somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউঃ মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মত অসাধারন কিছু মুভি।

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই পর্যন্ত এমন অনেক ছবিই নির্মান করা হয়েছে যেগুলো দেখার পর আমাদের অবচেতন মনে ঘোর আবহের সৃষ্টি হয়েছে। ছবিগুলো আমাদের কল্পনার সীমারেখাকেও পার করে দেয়। এখানেই পরিচালকদের কৃতিত্ব। একজন ভাল পরিচালক প্রায়ই চেষ্টা করেন তার দর্শকদের মস্তিস্কতে প্রভাব বিস্তার করে চিন্তা শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে। এরকম মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মত অনেক ছবিই আছে তার মধ্যে আমার দেখা প্রিয় কিছু ছবির নাম দিলাম।

Fight club



এটি আমার অন্যতম প্রিয় ছবি। এই ছবিটি বেশি ভাল লাগার কারণ শেষের অভাবনীয় ক্লাইমেক্স। এই ছবিতে দেখা যাবে একজন ইন্সামনিয়া অথবা অনিদ্রা রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির ঘটনা। যে কিনা তার নিজের জীবনের উপর বিরক্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনা ক্রমে তার সাথে এরোপ্ল্যানে টেইলর ডারডেন নামে একজন ব্যাক্তির পরিচয় হয় যে কিনা পেশায় একজন সাবান প্রস্তুতকারী। তাদের দুজনের ভিতর বন্ধুক্ত তৈরী হয়। তারা দুজন মিলে একটি গোপন সংঘ তৈরী করে যেখানে সকল সদস্যরা একে অপরের সাথে মারামারি করে। কিন্তু টেইলরের নেতৃত্বে ধীরে ধীরে সংঘটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে রুপ নেয় যা কিনা শহরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হয়ে পরে। তখন ঐ ব্যাক্তিটি সংঘটি বন্ধ করার চেষ্টা করে কিন্তু তখন সে তার বন্ধু সম্পর্কে এমন কিছু জানতে পারে যা কিনা সে কখনোও কল্পনাও করে নি।ছবির এই পর্যায়েই সেই চমকটি দেখতে পাবেন। এই ছবিটি একবার দেখা হয়ে গেলে দ্বিতীয়বার আর আগেরমত করে দেখতে পারবেন না।
এটা ঐরকম টাইপের ছবি যার রেশ সাড়া জীবন আপনার মাথায় থেকে যাবে। প্রথম এক সপ্তাহত ছবির কথা মাথা থেকে সরাতেই পারবেন না। আইএমডিবির তাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২৫০ টি ছবির লিষ্টে এই ছবিকে রেখেছে ১০ নম্বরে।

Shutter island



মার্টিন স্করসেজির ছবি। লিওনার্দ দি ক্যাপ্রিও, মার্ক রাফেলোর, অস্কারজয়ী বেন কিন্সলের মত বড় বড় অভিনেতারা এই ছবিতে অভিনয় করেছে। ছবিটি এককথায় মাস্টারপিস অসাধারন চিত্রনাট্য, কাহীনির বর্ণনা তার সাথে অসাধারন অভিনয়। এবং শে্ষের দিকের অকল্পনিয় ক্লাইমেস্ক ছবিটিকে দর্শকদের হৃদয়ে চিরতরে স্থান করে দিয়েছে। ছবির কাহীনি একজন US মার্শাল টেডি ডেনিয়েলকে নিয়ে। তাকে একটি মানষিক রোগীর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য শাটার আইল্যান্ড নামে একটি দ্বীপে পাঠানো হয় যেখানে সরকার চালিত একটি হাসপাতাল রয়েছে মানষিক বিকার গ্রস্থ রোগীদের চিকিতসা করার জন্য। যদিও সেই দ্বীপে যাওয়ার পিছনে টেডির ব্যাক্তিগত কিছু কারণও রয়েছে। যাইহোক টেডি সেই দ্বীপে পৌছে তার তদন্ত শুরু করে, কিছুদিনের ভিতরই টেডি তার কেসে অনেক দূর এগিয়ে যায় এবং সে অই হাসপাতালের চিকিৎসকদের সন্দেহ করতে শুরু করে। কারণ তারা তাকে হাসপাতালের সব তথ্য দিতে অস্বীকার করে। এভাবেই টেডির তদন্ত চলতে থাকে ঘটনাক্রমে টেডি একদিন সেই হারিয়ে যাওয়া রোগীর খোজ পায়। সেই রোগীর কাছ থেকে হাসপাতালের কিছু চাঞ্চল্যকর অবৈধ কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে পারে। এবং সে টেডিকে দ্বীপটির শেষ প্রান্তের লাইট হাউসের দিকে মূল সত্য সন্ধানের জন্য যেতে বলে যেখানে টেডি তার সকল প্রশ্নের জবাব পাবে। কিন্তু সেখান পৌছানোর পর টেডির পুরো দুনিয়া এলোমেলো হয়ে যায়। সে তার স্মৃতি, বন্ধু এমনকি তার নিজের সুস্থতা নিয়েও সন্দিহান হয়ে পড়ে।

