somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আআমি সসসহজ সসরল মানুষ

২১ শে অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আসসালামু আলাইকুম"

আজ একটু অন্য রকম অনুভূতি, এই প্রথম কোন সাইট এ ব্লগ লিখতে যাচ্ছি। অনেকদিন ধরেই আমি সামুর নিয়মিত পাঠক। ব্লগ পড়তে একটা অন্য রকম আনন্দ পাই। ভাবলাম আমি ও কিছু লিখব। কিন্তু আমার তো PC নাই রেজিস্ট্রেশন করতে পারি নাই এতোদিন। অবশেষে অনেক চেষ্টা মেষ্টা করে একটা ID খুলেই ফেল্লাম। B-) কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন "খুব বীরত্বের কাজ করছেন ভাই। :p" কথাটা আসলে ঠিক আজকাল বাচ্চারা ও এসব বিষয়ে অনেক এক্সপার্ট।
যাইহোক আমি অন্তত দুই মাস চেষ্টা করে ওপেরা মিনি দিয়া মোবাইল থেকেই রেজিস্ট্রেশন করলাম আর প্রথম ব্লগ টা ও লিখছি মোবাইল থেকেই। তাই আমার এ এক অন্য রকম অনুভূতি।
পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে (আসলে পড়াশুনা ফাঁকি দিয়া) সময় পেলেই মোবাইল টার উপর নির্যাতন চালাই।

স্কুল লাইফ খুব মিস করি দুষ্টুমি করলে, বিশেষ করে পড়া না পারলে স্যার রা যে পিঠা দিতো, স্টিলের স্কেল দিয়া!! তা কি ভূলা যায়? চুল বড় রাখলে তো আর কথাই নাই, কান মলা আর সমস্ত ঝড় বয়ে যেত মাথার উপর দিয়ে। তখন কেঁদে কেঁদে বড় ভাইয়া ছোট আপার কাছে বললে তারা মিছে সান্ত্বনা দিত কি না জানি না, বলতেন তোরা তো ছোট মানুষ স্যার রা একটু আরেকটু তো বকবেই। একটু বড় হ, কলেজ এ উঠ, দেখবি জীবন টা কততো FREE!!! স্যার রা বকে না, পড়া ধরে না, নিজের ইচ্ছামতো ক্লাশ করা যায়, চুল বড় বড় রাখলেও স্যার রা কিছু বলে না, স্কুল ড্রেস পড়তে হয় না,
সেই থেকে মনের ভেতরে একটা স্বপ্ন পোষে রাখলাম, আর কয়টা দিন ই তো একটু কষ্ট করে নেই কলেজে উঠলে সব উসল করে নেব।

SSC পরীক্ষা শেষ, কলেজ এ ভর্তি হলাম, মনের সেই বাসনা পূর্ণ হবে। কলেজ এ কিছুদিন যাওয়ার পর ই টের পেলাম, সেই কড়া শাসন, আর পড়াশুনার চাপ কমেনি এতটুকুও বরং তিন গুন বেড়ে গেল। :o হুট করেই আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল স্যার আদেশ জারি করলেন, সবাইকে কলেজ ড্রেস পড়ে আসতে ছেলেদের সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর মেয়েদের সাদা এপ্রন। :d
আমাদের কলেজের ইতিহাসে এই প্রথম এই ধরনের কুখ্যাত সিদ্ধান্ত। ড্রেস না নিলে তো ক্লাশ এ ছেলে মেয়ে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হত, এমন কি ১ম সাময়িক পরীক্ষা হল থেকেও কয়েকজনকে বের করে দেয়া হল। :o শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছাকৃতভাবেই মেনে নিতে হল এই তথাকতিত কুখ্যাত সিদ্ধান্ত।
বুঝলাম স্কুল লাইফ টা কলেজ লাইফ টা কে গ্রাস করে নিলো। কলেজ ক্যাম্পস এ পর্যন্ত কেউ জোড়ে গান বাজানোর সাহস করতো না।
স্যারদের মন জুগিয়ে, যথাযথ বাধ্য ছেলের মতো কলেজ টা ও শেষ করে নিলাম।
এখন অবশ্য আমাদের কলেজে আবার সেই অতীতের পরিবেশ ফিরে আসছে। কারন আমাদের সেই শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল স্যার প্রমোশন পেয়ে চলে গেছেন।
আগে না বুঝলেও এখন বুঝতেছি, উনার মতো একজন আদর্শ প্রিন্সিপাল পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কলেজের সকল অনিয়ম বন্ধ করে দিয়েছিলেন আমাদের অধ্যক্ষ স্যার। স্যার যেমন সত্‍ ছিলেন তেমনি ছিলেন সাহসী॥
যাই হোক, আপাকে বল্লাম কলেজে উঠলেই সবাই স্বাধীনতা পায়? আমার জীবনটা তো বইয়ের মাঝেই বন্দী হয়ে রইলো। আপা মুচকি হেসে বললেন, তোরা তো scienc এর student তাই আরকি:p মেডিকেল বা ভার্সিটিতে উঠ দেখবি সব টিক হয়ে যাবে।

