
আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মুসলমান পরিবারে বেড়ে ওঠা আহমেদ মোহামেদ -এর সাথে আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর পার্থক্য হলো, আহমেদের নতুন যন্ত্রপাতি তৈরির প্রতি ঝোঁক। তার বাসা ভর্তি বিভিন্ন কলকব্জা যেগুলো দিয়ে সে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র তৈরিতে সচেষ্ট থাকে।
গেল সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের মতো সেদিনও ১৪ বছরের ছোট্ট ছেলে আহমেদ স্কুলে গেল নিয়ম করে। সাথে করে নিয়ে গেল তার সদ্য তৈরি অ্যালার্ম ঘড়ি। খুবই স্বল্পমূল্যে তৈরি এই ঘড়িটি তৈরি করে আহমেদ খুবই উৎফুল্ল ছিল। তাই ক্লাসে যাবার পরেই সে তার শিক্ষককে ঘড়িটি দেখালো। কিন্তু বিধি বাম। শিক্ষক আহমেদের তৈরি সেই ঘড়িটি দেখে বললেন, এটি একটি বোমা'র মতো দেখতে এবং এই ধারনা শিক্ষকের মনে বদ্ধমূলভাবে প্রোথিত হলো যে, ১৪ বছরের ছোট ছেলে আহমেদ একটি 'হোক্স বোমা' বা নকল বোমা ক্লাসে নিয়ে এসেছে।
অতএব, আর দেরী না করে শিক্ষক মহোদয় দ্রুত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরভিন শহরের পুলিশ ডাকলেন। পুলিশ এলো, ঘড়ি দেখলো এবং ১৪ বছরের মুসলমান বালক আহমেদ মোহামেদকে অ্যারেস্ট করে সোজা থানায় ধরে নিয়ে গেল। তারপর চললো 'ইন্টেরোগেশন'। পুলিশ অফিসাররা যতই প্রশ্ন করে চললো, আহমেদের উত্তর একটাই, এই ঘড়িটা সে নিজে বানিয়েছে এবং এটির সাথে বোমা থাকার প্রশ্ন অবান্তর।

হাতকড়া পড়া অবস্থায় আহমেদ
এখন প্রশ্ন হলো, সুদােনের বংশোদ্ভূত আহমেদ মোহমেদ নামের মাত্র ১৪ বছরের ছেলেটি যদি মুসলমান না হয়ে অন্য কোন ধর্মাবলম্বী হতো, তাহলে কি তাকে এ ধরনের মানসিক বিড়ম্বনায় পড়তে হতো?
আজকে বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া এ ঘটনায় বিশ্বের মোড়ল আমেরিকার টেক্সাস পুলিশের এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় কি আবারও খোদ আমেরিকায় মুসলমানদের প্রতি 'রেসিজম' বিষয়টি নগ্নভাবে প্রকাশিত হলোনা?
আজ যদি মিডিয়ার কল্যাণে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত না হতো, তাহলে এই ছোট শিশুটিসহ তার পরিবারে যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে আসতো তার জন্য দায়ী কে হতো?
যদিও পরবর্তীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টুইটারে বলেছেন: "Cool clock, Ahmed. Want to bring it to the White House? We should inspire more kids like you to like science. It's what makes America great." view this link
ফেসবুকের সি.ই.ও জুকারবার্গ, নাসা'র বিজ্ঞানীসহ অনেকেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আহমেদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরভিন পুলিশ চীফ ল্যারি বয়েড এই ঘটনার ব্যাখ্যায় বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তারা আহমেদকে অ্যারেস্ট করেছেন এবং পুলিশ চীফ মুসলমান কমিউনিটির সাথে তাদের সহাবস্থান পুনর্ব্যাক্ত করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আসলেই কি পুলিশ চীফসহ আমেরিকান অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা মুসলমানদেরকে সহাবস্থানের চোখে দেখে?
সূত্র:
view this link
view this link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