The truman show



অন্যরকমের একটা ছবি কিছুটা ফ্যান্টাসি টাইপের বলা চলে। ছবির কাহীনি ট্রুম্যান নামের একজন ইন্সুরেন্সারকে নিয়ে। ট্রুম্যান খুব সাধারণ একজন মানুষ।সে অতি সাধারণ একটি শহরে বাস করে এবং তার সাধারণ বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে সহজ সুন্দর জীবন যাপন করে।ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে ট্রুম্যান কখনো তার নিজ শহর ছেড়ে বাইরের বিশ্বে যেতে পারে নি। কিন্তু ট্রুম্যান একটি কথা জানে না, তা হল ট্রুম্যানের সম্পূর্ন জীবন আসলে একটি খুব বড় টিভি রিয়েলিটি শো। তার স্ত্রী, মা বাবা, বন্ধু-বান্ধব সবাই আসলে অভিনেতা অভিনেত্রী। এমনকি পুরো শহরটাই আসলে একটি বড় টিভি সেট যার বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা লাগানো রয়েছে ট্রুম্যানের প্রাত্যাহিক জীবন রেকর্ড করার জন্য। এই টিভি শোটি ট্রুম্যানের জন্ম থেকেই চলে আসছে এবং এই শো এর নির্মাতা ট্রুম্যানকে আইনগত ভাবে দত্তক নেয় এই শোএর জন্য। সব কিছু ঠিকমতই চলছিল কিন্তু একদিন ট্রুম্যান সবকিছু সন্দেহ করতে শুরু করে। এরপর থেকেই ছবির আসল মজা শুরু হয়।

Memento



অসাধারণ একটি ছবি। ক্রিস্টোফার নোলানের মাইন্ডবেন্ডিং ড্রামা। কাহীনির চিত্রনাট্যটা কিছুটা কঠিন হওয়ার অনেকের কাছেই প্রথমদিকে ছবিটি বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু পরিচালকের দক্ষতা আর ছবির চমকৃত কাহীনির দরুন যে কারো মাথাই ঘুতে যেতে পারে। ছবির কাহীনিটা এরকম যে একজন ইন্সুরেন্স ইনভেস্টিগেটর লেনার্ড একটি দুঘটনায় সে তার স্ত্রীকে হারায় সাথে এবং একি দূর্ষটনায় তার নতুন স্মৃতি তৈরী করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে। তবুও সে কঠোর অনুশীলন এবং বিভিন্ন উপায় অনুসরনের মাধ্যমে নিজের জীবন চালিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর তার জীবনের একটাই মাত্র লক্ষ্য থাকে তা হল যারা তার স্ত্রীকে খুন করেছে এবং তার এই অবস্থা করেছে তাদের খুজে বের করে হত্যা করা। এই হল মোটামুটি ছবির শুরুর কাহীনি। পুরো ছবিটি দুইভাবে দেখানো হয়। একভাবে কাহীনি সামনের দিকে এগিয়ে যায় আর আরেকভাবে শেষের দিক থেকে কাহীনি শুরু হয়ে একটু একটু করে পিছনের ঘটনা দেখাতে থাকে। এভাবে কাহীনি যত এগোতে থাকে লেনার্ডের স্ত্রীর খুনিদের রহস্য একটু একটু করে উন্মোচন হতে থাকে। ছবির শেষ পর্‍্যায়ে কাহীনি সম্পূর্ণ অন্য দিকে মোড় নেয় এবং সব রহস্য খোলাসা হয়ে যায়।

2001: A space odyssey



কিংবদন্তি চলচিত্র নির্মাতা স্টানলি কূব্রাকের অন্যতম ছবি। এটাকে সকল সায়েন্সফিকশন ছবির গুরু বলা চলে। ছবির কাহীনির সম্পর্কে ধারনাই মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষম। অনেক আগের ছবি হলেও ছবির গ্রাফিকাল কাজগুলো বর্তমানের ছবি গুলোর থেকে কোনো অংশে কম নয়। এর সব কৃতিত্বই যায় পরিচালকের উপর। ছবির কাহীনিটি একটু অন্যরকমের। ডায়ালোগ খুব কম থাকায় সম্পূর্ন ছবি বোঝার জন্য বেশ কয়েকবার দেখার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু যতবারই দেখুননা কেন প্রতিবারই এই ছবির কাহীনি সম্পর্কে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করবেন। ছবিটি অবশ্য কিছুটা বিতর্কিতও বটে। ছবির মূল কাহীনি মানবজাতির বিবর্তন নিয়ে। একেবারে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে কীভাবে মানুষ সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হয়ে মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানে প্রসার লাভ করে, পুরো পৃথিবী শাসন করে কীভাবে তারা পৃথিবী ছেড়ে বাইরে অন্য গ্রহে পদার্পন করে এবং এভাবে বিবর্তনের ফলে মানবজাতির পরবর্তী অবস্থা কি হতে পারে তাই দেখানো হয়েছে এই ছবিতে।
এই ছিল আমার দেখা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মত সেরা পাঁচটি ছবি। সবাইকে ধন্যবাদ।

আমার লেখা এই পোস্টটি আগে এখানে প্রকাশিত হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×