমি বলতে পারবো না।। কিন্তু গত কয়েকমাসে দেশ যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে তার ক্ষতিপুরনতো নেতারা তাদের বৈদেশিক ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা তুলে এনে পূরন করবে না।।আর আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মত তেলের বিরাট মজুদও নেই যে তা থেকে বেশী উৎপাদন করে পুরন করবো।।(এক আছে নীধিরামের সম্বল,গার্মেন্টস ব্যাবসা।।যা দেখছি কিছুদিন পর এটাকেও আমাদের এককালের সোনালী আঁসের মতই ইতিহাস বইতে পড়তে হবে।।) করতে হবে এই জনমদুখী গরীব জন-সাধারনকেই।।বাড়বে ট্যাক্স,তেল,বিদ্যুৎ,এবং স্বাভাবিকভাবেই সকল ভোগ্যপন্যের দাম।।
ধান ভানতে শীবের গীত গাইছি না তো আবার??যদিও এসে থাকে তাহলে আমার হিসাবে প্রসংগতভাবেই এসেছে।।
বৈদেশিক ব্যাপারে কোন দেশের অন্যায়-অত্যাচারের কথা লেখা যাবে না।।বলাও যাবে না বিদেশের দুতাবাস সমুহের দুর্নীতি আর অবহেলার কথা।।কারন তারাই রাজা আর সবাই শ্রমিক!!যেখানে অন্যান্ন দেশের দুতাবাসগুলি তাদের লোকদের জন্য আলাদা একটা বিভাগ খুলে,অসহায় লোকজনের সমস্যা শুনে।।প্রয়োজনে নিজেদের আশ্রয় কেন্দ্রে রাখে,সেখানে আমরা কতটুকু করছি?? সেনসেটিভ ইস্যু।।বন্ধুত্বের ফাটল ধরতে পারে।।সবকিছুতেই বাধা।।আর এই লেখার গুরুত্বই বা কতটুকু??কতশত লেখাই না হচ্ছে এসব নিয়ে প্রতিদিন।। কিন্তু আমরা কুম্ভকর্মের মত ঘুমাচ্ছিই।।বেচারার তো তবু একবার ঘুম ভাঙ্গতো ক্ষুধার জন্য।। কিন্তু আমরা এমনই সুস্থ-সামর্থ যে ক্ষুধা-তৃঞ্চা কিছুই নেই আমাদের।।এই ভাল,ভাল না??
সবচেয়ে নিরীহ ব্যাপার বউয়ের বাজারের ফর্দি আর মাসকাবারী তার আর মেয়ের শত বায়নার বয়ান লেখা।। এতেও বিপত্তি,জানতে পারলে জীবন অতীষ্ট করে তুলবে।।ভাগ্য ভাল যে ওরা জানে না,আমার এই হাবি-জাবি লেখার কথা।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




