somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পয়গম্বর
জীবন হলো এক কাপ গরম চা আর একটি জ্বলন্ত সিগারেটের মতো। গরম চা এক সময় জুড়িয়ে যাবে, সিগারেটের তামাকও পুড়ে শেষ হয়ে যাবে।

আসামের অরণ্যে: পর্ব-২: কামাক্ষ্যা মন্দির দর্শন

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসামের অরণ্যে: পর্ব-১: গৌহাটি
আসামের অরণ্যে: পর্ব-৩: কাজীরাঙ্গা সাফারী পার্ক
আসামের অরণ্যে: পর্ব-৪: কারবি অংলং জেলার ডিফু হেডকোয়ার্টার
মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয়ে: পর্ব-৫: চেরাপুঞ্জী
মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয়ে: পর্ব-৬: শিলং শহরের আশেপাশে
ছবি ব্লগ: পর্ব-৭: গৌহাটীর কামাক্ষ্যা মন্দির
ছবি ব্লগ: পর্ব-৮: চেরাপুঞ্জি
আমার ভ্রমণ-কাহিনী ও ছবি ব্লগ গুলোর কালেকশন

২৮ আগস্ট, ২০১১, রবিবার।

সকাল ৯ টায় রুবুল দাস তার টাটা ইন্ডিকা গাড়ি নিয়ে হাজির। প্রায় একবছর পর দেখা হলো রুবুলের সাথে। ঠিক আগের মতোই আছে। অবশ্য খুশীর খবর হলো, এর মধ্যে সে এক ছেলের বাবা হয়েছে।

গৌহাটী শহরের জি.এস রোডে

আজকের মূল প্ল্যান হলো, বিখ্যাত কামাক্ষ্যা মন্দির দেখতে যাবো। তারপর ওখান থেকে বাকী প্ল্যান করা যাবে। জি.এস রোডের সোহাম শপিং মলের সামনে থেকে কামাক্ষ্যা মন্দির পর্যন্ত রুবুলের গাড়িতে প্রায় ৪০ মিনিট লেগে গেল। প্রচণ্ড গরমে সবাই অস্থির আমরা। এদিকে আবার রুবুলের গাড়ির এসি ঠিক মতো কাজ করছেনা। বেশ খানিকটা ধকল সয়ে পাহাড়ের উপরে কামাক্ষ্যা মন্দিরে বেলা সাড়ে দশটার দিকে পৌঁছে গেলাম।

কামাক্ষ্যা মন্দিরে ঢোকার শুরুতে

রবিবার ছুটির দিন বলেই মনে হয় আজ ভিড়টা অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। পায়ে পড়ে থাকা স্যাণ্ডেল একটা দোকানে রেখে তিনজন খালি পায়ে কামাক্ষ্যা মন্দিরের ভেতরে ঢুকে পড়লাম। অসম্ভব গরমে মন্দিরের ফোরে দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছেনা। তাই ছায়া খুঁজে নিয়ে ছবি তুলতে থাকলাম।

খালিপায়ে মূল মন্দিরের দিকে এগিয়ে চলেছি আমরা

এই সেই বিখ্যাত কামাক্ষ্যা মন্দির

কামরূপ জেলার কামাক্ষ্যা মন্দিরের ইতিহাস জানতে হলে ক্লিক করুন
মন্দির সম্পর্কে আরও তথ্য


মন্দির সীমানার ভেতরে তোলা ছবি

খুব কাছে থেকে কামাক্ষ্যা মন্দির

মন্দিরের গায়ের শৈল্পিক সৌন্দর্য

কামাক্ষ্যা মন্দির

অসম্ভব ভিড়ের কারণে মূল মন্দিরের ভেতরে ঢোকার সাহস আর করলামনা। রুবুলের পরামর্শে পাহাড়ের একটু নিচে নেমে গেলাম প্রায় শতবর্ষী বিশালাকায় কাছোয়া (কাছিম) দেখার জন্যে।


