somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Movie Review - আশিকী (২০১৫)

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশিকী.........
(স্পয়লার এলার্ট)
.
সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে কেমন লাগে?? ভুলেই গিয়েছি কেমন লাগে।। জানা দরকার। চলো জেনে আসি। বন্ধুকে নিয়ে দেখতে গেলাম "আশিকী".. অবশ্য আরেকটা উদ্দেশ্য ছিলো। আগ্রহ বাড়ানো.. সিনেমার মালিকদের ভালো মুভি আনা এবং হলের কোয়ালিটি এবং পরিবেশ ভালো করার, ক্লাস অডিয়েন্সদের হলে ফেরানোর। নির্মাতাদের ভালো ভালো মুভি বানানোর।। কিছুটা চ্যারিটি টাইপ........
কেউ যদি আমাকে ১০০টাকা দিয়ে পিসিতে বা টিভিতে তামিল অথবা কোলকাতার অথবা বাংলাদেশের তথাকথিত কমার্শিয়াল মুভি দেখতে বলে তবুও আমি দেখবোনা। এতই বিরক্তিকর লাগে এসব........
তাই অবশ্যই আমি কোন ইন্সেপশন দেখার জন্য যাইনি। অতটুকু ধৈর্যশক্তি নিয়েই গিয়েছিলাম যাতে কোলকাতার মুভি টলারেট করতে পারে।।
কোলকাতারই বলবো। এসব নামেই যৌথ প্রযোজনা।।।।।
.
টিকিট কেটে ঢুকলাম। বিলুপ্ত প্রায় মফস্বলের সিনেমাহল। কিভাবে যেন জাজ এর সাথে চুক্তি করেছে এখন থেকে জাজের সব মুভিই পাবে। ভালো কথা.....
সিনেমার পর্দা দেখে ধারনা পাওয়া যায় কমসে কম ১৫বছর এ পর্দা চেঞ্জ করা হয়নি বা কাচা হয়নি। পানি ঢেলে দিয়ে কয়েক কেজি কাদা পাওয়া যাবে... ছোটবেলায় দেখতাম ঈদ এলেই সিনেমাহল কত সুন্দর করে সাজাত!! এরা একটা পর্দাও পরিষ্কার করতে পারেনি!!
.
যাই হোক মুভি শুরু হলো।।...
মুভির স্ক্রিন রেশিও ছিলো ১৬:৯ কিন্তু পুরান আমলের সিনেমাহলের পুরা স্ক্রিন করতে টেনে স্ক্রিন রেশিও করে রেখেছে ৪:৩..... যা সামান্য বিরক্তিকর ছিলো। সবকিছুই সামান্য লম্বাটে দেখাচ্ছিলো। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যপারটাই নরমাল মনে হচ্ছিলো।। সাউন্ড কোয়ালিটি ভালোই ছিলো। ডায়লগ গুলো স্পস্ট শোনা যাচ্ছিলো।।।
.
স্টোরির ব্যপারে বলতে গেলে বলতে হয় চরম দুর্বল স্টোরি। শুনেছি কোন এক তামিল মুভির কপি। তামিল মুভি থেকে কি আর আশা করা যায়???
অঙ্কুশ একটা ছ্যাঁচোড় টাইপ ছেলে। নুসরাত টপিকাল মেয়ে. দুজনেই লন্ডনে থাকে.... অঙ্কুশ নুসরাত কে পেছন থেকে দেখেই ভালোবেসে ফেলে(!!!!!).. সে তার হাতে এবং পায়ে ট্যাটু দেখে মনে রাখে।। অপর দিকে নুসরাতও অঙ্কুশ এর পেছনটা দেখেই প্রেমে পরে যায়(ভাই পেছনে কি এমন পেলেন আপনারা যে পেছন দেখেই প্রেমে পরে যান??)
এরপর দুজনের দেখা হয় দিলওয়ালে দুলহানিয়ার ট্রেইন সিনের মত.... সেইম ফ্রেম টু ফ্রেম দিলওয়ালে দুলহানি কপি করে পেস্ট করা। এরপর Jab We Meet থেকেও কপি পেস্ট করে মুভিকে চুইংগাম বানিয়ে টেনে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আর কি।। কিছু কিছু জায়গায় একটু জোকস্ ঢোকানো যা মোটামুটি বিনোদন দিয়েছে।
