somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতঃপর ভালোবাসা.......

০৯ ই মে, ২০১৫ রাত ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ দুইদিন অনুর কোন কিছুই ভালো লাগছে না,
উঠতে বসতে খেতে শুতে কোথাও ভালো লাগছে না।

গতকাল বিকেলের একটা ফোনই অনু'র এই পরিবর্তন এর কারন...

ফোনটি করেছিল অনু'র স্বামী নাহিদের বন্ধু হাবিব।

হাবিব সাহেব জানান যে,
নাহিদের অন্য একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে এবং সেই মেয়েটার সাথে দু'একদিন থেকে খুব বেশী মেলামেশা করতে দেখা যাচ্ছে।

বিবাহিত জীবনের দুই বছরের মাথায় এমন একটা কথা অনু কিভাবে বিশ্বাস করবে আর কিভাবে কি করবে বুঝতে পারছে না,
অনু কিছুতেই মানতে পারছে না,
নাহিদের অন্য একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে...

অনু ফোন করে হাবিব এর কাছে,

-হ্যালো ভাবি
-হুম হাবিব ভাই আপনার কাছে একটা হেল্প চাইবো??
-হুম বলুন ভাবি..
-আমি ওদের দুজনকে এক সাথে দেখতে চাই.. :-(
-আচ্ছা তাহলে আপনি একটা কাজ করেন,
আজ বিকেলে ওরা দেখা করবে আপনি চলে আসুন..
-আচ্ছা,
কোথায় দেখা করবে ওরা??
-আমি কনফার্ম হয়ে আপনাকে টেক্সট দেবো, ওকে??
-ওকে হাবিব ভাই ধন্যবাদ...

অতঃপর,
বিকেলে অনু রেডী হয়ে বের হলো নিজ স্বামীর গোপন অভিসারের সাক্ষী হতে...

নির্দিষ্ট জায়গায় এসে দাঁড়ালো অনু আড়াল নিয়ে..

কিছুক্ষন পরই দেখা গেলো ওদের দুজনকেই,
এদিকেই আসছে,
মেয়েটির কাঁধে নাহিদের হাত..

অনুর ছোট বুকটা তোলপাড় করে,দুচোখ ছল ছল করে উঠলো...

কিছুক্ষন দেখার পর অনু আর সহ্য করতে পারলো না,
এক প্রকার উড়ে গিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে এলো নাহিদকে ঐ মেয়েটির বুক থেকে..

বাসায় এনে,
যেই নাহিদকে বকতে যাবে অমনি নাহিদ মুখের উপর জানিয়ে দিলো,

একটি কথাও বলবা না,
একটা দিনও তুমি আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও নাই,
আমার উঠতে গেলে দোষ বসতে গেলে দোষ আমার শুইতে গেলে দোষ।
আমার সর্বত্রই দোষ..

আমারে ছাড়না কেন??
আমারে ছাড় আমি একটু শান্তিতে থাকি।
ডিভোর্স দাও আমাকে...

অনু একধম চুপ হয়ে যায়..
ধীরে ধীরে বাথরুমে গিয়ে নিরবে কিছুক্ষন কাঁদে।

অনু সব সময় নাহিদকে তার কিছু বদ অভ্যাসের জন্য বকা ঝকা করতো যা নাহিদ মেনে নিতে পারতো না।

আজ সম্পর্কটা ছাড়াছাড়ির পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে..

অনু নাহিদ কে পুনরায় জিজ্ঞেস করে,
-তুমি কি সত্যিই ডিভোর্স চাও??
-হুম চাই..
-শিউর???
-হুম শিউর..

তারপর অনু হাবিবের মাধ্যমে ঐ মেয়েটির নাম্বার জোগাড় করে এবং মেয়েটির সাথে দেখা করতে চায়..

-আমাকে এখানে ডেকেছেন কেন?? মেয়েটি বলে।
-আমি আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই প্লিজ একটু সময় দিন.. অনু বলে।
-বলুন....
-জানেন আমার পৃথিবীটা এক নাহিদকে ঘিরেই ছিলো,প্রথম প্রথম আমি মেনে নিতে পারতাম না ওকে কারন ওর কোন কিছুই আমার সাথে মিলতো না।
কিন্তু ধীরে ধীরে আমি ওর সেই অনিয়ম গুলোকেই ভালোবাসতে শুরু করলাম এবং এক সময় ভালোবেসেও ফেললাম।
আমি তাকে শাসন করার মাঝে আমার ভালবাসাকে খুঁজে নিতাম কিন্তু কখনো ভাবি নাই আমার সেই শাসন আমার সংসার ভাঙ্গার কারন হয়ে দাঁড়াবে।
আমি সব জেনেছি,
আপনারা দুজনেই দুজনকে ভালোবাসেন।
আপনার কাছে একটাই অনুরোধ করছি তা হলো,
তাকে সুখে রাখবেন।
জানেন ও রাতে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে,
আপনি কি শিষ বাজাতে পারেন??
শিষ বাজালে ওর নাক ডাকা বন্ধ হয়ে যায়..
ওর সব কিছুকে আমি এতটাই ভালোবেসেছিলাম যে রাতে ওর নাক ডাকার শব্দ না শুনলে এখন আমার ঘুমই আসে না অথচ আগে মেনে নিতেই পারতাম না।

এমন আরো অনেক কথা অনু মেয়েটিকে বলে সেখান থেকে চলে আসে।

তারপরেই নাহিদ যায় মেয়েটির সাথে দেখা করতে,

মেয়েটিকে যখন নাহিদ ভালোবাসার কথা বলতে যায় ঠিক তখনই মেয়েটি বলে,

-তুমি আর কখনো আমার কাছে আসবা না,
আমি অনুশোচনায় ভুগছি,
যেই মেয়েটার ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে সেই মেয়েটা আজ আমার কাছে ছুটে এসেছে শুধু এটা বলার জন্য যে আমি যেন তোমাকে সুখে রাখি,
তুমি নখ কাটতে পারো না কেটে দিতে হয়,
ক্ষুধা লাগলে সইতে পারো না পাগলামী শুরু করো এমন সব কথা আমাকে জানিয়ে গেলো,
যেন আমি সব ব্যাপারে তোমার খেয়াল রাখি।
তুমি যেন সুখে থাকো।

নাহিদ আর এক মুহুর্তও দেরী না করে সেখান থেকে চলে এলো,

বাসায় এসে দেখে অনু তৈরী হয়েই আছে চলে যাওয়ার জন্য,
নাহিদ কিছু না বলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে...

অনু এগিয়ে এলো,
-আমি চলে যাচ্ছি,
যাওয়ার আগে তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই..(কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে অনুর গলা)

তুমি হয়ত ভাবছো,
আমি তোমাকে অপছন্দ করি বা ঘৃনা করি তাই তোমার সাথে এমন করতাম আসলে কিন্তু তা না,
আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি..
অনেক ভালোবেসে ফেলেছি আমি তোমাকে,তোমার সব কিছুকে..

নাহিদ মাথা তুলে অনুর দিকে তাকায়,নাহিদেরও চোখ লাল হয়ে গেছে,চোখে পানি জমেছে..

আমি কখনো ভাবি নাই যে আমি তোমার সংসার করতে পারবো না আমার শাসন গুলোর জন্য বা আমাকে এই পর্যায়ে এসে দাঁড়াতে হবে।
ভালো থেকো,
চলে যাওয়ার আগে কি আমি একবার তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি??
(কান্নার দমকে অনুর কন্ঠ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না)

অতঃপর.......?????
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×