
ইবাদতের কিছু অংশ কোরআন থেকে, বাকী অংশ হাদিস থেকে, আর দ্বন্দ্ব ও সংকট সমাধানে ইজমা ও কিয়াছ।বদরের বন্দীদের কি করা হবে এ বিষয়ে মহানবি (স.) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইজমা এর ভিত্তিতে। আবুজর গিফারীকে (রা.) হজরত ওসমান (রা.)রাবওয়াহ নামক স্থানে বনবাসে পাঠিয়েছিলেন কিয়াছের ভিত্তিতে।কারণ হজরত আবুজর গিফারী (রা.) হজরত ওসমানকে (রা.)কোরআনের আয়াত পাঠকরে স্বর্ণ ও রূপ্য (দ্বীনার ও দেরহাম বা আমাদের হিসেবে টাকা-পয়সা) সঞ্চয় করতে নিরুৎসাহিত করতেন। যদিও কোরআনের আয়াতে যাকাত না দিয়ে সঞ্চয় করতে বারণ করা হয়েছে। আর হজরত ওসমান (রা.)যাকাত দিয়ে সঞ্চয় করতেন। কাজেই কিয়াছ মতে হজরত আবুজর গিফারী (রা.) হজরত ওসমানকে (রা.) অহেতুক বিরক্ত করা বিষয়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন।যার শাস্তির পরিমাণের কথা কোরআন ও হাদিসে না থাকায় হজরত ওসমান (রা.) সেটা কিয়াছ বা অনুমানের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছেন।তাঁর কিয়াছি সমাধান হলো, বিরক্তকারীকে দূরে সরিয়ে দেওয়া।কিন্তু হজরত ওসমানের (রা.) কাজ কোরআন ও হাদিসের বাইরে বা মনগড়া আখ্যা দিয়ে কিছু সংখ্যক লোক হজরত ওসমানের (রা.) বিরোধী হয়ে পড়ে।হজরত ওসমান (রা.) তাঁর যোগ্য স্বজনদের চাকুরী প্রদান করেছেন বা বিরোধী পক্ষের দাবী উপেক্ষা করে চাকুরীতে বহাল রেখেছেন এটাও বিরোধী পক্ষ হজরত ওসমানের (রা.) দোষ হিসেবে সাব্যস্ত করে। যদিও কিয়াছ মতে তাতে হজরত ওসমানের (রা.) কোন দোষ ছিলনা।অতঃপর নিজ বিবেচনায় অতি ন্যায়বান লোকেরা হজরত ওসমানকে (রা.) হত্যা (শহীদ) করে ফেলে।আর তাতে ইসলামের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটা সবার জানা।বাস্তব হলো, শাসকের সামনে এমন কিছু বিষয় উপস্থিত হয় যার সমাধান কোরআন ও হাদিসে না পেলে তিনি ইজমা ও কিয়াছে বাধ্য হন। এজন্য বিজ্ঞ ফকিহগণ ইসলামের চার মূলনীতি (কোরআন হাদিস ইজমা ও কিয়াছ) ঘোষণা করেন।কিন্তু ইসলামের অতি বুঝদার বা চরমপন্থিরা ইজমা ও কিয়াছ অমান্য করার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক ফিতনা সৃষ্টি করছে, যার শুরু তারা করেছে হজরত ওসমানের (রা.) সময়ে।তাদের ফিতনা চলতে থাকলে মসজিদ সমূহ মুছল্লী শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে এরা ফিকাহ অস্বীকারকারী আহলে হাদিস নামে বিদ্যমান, যারা ইজমা ও কিয়াছ মানে না।অথচ ইজমা গ্রহণ করেছেন স্বয়ং মহানবি (সা.) এবং কিয়াছ গ্রহণ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ট সাহাবা জামাতা ও খোলাফায়ে রাশেদার তৃতীয় খলিফা। সংগত কারণে এ দু’টি কোরআন ও হাদিসের বাইরে নয়। কারণ কোরআনে মহানিকে (সা.) মানতে বলা হয়েছে এবং সাহাবায়ে কেরামের (রা.) উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট বলা হয়েছে। কাজেই ইসলামের চার মূলনীতি নির্ধারক ফকিহগণ ইসলামী মতে সঠিক। আর অতি ইসলাম বুঝদার আহলে হাদিস ইজমা ও কিয়াছ অস্বীকার করে সঠিক পথে নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
