![]()
বেশ গরম পড়েছে। এখনও তেমন ভাবে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। এই চরম গরম পরিবেশে হরহামেশাই হিট-স্ট্রোক হতে দেখা যায়। প্রচণ্ড রোদে পথ চলতে চলতে হঠাৎ করে নিজে বা অন্য কেউ এতে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। দেহের তাপমাত্রা কোন কারণে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে স্নায়ু-তন্ত্রের কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং শারীরিক কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। সংক্ষেপে একে হিট-স্ট্রোক বলা হয়। এটি জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ কিছু কৌশল জেনে রাখাটা সবার জন্যই ভাল। হিট-স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কখনো কখনো বেশ দ্রুত ও হঠাৎ করেই প্রকাশ পায়। আবার সবার ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো একই রকম নাও হতে পারে।
বেশ কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে, যা দেখে হিট-স্ট্রোক নির্ণয় করা হয়-
শরীরের তাপমাত্রা বেশ বৃদ্ধি পায় (পায়ু পথে ১০৪ ডিগ্রি হতে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট কিংবা এর চেয়ে বেশিও হতে পারে)। ঘাম হয়না। তাই গায়ের ত্বক শুষ্ক ও তপ্ত থাকে এবং লাল বর্ণ ধারণ করে। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। পাল্স বেড়ে যায়। অস্বাভাবিক আচরণ করে। দৃষ্টিভ্রম হতে পারে। অস্থিরতা বেড়ে যায়। খিঁচুনি হতে পারে। অচেতন হয়ে পড়তে পারে। চোখের তারারন্ধ্র সংকুচিত হয়ে যেতে পারে।
হিট-স্ট্রোক প্রতিরোধে কি কি করবেন?
প্রচন্ড রোদে একনাগারে পরিশ্রমের ফাঁকে মাঝে মাঝে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর তরল খাবার যেমন পানি, ফলের রস, ডাবের পানি, সরবত পান করতে হবে। রোদে বের হলে সঙ্গে ছাতা ব্যবহার করতে হবে। খুব গরম পড়লে দিনে দু-তিন বার গোসল করলে আরাম বোধ হবে। ব্লাডপ্রেশার কম থাকলে আহারের সময় সামান্য পরিমাণে কাঁচা লবণ খাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে খাবার স্যালাইনও খেতে হবে। এ সময় হালকা রঙের পোষাক পরিধান করাই ভাল। বৃদ্ধ ও শিশুরা গরমের সময় সহজেই আকান্ত হয়। তাই তাদের ব্যপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
![]()
হিট-স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা-
দ্রুত ছায়াঘেরা ঠান্ডা স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিত করে শুইয়ে দিতে হবে। পা-দুটি ও নিতম্ব কিছুটা উঁচুতে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। মাথার কাছে ফ্যান চালিয়ে দিতে হবে। শরীরের কাপড় খুলে ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে। বগল ও দুই উরুর খাঁজে কিছুক্ষণ আইস-ব্যাগ রাখলে ভাল হয়। খেতে পারলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘন ঘন পানি ও তরল খাবার দিতে হবে। মাঝে মাঝে শরীরের তাপমাত্রা মেপে দিখতে হবে। ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে না নামা পর্যন্ত ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। মুখে খেতে না পারলে ও শরীরের তাপমাত্রা কিছুতেই না কমলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



