তারা ৫০ জন দরিদ্র নারী কর্মী। টিভিতে নিউজে দেখলাম দালালদের খপ্পরে পড়ে পাচার হওয়া এ অসহায় নিঃস্ব নারী কর্মীরা সৌদি আরবের রিয়াদে বন্দী আরয ক্রীত যৌনদাসী হিসাবে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। এরা সবাই পরিবারের ছোট ছোট সন্তানদের ফেলে কিছু অর্থ প্রাপ্তির আশায়, সন্তানদের ভবিষ্যত, উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় একা নারীর সমস্ত বিপদ আশংকা জেনেও বিদেশের অজানা গন্তব্যে তারা গেছে। আজ সমূহ বিপদে কান্না আর অর্ধাহার অনাহারই তাদের একমাত্র অবলম্বন। সাংবাদিক, প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে উনি বললেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখব!” এ আমলারা চোখে দেখে না, দেশের মানুষের কষ্টের কথা শুনেও না শোনার ভান করে। দেশের মানুষের টাকায় চলা এ আমলারা বোঝে না দরিদ্র, বন্দীশালায় নিপিড়িত এ ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করবে কোথায়, কিভাবে? এ নিপিড়িতদের বের করা এবং এর প্রতিকার করা, উদ্ধার করা এসব আমলাদের দায়িত্ব।
মনটা আরো খারাপ হলো পত্রিকায় পড়ে লিবিয়ার ডিটেনশান সেন্টারে আটক ৩৭ জন বাংলাদেশীর মানবেতর জীবনের কথা জেনে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। কয়েকমাস আগে পাড়ি দিয়েছিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত লিবিয়ায়। লক্ষ্য ছিল ইউরোপের দেশ ইতালী। এমন প্রলোভনই তাদের দেখিয়েছিল দালালেরা। বলেছিল, ইতালী পৌঁছানোর পরেই টাকা হাতে নেবে। সরল বিশ্বাসে এসব কথা বিশ্বাস করে তারা। কিন্তু দেশ ছাড়ার পরই পাল্টে যায় দালালদের চরিত্র। বন্দীশালায় আটকে ফেলে তাদের। পরিবারের কাছে দাবী করে মোটা অংকের টাকা। সেই টাকা পাওয়ার পরই নৌকায় তুলে ভূমধ্যসাগরে অজানা গন্তব্যে ছেড়ে দেয়। একই দিনে পাচার হওয়া ৫১ জন বাংলাদেশীদের মালয়েশিয়ার এক বিল্ডিং এর বন্দীশালা থেকে উদ্ধারের আর তাদের অবর্ণনীয় দুর্দশার কথাও পত্রিকায় এলো। আশা করি দেশের আমলারা এসব অসহায় মানুষদের নিয়ে ভাববেন। এত উন্নয়নের খবরের মাঝেও এসব দেখে আর পড়ে আসলেই মনটা ভালো নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



