এটা লেখার বা প্রকাশ করার কোন ব্যাপারই না বা গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যাপার।।এমন কি জনকল্যান মূলক কোন লেখাও।। আজ কয়েকদিন ধরেই মনে পড়ছে সেই বিশেষ করে স্কুল জীবনের তথা কৈশর এবং যৌবনের প্রারম্ভে যারা ছিলো একান্ত কাছের।। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে পরিবারের চেয়েও বেশী।।
এটা আমাকে এক নষ্টালজিয়ায় পরিনত করেছে।। পাঠকরা কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারেন,এটাতো ব্লগের লেখা হতে পারে না।। কিন্তু আমার কৈফিয়ত আমি ব্লগকে ডিজিটাল ডায়রী হিসাবেই নিয়েছি।।
জন্ম পুরান ঢকার ইসলামপুরে।। বড়ভাই ঘুড়ি উড়াতে যেয়ে একতলার ছাদ থেকে পড়ে মারা যাওয়ার পর আব্বা সব ছেড়ে চলে এলেন শাহজাহানপুরের সরকারী কোয়ার্টারে।।৫ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়েছি মিউনিপ্যাল স্কুলে(সে সময় ৯০ভাগ ছাত্রই ছিলো এখানকার।। পরবর্তিতে আইডিয়াল।।কলেজ জীবন নটরডেম।।
অনেককেই পেয়েছি বন্ধু,ক্লাসমেট পেয়েছি রেলওয়ে কলোনীর,এজিবির আইডিয়াল,এফ টাইপ,এইচ টাইপ,জি টাইপ, আলহেলাল জোন,টিএন্ডটির সহ অনেককে।। বাবলু,আজাদ,বাদল,দিলু,বাবু,মুকুল,সাহান,কাবুল,শামীম(কিড়কিড়ি),মঞ্জু, পান্নুসহ বিহারী আকরাম,মুন্না এবং খলিল(সে সময়ের নামকরা রাজাকার),উকিল, পাঞ্জা,মমতাজসহ অনেককেই।।
দেশ স্বাধীন হবার পর বদলে গেলো অনেক।। এলো এজিবি জিটাইপ,এইচ টাইপ,এফ টাইপ,টি এন্ডটির,আরামবাগের সাথে আরো অনেকে।। ভার্সিটি সহ এলো লালবাগ,পলাশী,আজিমপুর,ফার্মগেট,মোহাম্মদপুর তথা আগারগাও-শেউরা পাড়া সহ অনেক এলাকা।। এইসব বন্ধুদের মাঝে কেউ নির্ভেজাল,কেউ ক্রিমিনাল(সরকারী হিসাবে)।।
থাক এসব কথা।। এবার বন্ধুদের নামে মাহাত্ব বলছি।। চার মুকুল ছিল,মুকুল বলে ডাক দিলেই চারজনই তাকাতো বলে আমরা নাম দিয়েছিলাম টম,বেলচা,আন্ডা এবং লেংচা টম বলে।। ভুলু চার ছিলো বলে কানা,পুলিশ,গোসাই এবং ব্যাক।।রতন(বদনা)।ইকবাল এজিবি এবং শাহজাহানপুর,বাদল হসপিটাল এবং সাধারন।।তপন কারী। মতিন(গুজা)বাবুল (হোন্ডা),বাবুল(বিটলা)।ছিল চান্দী,মাইনক্যা,আলী(রিক্সা) আড্ডা ছিলো মুলত রেলওয়ে কলোনীর প্রথম বিল্ডিংটার পাশেই।। যদিও ছিলো ট্যাংকের মাঠ,ঈদগাগাহের তথা কমিউনিটির মাঠসহ অনেক স্থান।। আমরা একত্রিত হতাম এইসব এলাকায়।।যে যেখানেই থাকতাম না কেন ঠিক সন্ধ্যের পর আসতে শুরু করতো সবাই।।
আমাদের ছিলো না কফি হাউস,ছিল পীর জঙ্গি তথা মতিঝিল মাজারের একমাত্র হোটেল,মনসুর নামের।।কিন্তু আমরা ডাকতাম গোপের হোটেল বলেই।।
উল্লেখ্য এরা সবাই শুধু অরাজনৈতিক বন্ধু।। রাজনৈতিক জীবনে পেয়েছিলাম লালবাগ,পলাশী,আজিমপুরসহ “বিভিন্ন হলের”ছেলেদের।।আমার জীবনে বন্ধুরা এই দুইভাগে বিভক্ত।।
আজ সেইসব দিনগুলি বড় টানছে।।
তবে পিলটা তথা পিন্টুর পরিবারের কথা কখনো ভুলার নয়।।একসাথে কখনো ৫ কখনো বা ১০ বা এরও বেশী যেয়ে হাজির হতাম ওদের ছোট্ট বাসাটার পিছনের বাগানে অস্থায়ী বেড়ার ঘরটিতে।। কম হলে বাসায়ই।।কিন্তু খালাম্মা-খালু বা ওর ভাই-বোনদের কখনো বিরক্তবোধ করতে দেখি নি।।অল্প হলে ভাত না হলে চা-নাস্তা।। তাও কয়েকবার।।হাসিমুখেই এসব করে যেতো ওরা।।আজ জানি না কে কেমন আছে।। শ্রদ্দার্ঘ সেই পরিবারের প্রতিটি মানুষের প্রতি।।
জানি না আজ কে কোথায় এবং কেমন আছে।।বছরান্তে দেশে গেলে চেষ্টা করি সবার খোজ নিতে।। তবে দেখা হয় না বেশির ভাগের সাথেই।।পৃথিবীর অনিবার্য নিয়মে আজ বদলে গেছি আমরা সবাই।। সংসারের ঘানী টানতে ব্যাস্ত সবাই।।কারোরই সময় নেই।। যদিও হঠাৎ করেই দেখা হয় বুকে টেনে নেওয়া আর এক কাপ চা খাওয়ার মাঝেই সব শেষ।।যেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা একত্রে থেকেও মন ভরতো না।। আজ বড়জোর আধ থেকে একঘন্টা!!তার উপর প্রায় প্রতিবারই শুনি এ নেই,সে নেই।।কেউ স্বাভাবিক নিয়মে,কেউ অপঘাতে।।মনটা ব্যাথিত হয়ে উঠে।। কিন্তু সত্যি বলতে কি এটাও স্থায়ী থাকে না।।একদিন তো আমাকেও যেতে হবে(পার করে যাচ্ছি এক্সটেনসন জীবন),তখনো তো এমন করেই যারা শুনবে একটু স্মৃতিচারন করেই ভুলে যাবে।।মাঝে মাঝে ভাবি যেতেই যখন হবে,তাহলে জন্ম নিয়ে মায়া বাড়ানোর কি দরকার ছিলো।।
অনেক লেখার ছিলো, কিন্তু পারলাম না, এটা আমারই ব্যার্থতা।।
(মনটা খুব ভারাক্রান্ত বলেই এসব হাবিজাবি লিখলাম।।হয়তো অনেকেই বিরক্তি বোধ করতে পারেন,আমি সেজন্য আগেই ক্ষমাপ্রার্থী।)।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


