আর মাত্র ক’টা দিন। ‘ছেড়ে যেতে হবে’ ভাবতেই মনের ভেতরটায় কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। আমার এই দু’হাত চওড়া ছোট্ট খাট, বই-পত্রে ঠাসা ছোট্ট চেয়ার-টেবিল সব...সবই ছেড়ে যেতে হবে। সবচেয়ে মন পুড়ছে আমার এই জানালাটির জন্য যেখানে ছোট্ট চৌকাঠের ভেতরে আমি এক বিশাল পৃথিবীকে দেখতে শিখেছি। গভীর রাতে বোটানিক্যাল গার্ডেনে হঠাৎ ডেকে ওঠা ডাহুক, রেলগাড়ীর হুইসেল, এক পাল শিয়ালের হুক্কাহুয়া, আবার খাঁ-খাঁ দুপুরে পুকুরের নিথর জলে পানকৌড়ির ডুব-সাঁতার, বিশাল দেবদারুর মাথার উপর দিয়ে ছুটে চলা সাদা মেঘ, তাল তলায় বাশের মাচালির উপর মালি মামাদের নিয়ম করে বিশ্রাম সব কিছুই ভালো লাগে। বিকেলে গার্ডেনের সবুজ ঘাসের উপর সোনা রোদ, নাম না জানা রং-বেরঙের পাখির হেটে বেড়ানো কত কি! আর এই সব কিছুর উপর যখন নেমে আসে রুপালী জোস্না, শীতের কুয়াশা অথবা আচমকা মেঘ-বৃষ্টি কী যে ভালো লাগে কেমন করে বলি! আমার জানালায় নিষ্পাপ এই প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে’ই রচনা করেছি কত স্বপ্ন সাধনা প্রেম হতাশা-বঞ্চনা সম্ভাবনা, আর নিজের অন্যরকম এক পৃথিবী। আহা...! আমার ৩০২, রহমতুন্নেসা হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়...!!!
"তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম
তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