দুজনের প্রেম হয়ে গেলো.........
এবার অঙ্কুশ জানতে পারলো নুসরাত এর দাদা তার দিদীর এক্স বয় ফ্রেন্ড যাকে দিদীর সাথে বেয়াদবি করার অপরাধে মেরেছিলো সে।।।।।
এখন নুসরাতের ভাই তাকে মেনে নেবেনা তাই সে বিভিন্ন কৌশলে নুসরাতকে পেতে চায়......
.
আচ্ছা অঙ্কুশ কেন নুসরাত এর দাদাকে গিয়ে একবারো বললো না "দাদা যা হবার হয়ে গেছে। আমারো মাথায় রক্ত উঠে গেছিলো। সব ভুলে গিয়ে নুসরাত কে আমার সাথে বিয়ে দিন। আমরা একে অন্যকে ভালোবাসি।"
একবার ট্রাই তো মারতে পারত নাকি???
তা না করে সে গার্ল ফ্রেন্ডের বড় ভাই যাকে সম্মান করা উচিৎ তাকে ইচ্ছামত কুকুর বিড়ার হ্যান ত্যান বলে গালাগাল দিয়ে গালমন্দ করছে।।।। কোন যুক্তি হয়???
এবার বুঝলাম ইদানীং সমাজে ছেলেপুলের ভেতর থেকে ভদ্রতা, বিনয়ন কেন হারিয়ে যাচ্ছে।। অসভ্যের লিমিট থাকে.......
.
অঙ্কুশের পার্ট চরম বিরক্তিকর ছিলো।। গাড়িতে পেট্রল ঢালছে তাও মনে হচ্ছে মনে হয় এভারেস্ট জয় করেছে। এমন ভাব....
.
অভিনয়ের ব্যপারে তেমন বলতে পারবোনা। কারন হলে মুভি দেখে অভ্যাস নেই তো তাই বুঝতে পারছিলাম না কেমন করছে তারা। তবে নুসরাত কে মাহির থেকে বেটার লেগেছে।।
.
যারা মনে করেন শুধু ইন্ডিয়ান আর্টিস্ট নিয়ে বানিয়েছে তাদের বলে রাখি। পুরো মুভিতে ক্যারেক্টার মাত্র ৫-৬জন। দু চার মিনিটের জন্য আর কাকে কাকেই বা নেবে।।
হিন্দী ব্যবহারকে আমি পজেটিভলি নিয়েছি কারন লন্ডনে আমার আপু থাকে তাদের আশেপাশে বেশিরভাগই ইন্ডিয়ান থাকে। আপুরাও প্রচুর হিন্দী ব্যবহার করে। তাছাড়া যে দেশে বাড়িতে বাড়িতে হিন্দী চ্যানেল চলে সেখানে সিনেমাই দু চারটা হিন্দীতে কি যায় আসে।।।।।
.
যাই হোক যেহেতু আমার হলে সিনেমা দেখে অভ্যাস নেই সেহেতু বুঝতে পারছিনা যে মুভিটা আমার মোটামুটি লাগলো নাকি জঘন্য লাগলো। তবে একটা বেপার ক্লিয়ার খুব ভালো লাগেনি।।
যারা টাইমপাস করতে সিনেমা হলে যেতে চান তারা গিয়ে দেখতে পারেন। লন্ডনের ভালো কিছু দৃশ্য আছে.... গানগুলোও ভালো। নায়িকাও সুন্দরি। যৌন শুড়শুড়ি দেওয়া ডায়ালগ আছে।।।। সব মিলিয়ে একটু আধটু এন্টার্টেইনিং, একটু আধটু বোরিং, একটা আধটু বস্তাপচা।।।। ;) ;)
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ভালোবাসার কাব্য=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১১


মন পিঞ্জরে করবো বন্দি, পালাবি আর পাখি?
জানিস কী তুই তোকে নিত্য, নজরবন্দি রাখি!

স্বাধীন ডানায় উড়িস ঘুরিস, আমায় দূরে ফেলে,
আমারও তো ইচ্ছে লাগে, উড়ি ডানা মেলে!

মনের ভিতর ঘূর্ণি তুফান, বেসুরো সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×