somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খ্রিষ্টান মিশনারির কার্যক্রমঃ জেলা- পঞ্চগড়

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছুটলাম পঞ্চগড়ে । উদ্দেশ্য খ্রিষ্টানদের বর্তমান কার্যক্রম । পঞ্চগড়ে গিয়েই ওখানে অবস্থানরত ভাইদের কাছে জানতে পারলাম কিছু ঘটনা । আপনাদের কাছেও শেয়ার করতেছি । আশাকরি সবটুকু পরে বিষয়টা নিয়া ভেবে দেখবেন ।

** একটা বাচ্চা জন্মাবার পূর্বেই খ্রিষ্টানদের কিছু লোক ঐ বাড়িতে তার বাবা মায়ের কাছে যায় । এরপর বিভিন্ন কলা কৌশলে পরিবারের অস্বচ্ছলতার সুজোগ নিয়ে বিভিন্ন ভাবে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বাচ্চা কিনে নেয় । আর ঐ বাচ্চার যখন বয়স ৫ থেকে ৬ বছর হয় অর্থাৎ কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই খ্রিষ্টানদের মিশনারিতে ভর্তি হয় । আরও যেনে অবাক হবেন , তাদের বিভিন্ন পল্লী রয়েছে । যার নাম দেওয়া হয়েছে , ঈশা পল্লি , মরিয়াম পল্লি যীশু পল্লী ইত্যাদি ।

** এখানে ভর্তি হওয়ার পর একটা বাচ্চাকে যা শিখানো হয় । নাচ , গান সহ বিধর্মী যত কুকর্ম আছে সবই এখানে শিখানো হয় ।

** যেভাবে তারা ছোট বড় সকলের ঈমান নষ্ট করে , তার কিছু কৌশল আপনাদের সামনে তুলে ধরছি ।
আগেই বলে নেই ওদের প্রত্যেকটা কাজ করার জন্য আলাদা আলাদা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক থাকে
(১) বাচ্চাদের উপরঃ বাচ্চাদের কে যখন পড়ানো হয় । তার মাঝে একটা খাবারের ব্যাবস্থা করে । খাবার দেওয়ার আগে মুসলমান বাচ্চাদের বলা হয় তোমরা তোমাদের আল্লাহর কাছে খাবার চাও , হিন্দুদের বলা হয় তোমরা তোমাদের ভগবানের কাছে খাবার চাও এভাবে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বলা হয় । তারপর দেখে কোন খাবার আসেনা । এরপর বলে এবার সবাই চোখ বন্ধ কর , আর যীশুর কাছে খাবার চাও । এবার চোখ বন্ধ অবস্থায় প্রত্যেক বাচ্চার সামনে খাবার দিয়ে দেওয়া হয় । এরপর বলে চোখ খোল । এবার জিজ্ঞেস করা হয় কে খাবার দিছে ? সকল কোমলমতি শিশুরা জবাব দেয় যীশু । এরপর বলা হয় এবার তোমরা যীশুর নামে খাও , (নাউজুবিল্লাহ) । এভাবে আরো অনেক টেকনিক খাটিয়ে তারা কাজ করে ।

(২) বড়দের উপরঃ একটা কৃষক যখন ফসল ফলায় খ্রিষ্টানরা ঐ খেতে গিয়ে ঐ কৃষকের ছবি তুলে , নাম লিখে নেয় । আর বলে আপনাকে সেবা দেওয়া হবে । সেবার নামে ঋণ দেয় । অপ্ল অল্প ঋণ নিতে নিতে একসময় সুধে আসলে অনেক হয়ে যায় , যা তার পক্ষে পরিশোদ করা সম্ভব হয় না । আর এ সুজুগেই তারা তাকে আরো লোভনীয় সুজোগের কথা বলে । বলে খ্রিষ্টান হয়ে যাও , এ টাকা আর দেওয়া লাগবে না বরং তুমি মাসে মাসে আরও টাকা পাবে , বাচ্চাদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা সকল দায় ভার আজ থেকে আমরা নিব । আর এ লোভনীয় অফার পেয়ে গ্রামের অবহেলিত , নানা সমস্যায় জর্জরিত , দু বেলা দু মুঠো খেতে না পাওয়া লোকটি রাজি হয়ে যায় ।