রুবুলের পাল্লায় পড়ে কাছোয়া দেখতে যাওয়া

ওই বৃদ্ধ লোকটি কাছিমের খাবার বিক্রি করছিল

মন্দির থেকে বের হচ্ছি

গাড়ি পার্কিং ফি ২০ রূপী পরিশোধ করে দুপুর একটায় মন্দির থেকে বের হয়ে ওখান থেকে সোজা ব্রক্ষপুত্র নদের পাড়ের শংকরদেব উদ্যানে ঢুকে পড়লাম। কিন্তু মারুফকে প্রশ্ন করলাম, "এখানে ঢোকাটা কি ঠিক হলো?" চারিদিকে কপোত-কপোতীরা প্রেম লীলায় ব্যাস্ত। এর মধ্যে আমরা ’'কাবাব মে হাড্ডি’' হয়ে গেলেতো সমস্যার কথা। রুবুল আবার আমাকে পরামর্শ দিল ক্যামেরা ব্যাগ থেকে না বের করার জন্যে। কারণ এতে করে প্রেমিক যুগলেরা ভয় পেয়ে পালিয়ে যেতে পারে। কি দরকার খামাকা ওদেরকে ভয় দেখিয়ে? মাঝে মাঝে নাকি সাংবাদিক লোকজন ক্যামেরা নিয়ে এখানে এসে প্রেমিক যুগলদের বিভিন্ন অপ্রস্তুত ছবি তুলে নিয়ে পত্রপত্রিকায় ছাপিয়ে দেয়। যাইহোক, রুবুলের পরামর্শ মোতাবেক কাজ করলাম। প্রেমিক-প্রেমিকাদের থেকে অনেক দূরে গিয়ে কিছু ছবি তুলে নিলাম শংকরদেব উদ্যান আর ব্রক্ষপুত্র নদের।

শংকরদেব উদ্যান-এর ভিতরে

শংকরদেব উদ্যান-এর পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্রক্ষ্মপুত্র

শংকরদেব উদ্যান থেকে আমরা গেলাম 'এসেল ওয়ার্ল্ড' ঘুরতে। এখানে সিস্টেম হলো, ২৭৫ রুপী দিয়ে টিকেট কেটে ঢুকলে সব রাইড ফ্রি। কিন্তু ক্ষুধার জ্বালায় আমরা সবাই তখন অস্থির। তাই এসেল ওয়ার্ল্ডে দেরী না করে রওনা দিলাম খাবার সন্ধানে। যাবার পথে শেভরোলে, ফক্সওয়াগন আর হোণ্ডা গাড়ির প্রধান শো-রুম দেখার পাশাপাশি দূর থেকে বালাজী মন্দিরও দেখে নিলাম।

এসেল ওয়ার্ল্ড

বালাজী মন্দির

গৌহাটীর হাইওয়েতে

রুবুলের গাড়ি থেকে তোলা ছবি

দুপুরে গৌহাটির জি.এস রোডের বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট ’'খরিকা’'তে খাঁটি অহমিয়া (অসমীয়া) খাবার সাদা ভাত, ইয়েলো ডাল, ব্ল্যাক ডাল, খার, সব্জি, ভেজ আনজা, পিটিকা, বরই মাছের চাটনী আর ক্ষীর খেলাম। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখছি, ’'খরিকা’' শব্দটি অহমীয়া। এর অর্থ বাঁশের বীজ, যা বাঁশ গাছের একদম নিচে পাওয়া যায়।

বিখ্যাত 'পণ্ডিতের পান দোকানে' পান খাচ্ছি আমরা

রুবুলের থেকে বিদায় নিয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় খানাপাড়া থেকে বাসে করে আমি আর মারুফ রওনা দিলাম ন’গাঁও এর উদ্দেশ্যে। মারুফের বাড়ি ’হোজাই’-তে হলেও কর্মসূত্রে সে ন’গাঁওতে থাকে। রাত ন’টা নাগাদ ন’গাঁও পৌঁছালাম আমি আর মারুফ। রাতের খাবার শেষ করে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লাম, কারণ কাল খুব ভোরে রওনা হবো 'কাজিরাঙ্গা সাফারি পার্ক' দেখার উদ্দেশ্যে।

আসামের অরণ্যে: পর্ব-১: গৌহাটি
আসামের অরণ্যে: পর্ব-৩: কাজীরাঙ্গা সাফারী পার্ক
আসামের অরণ্যে: পর্ব-৪: কারবি অংলং জেলার ডিফু হেডকোয়ার্টার
মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয়ে: পর্ব-৫: চেরাপুঞ্জী
মেঘপিয়নের দেশ মেঘালয়ে: পর্ব-৬: শিলং শহরের আশেপাশে
ছবি ব্লগ: পর্ব-৭: গৌহাটীর কামাক্ষ্যা মন্দির
ছবি ব্লগ: পর্ব-৮: চেরাপুঞ্জি
আমার ভ্রমণ-কাহিনী ও ছবি ব্লগ গুলোর কালেকশন
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৭:৫৭
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×