অনেক কষ্ট মষ্ট করে মেডিকেল এ আল্লাহর রহমতে চান্স পেয়ে গেলাম। ভাবলাম জীবনের চরম স্বপ্ন আজ পূরণ হতে চলেছে!! now I am a medical student. আমি এবার স্বাধীন মুক্ত। স্বাধীনতা সেতো আমার জন্য নয়। মেডিকেল ভর্তির সাখে সাখেই টের পেলাম রাজনৈতিক ভাইয়াদের হাতে আমার স্বাধীনতা পিষ্ট হতে চলেছে। ভর্তির ১ম দিনেই ঘটে গেল ছাত্র শিবির আর ছাত্র লীগ এর ভাইয়াদের মাঝে এক তুমুল ধূড়ুম ধাড়াক্কা। কলেজ এ ডুকতেই এই ভাইয়া আসে, কলম লাগবে? ওই ভাইয়া আসে সব কাগজ পত্র ঠিক আনছো না হয় দাও ভাইয়া ফটোকপি করে নিয়া আসি। আমি কোন কথা বালছি না দেখে ভাইয়ারা হয়তো ক্ষেপে যাচ্ছিলো। এক ভাইয়া মোবাইল নাম্বার চাইলো। আমি আবার একটু ভীতু টাইপ। দিলাম না,আবার চাইলো দিলাম না, শেষে বলল আমার টা নাও তাও আমি রাজি না। কারন আমিখুব Nervous feel করলাম কিংকর্তব্য বিমূঢ় ছিলাম,কিঞ্চত ক্ষেপে গিয়া বাললো তুমি কি ওদের দলে যোগ দিয়া দিসো নাকি? Polictis ভয় পাই, আমি বল্লাম। তখন ভাইয়া স্ট্রিকটলি বলে দিলো "Politics করবা না ভালো কথা, আমাদের সাখে না ই থাকো (থাকতে তো হবেই) ওদের সাথে যেন ও কক্ষণই না দেখি "
স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক আমি হে হে B-)

এখন আসি শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের ব্যাপারে, যেহেতু মেডিকেল এর সকল পরীক্ষাই ভাইভা নির্ভর স্যারেরা আমাদের প্রথমেই সতর্ক করেন,
কখন ও স্যারদের কুনজরে পড় না কারণ মেডিকেল এ নিজের ইচ্ছায় ফেল করা যায় কিন্তু নিজের ইচ্ছায় পাশ করা যায় না। একজন টিচার চাইলেই যে কাউকে বছরের পর বছর আটকে রাখতে পারে। মেডিকেল Science এক বিশাল সিলেবাস, একজন স্টুডেন্ট যদি চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ও আসে, তার পরে ও স্যার যদি চান, এমন একটি প্রশ্ন করেন যেটি সে তার বাপের জন্মেও শুনে নি!!! :d :d So, to pass is a great terrible. স্যার নিজেই কিছু উদাহরন দিলেন,
এক আপু প্রেকটিকেল খাতায় সাইন নকল করে ধরা খেল, এর পর ঔ আপু নাকি ভালো পরীক্ষা দেয়া সত্যেও ফেল মারছেন অনেকবার। বছর দু'তিন loss. এটা মানলাম আপু টির ভুলের খেসারত।

আরেকটি ঘটনা, এক ভাইয়া খুব ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন, ব্যপক পড়াশুনা ও করতেন তাকে স্যার রা প্রশ্ন করে আটকাতে পারেন না, সেই ভাইয়াকেও এক স্যার ফাইনাল ExAm (post graduation) এ খালি ফেল করিয়ে দেন। কারণ হল সেই ভাইয়া ঐ স্যারের সাথে তাল মিলিয়ে নিয়মিত practice শুরু করেন, চেম্বার খুলছেন স্যারের চেম্বারের কাছেই, ঔ রেশ ধরেই যতবার ই ভাইভা বোর্ডে স্যার থাকেন, JUST ফেইল। শেষ পর্যন্ত ঔ ভাইয়া কে পাশ করানোর ব্যাবস্থা হলো এভাবে, ঔ স্যার কে আর শেষ ভাইভা বোর্ডে আনা হয় নি।

মেডিকেল লাইফটা শুরু করার আগেই শ্রদ্ধেয় টিচার রা এভাবেই আমাদের ভয় দেখালেন।


অনেক উত্‍সাহ নিয়া মেডিকেল এ ভর্তি হইছিলাম, এখন পড়াশুনার নিচে চাপা পইড়া গেছি, "Medical Life Is Full Of Enjoyment Which Is Covered By A Darkness Of Little Politics & Huge Study But Enlightened By Different Culture Of Different Pepole Of Different Class in our society"
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ১০:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×