somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব জলবায়ু পরিবরর্তন ও বাংলাদেশ

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অামরা সবাই অবগত আছি বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সমস্যা ও তার বিরূপ প্রভাব ক্রমশ প্রকট আকার ধারণ করায় সমগ্র মানবজাতি এখন শঙ্কিত। উন্নত বিশ্বে এসব সমস্যা উন্নয়নশীল দেশের সমস্যার তুলনায় ভিন্নতর এবং ভিন্নমাত্রার। সমস্যার এই ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বের প্রতিই পরিবেশ সমস্যা হুমকিস্বরূপ। কোন কোন দেশ কর্তৃক সৃষ্ট দূষণ সে দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে সীমিত নাও থাকতে পারে, তা সমগ্র ভূমন্ডলে ছড়াতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সেই পৃথিবীর শুরু থেকেই মানুষ সব সময়ই কোন না কোনভাবে পরিবেশ দূষিত করে আসছে। আর এই পরিবেশ দূষণের ফলেই বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের শুরু।
উল্লেখ্য, ১৮ শতকের শিল্প বিপ্লব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে মানুষের কর্মকান্ড তার চারপাশের পরিবেশকে দূষিত করে চলেছে, যেমন-কলকারখানার ধোঁয়া, ইটের ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ইত্যাদি। এ ছাড়াও দ্রুত নগরায়নের জন্য নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে বায়ুমন্ডলের কার্বনডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেছে ভীষণ। এভাবেই মানুষের কারণে বায়ুমন্ডলে তাপবৃদ্ধিকারক গ্যাসের পরিমাণ ভীষণভাবে বেড়ে যাওয়াতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আমাদের দুই মেরুতে যে বিপুল পরিমাণের বরফ জমে আছে তা গলতে শুরু করেছে। বরফগলা অতিরিক্ত পানি এসে পড়ছে সাগরে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেছে। এ ছাড়া তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বাষ্পীভবনের মাত্রা বেড়ে বৃষ্টিপাতের হার বেড়েছে বহুগুণ। উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন আজ এক স্বীকৃত সত্য, বাস্তব ঘটনা। উষ্ণতা বাড়ার কারণে পৃথিবীতে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার বাড়ছে। ফলে তৃতীয় বিশ্ব ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির ছোট ছোট দরিদ্র দেশগুলোও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
ইউনিসেফের হিসাব মতে, বিশ্বের প্রায় ৫৩ কোটি শিশু মাত্রাতিরিক্ত বন্যাপ্রবণ এলাকায় বাস করে। এর মধ্যে ৩০ কোটি শিশু বাস করে এমন দেশগুলোতে, যেখানকার অর্ধেক বা তারও বেশি মানুষ দরিদ্র। এ ছাড়া প্রায় ১৬ কোটি শিশুর বাস অত্যধিক খরাপ্রবণ অঞ্চলে। আর ১৫ কোটি শিশুর বাস এমন সব এলাকায়, যেগুলোতে সাইক্লোনের প্রবণতা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের আরো প্রায় ১০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতিসংঘ সমর্থিত আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) রিপোর্টে বলা হয়েছে এই শতকে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে ০.৩ থেকে ৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শিল্প কারখানা যেখানে বেশি, সেখানে গড়ে ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে।
২১০০ সাল নাগাদ সাগরে পানির উচ্চতা বাড়বে ২৬ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা যদি এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়, তবে ঝুঁকির পরিমাণও সেই অনুপাতে বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বিশ্বের কোন মানুষই রেহাই পাবে না। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দফতর বলেছে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এরই মধ্যে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলেছে বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসই আবহাওয়ামন্ডলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। বাড়ছে খরা, ঝড়-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব শহর, হুমকির মুখে তার মধ্যে রয়েছে ভেনিস, ঢাকা, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক, ব্যাংকক, হংকং, হো চি মিন, টোকিও, মুম্বাই ইত্যাদি। তা ছাড়া জলবায়ুর প্রভাবে গত চার দশকে সামুদ্রিক প্রাণীদের সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ফলে জলবায়ু পবির্তন ঘটছে ব্যাপকভাবে। যেসব দেশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনকারী হিসেবে পরিচিত তারা হলো- চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, রাশিয়া, জাপান। বিগত ২৫ বছরে দ্রুত উন্নয়নশীল চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত পরিণত হয়েছে প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ সর্বোচ্চ গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনকারী দেশে। ১৯৯২ সালে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলোই পরিবেশের ক্ষতি করেছে। আর এ সমস্যা সমাধানের জন্য তাদেরই বেশি পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ১৯৯৭ সালে প্রণয়ন করা কিয়োটো প্রটোকলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েছিল।
২০০৫ সাল থেকে কার্যকরী হওয়া কিয়োটো প্রটোকলে বলা হয়েছিল, শুধু শিল্পোন্নত দেশগুলোই গ্যাস নির্গমনের মাত্রা কমাবে। যদিও সেসময়ের শীর্ষ নির্গমনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এতে স্বাক্ষর করেনি। তবে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্মগমনকারী শীর্ষ দেশগুলো এরই মধ্যে তাদের কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়েছে জাতিসংঘে। জাতিসংঘের মানদন্ড অনুযায়ী, প্রাকশিল্পায়ন যুগের সাপেক্ষে বৈশ্বিক উষ্ণতা কোনভাবেই দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে নিয়ে যাওয়া যাবে না, তবে বিশ্বের গরিব ও নিচু স্থানে থাকা ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো (যারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম শিকার হবে) বলেছে, দুই ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। যেতে হবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গেলেও পৃথিবীতে অনেক খরা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসতে পারে।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনে কোনভাবেই দায়ী না হয়েও জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হওয়া কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্য়য়ের ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আছে প্রথম সারিতে। আমরা জানি, ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য সমন্বয় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। নদীবিধৌত এই বিস্তৃত সমতল মূলত দক্ষিণের সমুদ্র হতে উদ্ভূত এক বিশাল বদ্বীপ। আবার এর উত্তর ও পশ্চিমে অবস্থিত সুউচ্চ পর্বতসমূহের কারণে ঐ এলাকার ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে বেশ উঁচুতে অবস্থিত। ভূমি বৈচিত্র্য ও ভৌগোলিক অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে সামগ্রিক পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশে একেক অঞ্চলে একেক রকম পরিলক্ষিত হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনের স্থল ও জলভাগের লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ নানারূপ ক্ষতিসাধন হচ্ছে এবং এরই প্রভাব হিসেবে সমগ্র দেশের পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। শুধু সুন্দরবনেই না, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণের বঙ্গোপসাগরসহ সমগ্র দেশজুড়েই বিশেষ করে হাওর, বাঁওড় ও নদীগুলোতে জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক বিলুপ্তি ঘটছে ও পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল প্রায় প্রতি বছরই খরা ও মঙ্গা কবলিত হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয়চূড়ায় বরফ গলছে আর অন্য দিকে আমাদের নদীগুলো অতিরিক্ত পলি জমার কারণে নাব্যতা হারাচ্ছে, এই দুইটি কারণে বন্যা ও নদীভাঙন উত্তরের জেলাগুলোর জন্য আবশ্যিক দুর্যোগ হয়। এছাড়াও শীতকালে উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশেই অতিরিক্ত শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতুচক্রে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে। ফলে ফসলের ফলনকালেরও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এমন অনেক ফসল আছে যা পরিবর্তিত জলবায়ুর কারণে অথবা জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রভাব যেমন জলাবদ্ধতা বা পানির ঘাটতির কারণে এখন আর চাষ করা যায় না। চাষাবাদের সময়কাল ও দীর্ঘদিনের ধারায় আকস্মিক ও ঘনঘন পরিবর্তন সমগ্র দেশের প্রয়োজনীয় কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ, পশুপাখি, উদ্ভিদ ও নানা ফসলের নতুন নতুন রোগ ও মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এরই প্রভাবে নিচু এলাকা ডুবে যাচ্ছে। একই কারণে বাংলাদেশ তার বিস্তৃত সমুদ্রতট যা পৃথিবীর বিস্তৃততম তট ও এক অনন্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত তা হারাতে বসেছে। এ ছাড়াও সমুদ্রের ছোট ছোট দ্বীপগুলো সেখানকার জীবজগৎ ও জনবসতির অস্তিত্ব নিয়ে হুমকির সম্মুখীন। ব্রিটেনের চ্যানেল ফোর এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের ওপর জলবায়ুর প্রভাব এরই মধ্যে বেশ ভালোভাবে পড়েছে। বাংলাদেশের তিনটি ভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতি বছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে ৬-২০ মিলিমিটার করে। এর মধ্যে গঙ্গা অববাহিকায় উচ্চতা বাড়ছে বছরে ৭-৮ মিলিমিটার, মেঘনা অববাহিকায় ৬-৯ মিলিমিটার ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে ১১-২০ মিলিমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের একটি বড় অংশ পানির নিচে চলে যেতে পারে বলে অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন বিজ্ঞানীরা।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গত ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০১৫, জাতিসংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জলবায়ু বিষয়ক ২১তম শীর্ষ সম্মেলন। দ্য কনফারেন্স অব পার্টিস (কপ-২১) নামের এই সম্মেলন। সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা ছিল ১১ ডিসেম্বর। মতৈক্য না আসায় সময় একদিন বাড়ানো হয়। অবশেষে ১২ ডিসেম্বর রাতে চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ। পৃথিবীর তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছেন তারা। ছয় বছর আগে কোপেনহেগেনে ও বিশ্বজলবায়ু সম্মেলন যা পারেনি, এবার প্যারিস সম্মেলন তা নিশ্চিত করেছে। এখন দৃষ্টি উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা। উল্লেখ্য, তবে চুক্তিটি প্যারিসে স্বাক্ষরিত হয়নি। এ বছর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের এক বিশেষ সভায় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা স্বাক্ষর করবেন। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। গ্রিনহাউজ নিঃসরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ব। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। একদিকে নদীভাঙন, অন্য দিকে মরুকরণের ফলে বাড়ছে জলবায়ু উদ্বাস্তু। এরপরও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো কোনো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। অভিযোজন ও জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার জন্য যে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা ছিল উন্নত দেশগুলো এখনো সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। এই প্রতিশ্রুতি আদৌ রক্ষিত হবে এমন প্রতিশ্রুতিও পাওয়া যায়নি প্যারিস সম্মেলনে। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলার এবং ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মোট ১০ হাজার কোটি ডলার দেয়ার যে অঙ্গীকার শিল্পন্নোত রাষ্ট্রগুলো কানকুন সম্মেলনে করেছিল, তা থেকেও তারা বেরিয়ে এসেছে। উল্লেখ্য, এবারের প্যারিস সম্মেলনের প্রাপ্তি একটাই, তা হচ্ছে একটি চুক্তি হয়েছে এবং চুক্তিটির আইনি কাঠামো আছে।
আসুন আমরা এক হই বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসের জন্য। অন্যের ঘাড়ে দায়িত্ব চাপানোর আগে নিজের ঘাড়ে দায়িত্ব বুঝে নিই। শপথ নিতে হবে সবার এক সাথে। অন্যকে দেখিয়ে নয়, শপথ নিতে হবে নিজের বিবেকের কাছে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবো না, প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় করবো না, দখল করবো না নদী-বন-পাহাড়। দূষণ করবো না আমাদের প্রিয় এই পৃথিবীকে। আমাদের ছোট ছোট শপথে বদলে যাবে দেশ। বদলে যাবে আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী। চলো, বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিরোধে আমরা সবাই এক হই।

তথ্যসূত্র: ইন্টারেনট , বই:বাংলাদেশের জলবায়ু, এবং ভূগোল ও পরিবেশ জার্নাল থেকে
(লেখক:সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা )
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১০:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×