somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মালয়শিয়ায় প্রবাস জীবন- পার্ট ২

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু কিছু সময় আসে যখন পাথর হৃদয়ের মানুষও টলে উঠে।

তেমনি একটা ঘটনাঃ

বাস্তবিক ভাবে আমি খুবই কঠিন চিত্তের মানুষ,কিন্তু গতকালকের একটি ঘটনা আমাকে সত্যিই ভয় পাইয়ে দিয়েছে।

রাত তখন প্রায় ৩টা,
কাজ শেষ করে এলাম মাত্র রুমে।
আমার সাথে কিছু তামিল থাকে।

কিছু বলতে মোট ওরা চারজন।

ওদের সবার নাম বলে নেই প্রথমে,

১ম জন- এলিল।
২য় জন-সগো।
৩য় জন-সুরেশ।
এবিং ৪র্থ জন-এপ্পোড়ো।

এই চারজনের মধ্যে এলিল ও সগো প্রত্যেকটা দিনই ড্রিংক্স করে।
সুরেশ খুব হ্যান্ডসাম ও ভালো মানুষ এসবের ধারে কাছেও যায় না।
বাকী থাকলো এপ্পোড়ো,
সহজ সরল ও পুরাই পাগল লোকটা।
খাওয়া দাওয়া ও ঘুম ছাড়া বাকী সারাটা দিন এই লোকটা দাড়িয়ে থেকেই পার করে।
দাড়ানো কোন সাধারন দাড়ানো না,বুকে হাত দিয়ে এক জায়গাতেই অনড় দাড়িয়ে থাকে।

যাইহোক,
আমরা ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় কাজ করলেও সবাই এক বসের আন্ডারেই কাজ করি।

এবার ঘটনায় আসা যাক,
কাজ শেষ করে আসার পথে বাসার নিচে দেখলাম এলিল ঢুলতেছে,
পেন্ট থেকে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়তেছে,পা এবং পেন্ট ভেজা।
বুঝলাম এখানে দাড়িয়েই প্রশ্রাব করেছে পেন্ট সমেত ভিজিয়েছে এবং নেশার ঘোরে নিজের প্রশ্রাবের মধ্যেই নিজে আছাড় খেয়েছে এবং কাপড় চোপড় ভেজা হওয়ার এটাই উপযুক্ত কারন।

কোন দিকে চোখ না দিয়ে আমি আমার মত বাসায় এসে পড়লাম।
বাঙালিতো আর না যে সাহায্য করতে যাবো আর শালাদের আমি এমনিতেই দেখতে পারিনা ওদের চরিত্রের জন্য নাহলে মানুষ হিসেবে সাহায্য করতে যেতাম।

বাসায় এসে আমি আমার বিছানাপত্র রেডী করে শুয়ে পড়লাম।
একটু পর দেখি এলিল নিচে থেকে উপরে রুমে উঠে এলো এবং ঐ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে পড়লো।

আমি আমার রুমে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফেইসবুকিং করছি।
কিছুক্ষন পর হঠাৎ নিচে থেকে চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শুনে ধড়পড়িয়ে উঠে জানালায় চোখ রেখে দেখি যে, নিচে সগো ও আরো একজন টানাহেচড়া করছে একে অন্যকে।
দুজনই নেশার ঘোরে আছে।

এসব দেখতেছিলাম আমি দোতালা থেকে আর ভাবিতেছিলাম হায়রে এই মুহূর্তে যদি পুলিশ আসে তাহলে কি যে হবে!!!!

এমন সময় দেখি,
বস আর বসের সাথে আরো দুজন এলো একজনের হাতে একটা মোটা বেল্টের মত কি যেন একটা আছে।

বেল্ট ওয়ালা লোকটা বেল্টটা নিয়ে দৌড়ে এলো সগোর দিকে এবং সপাং সপাং করে সগো কে কয়েক বাড়ি লাগালো।

আমি ভেবে পেলাম না এই মাইরের কারনটা!!
কারন শুধুমাত্র ড্রিংক্স করা বা সামান্য কোন ব্যাপারে তো বসও আসার কথা না আর এমন মারারও কথা না।

তাহলে.......?
ভেবে পেলাম না....

যাইহোক,
বস সহ বাকী তিনজনে মিলে লোকটাকে থামিয়ে সগো কে উপরে পাঠিয়ে দিলো।
সগো এসে তাদের রুমে ঢুকলো এবং প্রায় তার পিছে পিছেই বস ও বাকি তিনজন এসে ঢুকলো বাসায়।

সবাই উপরে এসেই সগো আর এলিল দের রুমে ঢুকেই দরজা লাগিয়ে দিয়ে বলতে গেলে সগো আর এলিল কে চোরের মত পেটালো।
হাতের কাছে কিছু না পেয়ে ঝারুর ডান্ডা দিয়ে পেটালো।

এদিকে আমার বিস্ময় বরাবর শুধু বাড়ছেই!!!

একটু পরেই বসের সাথে যেই দুজন ছিলো তাদের মধ্যে দ্বিতীয় জন এসে এপ্পোড়োর শরীর থেকে টেনে শালটা সরালো।

বলে রাখা ভালো যে,
এপ্পোড়ো ঘুমানোর সময় শাল দিয়ে মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত ঢেকে ঘুমায়।

শালটা সরানোর সাথে সাথেই আমার চোখে পড়লো এপ্পোড়োর মাথায় ব্যান্ডেজ।
অর্থাৎ এলিল আর সগো নেশা করে মাতাল হয়ে এপ্পোড়ো কে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
যার ফলশ্রুতিতে বসের আগমন ও এলিল আর সগোর চোরের মত এই মার খাওয়া।

বিস্ময় টা কাটলো কিন্তু তার জায়গায় দখল করলো ভয়।
আমি একা একজন বাঙালি আশে পাশে হারিকেন না হ্যাজাক বাত্তি দিয়ে খুজলেও দু'একজন বাঙালি পাওয়া যাবে না।
কোন দিন জানি ওরা আবার নেশার ঘোরে আমার উপর চড়াও হয় আল্লাহ মালুম।

গতকাল থেকে বাসায় থাকতে এবং বাসায় ফেরার কথা মনে আসলেই মনে শংকা জাগে না জানি বাসার কি অবস্থা আর গিয়ে যে কি দেখবো!!!!

এতদিনের প্রবাস জীবনে এতটা শংকিত আর কখনো হই নাই.........।।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×