সেবার নামে কি ঘটছে ল্যাম্ব হাসপাতালেঃ আপনারা হয়তো অনেকেই এ হাসপাতালের নাম অনেক আগেই শুনেছেন । আমি শুনেছি কিন্তু আগে দেখা হয় নাই । এবার নিজের চোখে দেখে আসলাম । গেটে গিয়ে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি পেতে অনেক কষ্ট হল । ভিতরে ঢুকলেই প্রথমেই আমার চোখে পড়ল Waiting Room । এ কক্ষে রয়েছে বড় আকৃতির টিভি । আর কোন রুগী আসলে রুগীকে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় । আর তার আত্মীয়স্বজনদের ঐ Waiting Room এ বসিয়ে টিভি দেখানো হয় । ঐ টিভিতে অনুষ্ঠান সূচি সব ঠিক করা থাকে । এ টিভিতে সকল ধর্ম বাদ দিয়ে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহনের বিশেষ তালিম দেওয়া হয় । সারা দিন ওখানে বসিয়ে টিভি দেখিয়ে নেওয়া হয় পাশেই থাকা Reading Room এ । এ কক্ষে আছে সকল ধর্ম গ্রন্থের সাথে বাইবেল । বাইবেলের মাধ্যমে যে মুসলিম তাকে বুঝানো পবিত্র কুড়ানে ভুল আছে , হিন্দুদের বুঝানো হয় গীতায় ভুল আছে ইত্যাদি ইত্যাদি । এভাবে তালিম চলতে থাকে । এতে কাজ না হলে রুগীকে এমন চিকিৎসা দেওয়া হয় যাতে সে খুব তারাতারি সুস্থ না হয় । এরপর যখন রুগী জিজ্ঞেস করে আমিতো ভাল হইতেছি না । তখন তাকে বলা হয় আপনি কার নামে ঔসদ খেয়েছেন , তখন বলে আমি আল্লাহর নামে খেয়েছি । আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওরা বলে এবার যীশুর নাম খেতে থাকেন । যীশুর নামে খাওয়া শুরু হলে ঐ রুগীকে সঠিক মাত্রায় ঔসদ দেওয়া হয় । আর এভাবেই ঈমানকে ধ্বংস করা হয় । ঐ হাসপাতালে রয়েছে ক্রুশ চিন্নিহিত স্থান । আর ঐ স্থানে প্রতিদিন একটি নিদ্রিস্ট সময় উপাসনা করে যীশুর কাছে রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করা করা হয় ।
এরকম আরো অনেক ঘটনা আছে , যা বলে শেষ করতে পারব না ।

**** খ্রিষ্টানদের পাশাপাশি আরও একটি দল এগিয়ে যাচ্ছে । আর তারা হল কাদিয়ানী । আমরা সবাই কম বেশি এই দলের নাম জানি । এরা আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) কে শেষ নবী মানতে রাজি না । আরও অনেক কাহিনী আছে এদের মধ্যে । আপনি অবাক হবেন এদের কার্যক্রম শুনে । এরা পুরো এলাকা জুরে কিনে নিচ্ছে । যদি কোথায়ও শুনে কেউ জমি বিক্রি করে । সাথে সাথে কিনে নেয় । যেই জমির দাম থাকে ১ক লক্ষ । তারা ঐ জমি কিনে দশ লক্ষ টাকা দিয়ে । অর্থাৎ যত টাকা লাগে । এরা পঞ্চগড়ের একটি গ্রামের নামই পরিবর্তন করে দিয়েছে । নাম দিছে আহমাদ নগর । তাদের প্লান তারা সারা দেশে তাদের মত করে হাসপাতাল , মাদরাসা , স্কুল , কলেজ নির্মাণ করবে এবং সেখানে ওদের মনগড়া ধর্ম শিক্ষা দিবে ।

এমত অবস্থায় আমাদের অনেক কিছু করনীয় আছে । আমরা যদি সবাই না এগিয়ে আসি আল্লাহ আমাদের ধরলে কারো রেহাই হবে না । আমি ওখানে মেহনত করনেওয়ালা ভাইদের সাথে আলোচনা করে জানতে পারলাম । যেসব ফাদার বাংলাদেশে মেহনত করতেছে তারা প্রায় সবাইই দেশের বাইরের । তারা তাদের ধর্মের জন্য জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত । দেশের বাহিরে থেকে এসে আপনার আমার ভাইয়ের ঈমান নষ্ট করতেছে । এভাবে চলতে থাকলে একসময় কি অবস্থা হবে একবার চিন্তা করে দেখার অনুরদ । এবার প্রশ্ন ভাই আপনাদের কাছে বিদেশের লোকেরা এসে আমাদের দেশের মুসলমানদের উপর মেহনত করে ঈমান ধ্বংস করতেছে আর আমরা যদি কিছু না করি তাহলে কে বাঁচতে পারবেন ? আমাদের কি কিছু করা উচিত কিনা ?

এবার আমাদের করনীয়ঃ
আলহামদুলিল্লাহ কেউ যে কাজ করতেছে না তা নয় , তবে তা সংখ্যায় খুবই কম । আল্লাহ্কে রাজি খুশি করার জন্য এবং মুসলমানদের ঈমান রক্ষা করার জন্য যে সকল কর্মসূচী তারা নিজেদের চেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছেনঃ

(১) উত্তর অঞ্চলের সকল মসজিদে মক্তব চালু করার চেষ্টা । আলহামদুলিল্লাহ ইতি পূর্বেই পঞ্চগড়ে ৪০ টি মক্তব চালু আছে । আর এ মক্তবে পড়ানোর জন্য যাদেরকে নির্বাচন করা হয় তারাও আলেম । তাদেরকে খুঁজে বের করা হয় । তাদের দায়িত্ব থাকে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া , এলাকায় দ্বীনের মেহনত করা , কে নতুন করে খ্রিষ্টান , কাদিয়ানী ইত্যাদি ভ্রান্ত আকিদায় জরিত হয়ে পরতেছে তাদের খোঁজ নিয়ে ওলামায়কেরামদের জানানো । খবর পেয়ে আবার ঐ সকল দ্বীনের দায়ীরা তাদের কাছে ছুটে যায় এবং বুঝাতে থাকে ।

(২) কিন্ডারগার্ডেনের মত মাদরাসা করা । এ মাদরাসায় দ্বীন শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া । যাতে কোমলমতি শিশুরা বাইবেলের শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়ে আল্লাহ তালার পবিত্র কুড়ানের শিক্ষায় শিক্ষিত হয় । ইতিপূর্বেই এর কার্যক্রম চালু হয়েছে ।
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×