নারীর শ্লীলতা কেড়ে নেওয়ার মাঝে কোন শ্রেষ্ঠত্ব বা বীরত্ব নেই রে বলদা।
বাঘ যদি একটি বিড়ালের সাথে পাঙ্গা নিয়ে জয়ী হয় তাতে যেমন কোন বিরত্ব নাই ঠিক তেমনি নারী পুরুষের ব্যাপারটাও সেইম টু সেইম।
যতোদিন এই নারী কে ভোগপন্য বানাবে,
যতদিন এই নারীর দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাবে,
যতদিন নারীকে একটু মাংশ পিন্ড ভাববে,
যতদিন এই নারীকে জৈবিক চাহিদা মেটানোর কারন মনে করবে,
ততদিন ঠিক ততদিন আমি বলছি মানুষ হতে পারোনি আর পারবেও না অথবা মানুষ হতে পারলেও পুরুষ হতে পারোনি।
আচ্ছা প্রতিটা পুরুষ বুকে হাত রেখে বলতে পারবেন???
নারী ছাড়া একটি দিনও আপনি চলতে পারেন???
কি পারেন কেউ??
এই নারীই আপনার মা,
নারীই আপনার বোন,
নারীই আপনার বান্ধবী,
নারীই আপনার প্রেয়সী
কিংবা নারীই আপনার বউ।
সারাদিন কাজের শেষে ঠিকই আপনি মায়ের কাছে ফিরে যান,
সারাদিনের হাজার কাজের ফাঁকেও ঐ বোনই আপনার শার্টটাকে হ্যাঙ্গারে সুন্দর করে ঝুলিয়ে রাখে,
হয়ত আপনার ঐ বান্ধবীটিই আপনার কোন ভালো কাজের সহোযোগী,
শত যন্ত্রনার মাঝেও ঐ প্রেয়সীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে তৃপ্তিতে চোখ বুঁজেন,
হাজার ক্লান্তির মাঝেও ঐ ঘরের বউয়ের বুকে মাথা গুঁজে সুখের শ্বাসটি টানেন।
তবে.........তবে কেন সেই নারীকেই এতটা লাঞ্চিত হতে হয় পথে ঘাটে????
একবারও কি আপনার বিবেক কামড় দেয় না??
সেই মেয়েটির অবস্থা যদি আপনার মা,বোন বা বউ কারো হয় তাহলে??
মা,বোন কে নিয়ে রাস্তায় বের হলেন,
দেখা গেলো কিছু লোলুপ চোখ আপনার মা,বোনের দিকে তাকাচ্ছে।
আপনার কি খুব ভালো লাগবে তখন???
প্রশ্নটা একবার নিজের বিবেককে করুন তো........।।
যেই সন্মানটুকু আপনি কেড়ে নিচ্ছেন হাজার চেষ্টা করলেও কি তা আর তাকে আপনি ফেরত এনে দিতে পারবেন???
যদি না পারেন তবে যেটা পারবেন না সেটা নিবেন কেন????
→নারীকে সন্মান দিতে শিখুন নিতে নয়←
মনে রাখবেন:
[]নারীর অলংকার স্বর্ন তেমনি পুরুষের অলংকার এই নারী[]
নিজের অলংকার নিজেরাই নষ্ট করছেন কেন??
কেন করছেন নষ্ট???
আমি উপরে একবার বলেছিলাম যেঃ
"নারীর অলংকার হচ্ছে স্বর্ন আর পুরুষের অলংকার হচ্ছে নারী"
হুম্মম আসুন এবার আলোচনায়।
ধরুন ঘরে বা এলাকায় ডাকাত আসলো,সেই খবর যদি কোন ভাবে নারীরা জানতে পারে তবে সেই ক্ষেত্রে নারীরা প্রথম কোন কাজটা করে জানেন???
হয়ত জানেন নয়ত জানেন না,
আমি বলছি শুনুনঃ সেই ক্ষেত্রে নারীরা সবার আগে তাদের স্বর্নালংকার লুকাবে গোপন কোথাও।
সে বাঁচবে কি মরবে সেই চিন্তা করার আগে সে চিন্তা করে আগে তার স্বর্নালংকার নিরাপদ করার কথা।
কি???
হাসছেন??
উহুহ হাসবেন না,
ওরা এই কাজটি করে কিন্তু আমাকে আপনাকেই একটা বিশাল শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।
আমরা কেউ তা নিচ্ছি কেউ তা নিচ্ছি না।
নেওয়া না নেওয়াটা আসলে যার যার মননশীলতার উপর নির্ভর।
যাইহোক,
উপরোক্ত ব্যাপারটা তে যেই শিক্ষাটা আছে আমাদের পুরুষদের জন্য তা হলোঃ
যেকোন অবস্থায় নিজের শোভাবর্ধন কারী বিষয়বস্তুর দিকে প্রায়োরিটি দিতে হবে বেশী।
স্বর্নালংকার উন্মুক্ত আছে নাকি সিন্দুক বন্ধী আছে,নারীরা যেমন এইটা বিচার না করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঠিক তেমনি আমাদেরও তাই করতে হবে অর্থাৎ মেয়েটি উলঙ্গ আছে না বোরখা পরা আছে তা না দেখে আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অনেকেই বলে থাকেন,
মেয়েদের পোষাক পরিচ্ছদ এর কথা।
আচ্ছা আমি যদি আপনাদের বলি যেঃ
আপনারা মেয়েদের রেপ করার জন্য পোষাকটাকে একটা কারন হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন জাস্ট আর কিছু না।
তাহলে????
কি উত্তর দিবেন??
আপনি আমাকে বলতে পারেন,
সৈকত ভাই আপনি কি তাহলে মেয়েদের পর্দা না করাকে সাপোর্ট করছেন??
-নাহহহ মোটেই না।
কিন্তু কথা হচ্ছে,
আপনি যে মেয়েদের ইসলামের রীতি অনুযায়ী পর্দা করতে বলছেন আপনি কতটা ইসলাম মানছেন???
কিছু প্রশ্ন তাদের কাছে যারা মেয়েদের পোশাককে রেপ এর অন্তরায় বিবেচনায় রেখে চিৎকার করছেনঃ
১/আপনি দাড়ি রেখেছেন তো??
২/আপনি নামাজ কায়েম করেন তো??
৩/আপনি টাখনুর উপরে প্যান্ট/পায়জামা পরিধান করেন তো???
৪/অশ্লীলতা দেখলে লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেন তো মানে আপনি আপনার চোখের পর্দা করেন তো???
কি?
অবাক হচ্ছেন??
ছেলেদের পর্দার কথা শুনে?
ভাই,
ইসলাম শুধু মেয়েদের পর্দা করতে বলে নাই ছেলেদেরও বলেছে।
উপরের চারটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনি আমার সামনে আসবেন নারীদের পোশাক নিয়ে কথা বলতে।
"নিজের পাছায় এক দলা পায়খানা নিয়া অন্যের পাছায় যান গন্ধ আছে কিনা শুঁকে দেখতে?"
লজ্জা করে না?
আশা করি,
নারীদের পর্দাকে আর কখনো রেপ এর অন্তরায় বিবেচনায় আনবেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


