
নিরঞ্জন দা’ মরে গেছে সেই কবে
আমার তখন সতের বছর বয়েস।
পূর্ণিমাভরা সন্ধ্যেয় তার চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে যেতে দেখলেই বলতেন-
আজ ভয়াবহ মনখারাপ, তোর কথার সমুদ্র থেকে কিছু শুনিয়ে যা।
আমি লাজমুখে দাঁড়াতাম গনগনে চুল্লির পাশে।
বলতাম, দাদা আরেকদিন বলবো, কাজ আছে, বাড়ি যাই।
তিনি বলতেন-মাত্র! পাঁচ মিনিট সময় নেবো তোর
আমার সেই পাঁচ মিনিটের ঘোর...
মুখে যা আসতো বলতাম। সব বানানো কথা, সব মিথ্যের ফুলঝুড়ি, সব আবেগী গল্প।
নিরঞ্জন দা’ সব শুনতো, হেসে বলতো তুই তো কবি হয়ে যাচ্ছিস রে...
আমি ঠিক জানতাম,
কবি হওয়া সহজ নয়।
অতো প্রতিভার সমুদ্র আমার মাথায় নেই।
তবুও তা’র কথায় হাসির ঝিলিক দিতাম।
তারপর ধোয়াবৃষ্টির চা’ খেয়ে বাড়ি ফিরতাম।
কোন কোন দিন কলম নিয়ে বসতাম লিখতে-
কিন্তু কিছুতেই মনে পড়তো না,
মন থেকে ভাসা সেইসব কথামালা,
কিছুতেই লিখে উঠতে পারতাম না একটা কবিতা।
এখন নিরঞ্জন দা’ নেই!
তবুও পূর্ণিমা এলেই সেই রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে কবিতার মতো করে শব্দযুদ্ধ খেলি-
কিন্তু বাড়ি ফিরতেই সেই আগের মতোই সব ভূলে যাই।
লিখতে পারি না একটাও কবিতা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


